Culture

থিম সং গাইবেন দুই কোভিড যোদ্ধা,‘লড়াই’য়ের শক্তি দিচ্ছে কলকাতার এই পুজো

করোনা যোদ্ধাদের সম্মান জানাতে অভিনব উদ্যোগ গৌরীবেড়িয়া সর্বজনীনের

রাখী সিংহ : কেউ করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন, কেউ আবার প্রিয়জনকে হারিয়েছেন করোনায়। কিন্তু লড়াই থেমে থাকেনি। করোনাকে জয় করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন তাঁরা। করোনা পর্বে এবার এমন দুই মানুষই কলকাতার দুর্গাপুজো কমিটির লড়াইয়ের প্রতীক। উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো কমিটি গৌরীবেড়িয়া সর্বজনীনের থিম সংয়ের গলা মিলিয়েছেন করোনাজয়ী ও করোনাযোদ্ধা দুই সঙ্গীতশিল্পী। তাঁদের কণ্ঠ এবং সুরই পুজোমণ্ডপে লড়াইয়ের মন্ত্র শেখাবে পুজোপ্রেমী মানুষকে।

করোনা পর্বে দুর্গাপুজো নিয়ে আশা-আশঙ্কার দোলাচলে ছিলেন কলকাতার পুজো উদ্যোক্তারা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই বুকে বল পেয়েছেন পুজোওয়ালারা। শুরু হয়েছে এবার পুজো করার লড়াই। কিন্তু গৌরীবেড়িয়া সর্বজনীনের জন্য অনেক দিন আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে লড়াই। এবার তাদের পুজোর থিমের পোশাকি নামই হল লড়াই। করোনার জেরে বাজেট আগেই কাটছাঁট করতে হয়েছে। যে ভাবনা নিয়ে শুরুতে পরিকল্পনা হয়েছিল তখনও করোনার ছায়া পড়েনি দেশে। কিন্তু মারণ ভাইরাসের সংক্রমণের জেরে পাল্টেছে চিত্র। কিন্তু লড়াই থামাননি উদ্যোক্তারা। ঠিক করেন, করোনা যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সেই কারণেই এবার পুজোর থিম সং গাওয়ার জন্য করোনাজয়ী সঙ্গীতশিল্পী পল্লব বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবেদন করা হয়। সেইসঙ্গে করোনায় নিজের প্রিয়জনকে হারানো আরেক সঙ্গীতশিল্পী অম্লান চক্রবর্তীও যোগ্য সঙ্গত দেন। তবে গোটা উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন সাংবাদিক তথা আবহ সঙ্গীতের কম্পোজার প্রীতম দে।

গৌরীবেড়িয়া সর্বজনীনের তরফে উদ্যোক্তা মান্টা মিশ্র জানিয়েছেন, “এবারের দুর্গাপুজো একটা লড়াই। অতিমারী পরিস্থিতিতে পুজো করাই বড় চ্যালেঞ্জ। আর যাঁরা আমাদের থিম সং গেয়েছেন তাঁরাও মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাঁদের এবং সমস্ত করোনা যোদ্ধাদের সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যাঁরা রয়েছেন তাঁরাও পুজো কমিটির উদ্যোগে খুশি হবেন তা বলাই বাহুল্য।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: