West Bengal

দিলীপ ঘোষকে ‘মত্ত ষাঁড়’ বলতে তৃণমূলকে ‘দুমুখো’ বলে আক্রমন শানলেন দিলীপ ঘোষ

কেউ কাউকে ছেড়ে বলছে না কথা, আক্রমন হানছে একে ওপরের উপর

দেবশ্রী কয়াল : বাংলার রাজনীতি এখন চরমে। আগামী ২১শের বিধানসভার ভোটের জন্যে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছে, সকলেই মরিয়া জিততে। যার জেরে প্রায়ই নানান বৈঠকে নানান নেতারা অন্যান্য দলের সমালোচনা করতে গিয়ে বা কোনো ব্যক্তির সমালোচনা করতে গিয়ে বলে ফেলেন বেশ কিছু সমালোচকর উক্তি। সম্প্রতি, বুধবার কাঁথির সভা থেকে তৃণমূল (TMCP)সাংসদ সৌগত রায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে (Dilip Ghosh)উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘দিলীপ ঘোষ একটা মত্ত ষাঁড়। রোজ সকালে হাঁটতে বেরিয়ে যাকে পারছে গুঁতিয়ে দিচ্ছে !’

আর এবারে তারই জবাব দিলেন দিলীপ ঘোষ। সাধারণত প্রতিদিন ইকোপার্কে প্রাতভ্রমনে যান দিলীপ ঘোষ। তবে আজ বড়দিনের দিন নিজের গন্তব্যস্থলে পরিবর্তন আনেন তিনি। এদিন জায়গা বদল করে, প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ তথা অধুনা বিজেপি নেত্রী জ্যোতির্ময়ী সিকদারকে নিয়ে সল্টলেক স্টেডিয়ামে হাঁটতে গিয়েছিলেন। আর মর্নিং ওয়াক শেষ করেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন দিলীপ ঘোষ।

এদিন মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলে ওঠেন, ‘তৃণমূল খালি বলছে, বিজেপির মুখ কই? আরে আমাদের ১০০টা মুখ আছে। তোমাদের তো একটাই মুখ। আর ওটাই এখন দুর্মুখ হয়ে গেছে। এখন তো আর কেউ বলছে না তৃণমূল দিদির পার্টি। সবাই বলছে পিসির পার্টি। তাহলে বুঝুন ঠ্যালা !’ অপরদিকে বাংলার শাসকদলের তরফে ধারাবাহিক ভাবে বলা হচ্ছে, গেরুয়া শিবিরের দল রবীন্দ্রনাথকে অপমান করছে। গতকাল বিশ্বভারতীর শতবর্ষ উদযাপনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তৃণমূল ভবনে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এদিনের ভাষণ আমাকে খুব অবাক করেছে। তিনি রবীন্দ্রনাথের মেজদা সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আগাগোড়া বড়দা বলে গেলেন।’ তিনি বলেন, ‘সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রীর নাম জ্ঞানদানন্দিনী। আর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জ্ঞাননন্দিনী।’

যার জেরে বর্তমান শাসক দল তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপি (BJP)এখন আর কিছু পাচ্ছে না বলে রবীন্দ্রনাথকে টেনে ধরে ভোটের বৈতরণী পার হতে চাইছে, বাংলায় আসার রণকৌশল বাঁধছে। যার সুর ধরে এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূল তো এত দিন রবীন্দ্রনাথের নামে দোকান চালিয়েছে আর ব্যবসা করে গেছে। কিন্তু বিজেপি তা করে না। বিজেপি মনিষীদের সম্মান দিতে জানে।’ এর সাথেই দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দেখুন না কী হয় ! কোথা দিয়ে ১০০টা আসন গলে যাবে বুঝতেই পারবেন না !’ অর্থাৎ দুই দলই এখন বাংলায় ক্ষমতায় আসার জন্যে মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং কেউই কাউকে ছেড়ে কোনো কথা বলছে না।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: