HealthNation

ডিজিটাল ভারত গড়ে তোলার লক্ষে এক পদক্ষেপ এগোলো ভারত, এবার স্বাস্থক্ষেত্রেও আসতে চলেছে ডিজিটাল পরিষেবা

দেশের প্রত্যেক নাগরিকদের জন্য থাকবে নির্দিষ্ট হেলথ আইডি। এবং সেই আইডি-ই হবে ওই রোগীর পরিচয়।

পল্লবী কুন্ডু : চিকিৎসা ক্ষেত্রে আর গাফিলতি নয়। এবার যাতে দেশের নাগরিকেরা সর্বদা সঠিক পরিষেবা পায় সেদিকেই নজর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। পাশাপাশি ডিজিটাল ভারত গড়ে তোলার লক্ষেও আরো এক পদক্ষেপ এগিয়ে গেলো ভারত। দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রের মত স্বাস্থ পরিষেবাকেও এবার আনতে চলেছে ডিজিটাল প্লাটফর্মে। দেশের প্রত্যেক নাগরিকদের জন্য থাকবে নির্দিষ্ট হেলথ আইডি। এবং সেই আইডি-ই হবে ওই রোগীর পরিচয়। ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা পরিচয়পত্র থাকবে। কী রোগ হয়েছে, বা সেই রোগী পূর্বে কোনো রোগে আক্রান্ত ছিল কিনা সমস্ত তথ্যই রেকর্ড করা হবে। যা নির্দিষ্ট ওই রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে দিয়েও এই পরিকল্পনাকে কিভাবে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে সেদিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি (এনএইচএ)। প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার হয়েও কাজ করেছে এই সংস্থা। এনএইচএ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের উদ্যোগেই ন্যাশনাল ডিজিটাল হেলথ ব্লুপ্রিন্ট চালু হবে। রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল রেকর্ড রাখা হবে। রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য জমা করে রাখার জন্য অ্যাপ বা ওয়েবসাইট তৈরি করা হবে। এই ডেটাবেসের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রোগী নিজেই করতে পারবে। সেখানে রোগী তার বর্তমান ও এবং পূর্বের সমস্ত শারীরিক অবস্থার কথা সেখানে উল্লেখ করতে পারবে এবং অবশ্যই রোগীর অনুমতি সাপেক্ষেই সেই তথ্য দেখতে পারবেন ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীরা। যা রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রটিকে আরো সহজ করে তুলতে পারবে।

তবে যে বিষয়টি নিয়ে মূলত দেশীয় নাগরিকদের অবগত হওয়া উচিত তে হল, এই আধুনিক পরিকল্পনার সুযোগ সুবিধা কি কি ? বা এর অংশীদারি হতে গেলে কি কি করণীয়। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবার চারটি মূল স্তম্ভ রয়েছে। প্রথমত, হেলথ আইডি বা রোগীর পরিচয়। এবার সেই আইডি শুধুমাত্র কোনো বড়ো হাসপাতালে যারা ভর্তি থাকবেন তাদের জন্য নয়। এই আইডি হবে সকল ভারতবাসীর জন্য। যে কোনও রাজ্যের যে কোনও হাসপাতাল, নার্সিংহোম, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্যাথোলজিক্যাল ল্যাবরেটরিতে এই আইডি দেখালে দ্রুত পরিষেবা পাওয়া যাবে। আরও একটা সুবিধা হল, একবার যখন আইডি তৈরি হবে তখন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে রোগীর যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য, রোগের ইতিহাস ইত্যাদিও ডেটাবেসে রেকর্ড হয়ে যাবে। চাইলে আধার নম্বরের মাধ্যমেও এই আইডি লিঙ্ক করা যাবে।

দ্বিতীয়ত যে বিষয়টি তা হলো, ডিজিডক্টর অর্থাৎ ডাক্তারদের জন্য বিশেষ আইডি। এই আইডি-তে ডাক্তারদের ডিজিটাল স্বাক্ষর থাকবে। প্রেসক্রিপশন লেখার সময় যেটা ব্যবহার করতে হবে। এই আইডি তৈরি হলে সেটা বাধ্যতামূলক হবে। কিন্তু ভারতে এখন ডাক্তারদের ডিজিটাল সইয়ের এখনো তেমনভাবে সু ব্যবস্থা তৈরী হয়নি। পাশাপাশি সেই ডাক্তাদের পরিচয় ও তাদের যাবতীয় জরুরি নথি রেকর্ড করা থাকবে ডেটাবেসে। তৃতীয়ত, হেলথ ফেসিলিটি আইডেন্টিফায়ার অর্থাৎ ডাক্তার ও রোগীর মতো প্রতি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা ডিজিটাল পরিচয়পত্র থাকবে। প্রতি রাজ্য বা শহরে হাসপাতাল, নার্সিংহোম বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পৃথক ইলেকট্রনিক আইডেন্টিফায়ার থাকবে। এর সুবিধা অনেক। প্রথমত সেই নির্দিষ্ট হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কী কী পরিষেবা পাওয়া যাবে তার রেকর্ড থাকবে। রোগী ভর্তির সময় যাতে কোনও সমস্যা না হয়। দ্বিতীয়, রোগী ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমস্ত লেনদেনের নথি রেকর্ড হয়ে থাকবে ডেটাবেসে।

সর্বশেষ এবং চতুর্থত হল, পার্সোনাল হেলথ রেকর্ড। জন্মের পর থেকে প্রতি রোগীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য রেকর্ড করা থাকবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। হেলথ আইডি-র সঙ্গে এর লিঙ্ক থাকবে। কী ধরনের রোগ আছে, অতীতে কী রোগ হয়েছিল, কোন কোন হাসপাতাল বা প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিত্‍সা হয়েছিল, অস্ত্রোপচার হয়েছিল কিনা বা হলেও তার বিস্তারিত রিপোর্ট, ল্যাবরেটরি টেস্টের রিপোর্ট ইত্যাদি খুঁটিনাটি তথ্য রেকর্ড করা থাকবে ডেটাবেসে। সব মিলিয়ে এতদিন ধরে চিকিৎসা ক্ষেত্রে নানান অভিযোগ এসেছে। কিন্তু এবার এই আধুনিকীকরণের মধ্যে দিয়ে একদিকে যেমন রোগীদের প্রতি গাফিলতি কমবে, চিকিৎসা ক্ষেত্রেও সুবিধা আসবে তেমনি স্বাস্থমন্ত্রকের ওপর দিয়ে নাগরিকদের অভিযোগও কমবে।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: