West Bengal

স্বামী জগবন্ধুবাবুর অভিযোগের ভিত্তিতেই স্ত্রীকে গ্রেফতার করলো পুলিশ

বেআইনি মদ বিক্রি করার অভিযোগে প্রায় ৪০ লিটার বাংলা মদ সহ জগবন্ধুবাবুর স্ত্রী মিনতি বিশ্বাসকে শুক্রবার রাতেই গ্রেফতার করে পুলিশ।

পল্লবী কুন্ডু : এবারের গল্পটা একটু আলাদা।পাড়ার ভিতরে অবৈধভাবে বাংলা মদের দোকান চালানোর অপরাধে নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো রকম সংকোচ না রেখে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান জগবন্ধু বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি।ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার বাসিন্দা জগবন্ধু বিশ্বাস। স্বামী জগবন্ধুবাবুর অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই ব্যক্তির স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এমনই উলোটপুরাণের সাক্ষী রইলেন বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া থানার মানুষ।স্থানীয় মানুষদের দাবি, পাড়ার ভিতরে বসেই মিনতিদেবী বেআইনিভাবে মদ বিক্রি করতেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নষ্ট হচ্ছিল পাড়ার পরিবেশ। বিভিন্ন রকমের দুষ্কৃতি এবং মাতালদের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছিল এলাকায়। প্রকাশ্যে গালিগালাজের ঘটনাও ঘটে একাধিকবার। সব মিলিয়ে মিনতি বিশ্বাসের উপর চটে ছিলেন এলাকার মানুষ।

বসিরহাটের হাড়োয়া থানার অন্তর্গত খাসবালান্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসাবাটি গ্রামের ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি বাংলা মদের ব্যবসা করতেন বছর ৫০এর মিনতি বিশ্বাস। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পাড়ার ভিতরে বসে দিনের পর দিন এরকম অন্যায় ব্যবসা চালানোর জেরে পাড়ার লোক রীতিমতো ক্ষিপ্ত হয়ে ছিলেন মিনতিদেবীর উপর।তবে সমস্ত বিষয় সামনে আসতে অন্যায়ের সাথে আর আপস করেননি তার স্বামী।বছর পঞ্চান্নর ওই ব্যক্তি এবং এলাকার মানুষের যৌথ অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে মিনতিদেবীর বাড়ি হানা দেয় পুলিশ। বেআইনি মদ বিক্রি করার অভিযোগে প্রায় ৪০ লিটার বাংলা মদ সহ জগবন্ধুবাবুর স্ত্রী মিনতি বিশ্বাসকে শুক্রবার রাতেই গ্রেফতার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে এদিন পুলিশসূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েক লিটার বেআইনি বাংলা মদ সহ মিনতি বিশ্বাস নামক ওই মহিলাকে শুক্রবার ১১ ই সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন, অর্থাত্‍ শনিবার ১২ই সেপ্টেম্বর তাকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হবে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছে হাড়োয়া থানার পুলিশ। পাশাপাশি এই বেআইনি মদচক্রের পিছনে আরও কারও কারও নাম জড়িয়ে আছে কী না সেসবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।নিজের স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও অন্যায়ের বিরোধিতা করেছেন তিনি।প্রাথমিক পর্যায়তে স্ত্রীকে বারণ করা সত্ত্বেও কোনো নিষেধ কানে তুলতেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন জগবন্ধু বিশ্বাস।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: