Nation

মেয়ের অস্ত্রোপচারের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়েও, যুদ্ধতে হেরে যান চিকিৎসক বাবা

২৩ সেপ্টেম্বর মেয়ের হাঁটুর অস্ত্রোপচার করেছিলেন তিনি। সে সময়ই কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মৃত্যু হয় সাত বছরের শিশুটির।

পল্লবী কুন্ডু : এই ভাবেই হয়তো বারংবার অমানবিকতার কাছে হার মানতে হয় মানবিকতাকে। একজন বাবা তার কন্যাকে নিজের সবটুকু দিয়ে বাঁচাতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক কিন্তু সেই বাবা যখনি নিজের ক্ষেত্রে হেরে যান তখন যে যে কটূক্তি সেই কন্যাহারা অসহায় বাবাকে শুনতে হয় তা সেই সময় তার কাছে অত্যন্ত অসহনীয় হয়ে ওঠে। নিশ্চই মনে হচ্ছে যে এই কথা গুলো কেন উঠছে ? পেশায় চিকিত্‍সক এক বাবা। তাই মেয়ের অপারেশনের দায়িত্ব নিজের হাতেই তুলে নিয়েছিলেন তিনি।

তবে সেই যুদ্ধ জিততে পারলেন না সেই চিকিৎসক বাবা।তার পরিণতি যে এমন ভয়াবহ হবে তা হয়ত কল্পনাও করেননি বছর পঁয়ত্রিশের অনুপ কৃষ্ণ।জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর মেয়ের হাঁটুর অস্ত্রোপচার করেছিলেন তিনি। সে সময়ই কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মৃত্যু হয় সাত বছরের শিশুটির। তাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও বাঁচানো যায়নি।এরপরই তার কপালে জুটেছিল লোকের গালমন্দ, কটূক্তি, নোংরা ভাষায় তীব্র আক্রমণ, ব্যঙ্গ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে।

মেয়ের মৃত্যুর জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় অসহায় বাবাকে। খুনি অপবাদ দিতেও পিছপা হননি এক একজন। এমনকি কেউ কেউ অনুপ’কে ‘অপরাধী’ও বলেছেন। আর এই অপমান তিনি মানতে পারেননি কিছুতেই।তাই নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এই চিকিত্‍সক। গত বৃহস্পতিবার কোল্লাম জেলার কাদাপ্পাকাড়াতে তাঁর বাড়ি থেকে দেহ উদ্ধার হয়।গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।মানুষটা না থাকলেও বাথরুমের স্যাঁতস্যাঁতে দেওয়ালে থেকে যায় তার লিখে যাওয়া ‘সরি’।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: