West Bengal

পুজোর নিদানে মমতা বন্দোপাধ্যায়… ২০২০ দূর্গা পুজোর ভবিষ্যৎ কী ?

কেমন হবে পূজার প্রস্তুতি, কী হয় উচিত গাইডলাইন্স, কী বলছেন ক্লাবের কর্তারা ?

দেবশ্রী কয়াল : আর এক মাস ও বাকি নেই, ঢাকে কাঠি পড়তে। ইতিমধ্যেই পূজা পূজা গন্ধ ভাসছে। তবে করোনা আবহে মানুষ হয়ে আছেন খানিক ভীত। ইতিমধ্যেই ফোরাম ফর দুর্গোৎসব থেকে গাইডলাইন্স জারি করা হয়েছে। তবে আজ নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সকল ক্লাবের সদস্যদের সাথে বসবেন এবং খুব সম্ভবত আজ সরকারি ভাবে কোনো গাইডলাইন্স জারি করবেন।তবে এই গাইডলাইন্স নতুন কিছু পরিবর্তন আনা উচিত কী না কিংবা ক্লাবরা নতুন করে কোনো প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীকে দিতে চান কী না তা জানতেই আমরা চলে যাই বেশ কিছু ক্লাবের কাছে।

পুজোর নিদানে মমতা বন্দোপাধ্যায়… ২০২০ দুর্গা পুজোর ভবিষ্যৎ কী ?

আমরা প্রথমেই যাই বোসপুকুর শীতল মন্দিরের কাজল সরকারের কাছে। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ” বিগত প্রায় আড়াই মাস আগেই ফোরামের তরফ থেকে ২৭টি গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে। আর এটা আমরা করেছি প্যান্ডেমিক পরিস্থিতির মাঝেই। আর এখন তো পরিস্থিতি অনেকটাই কন্ট্রোল এসে গেছে তাই আশা করছি এই সময় মুখ্যমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা সকলের ভালোর জন্যেই। তিনি নিজেই একজন পূজা প্রেমী। তাই তাঁর সিদ্ধান্ত আমরা সকলেই মেনে চলবে। আর এই মুহূর্তে সংক্রমণ রুখতে যেটা সবথেকে বেশি প্রয়োজন তা হল, স্যানিটাইজিং গেট রাখতে হবে প্রত্যেকটি ক্লাবে, মাস্ক বাধ্যতামূলক করতে হবে সকলের জন্যে। স্ক্যানিং গান রাখতে হবে। আর সামাজিক দূরত্ব বিধির নিয়ম তো অবশ্যই মানতে হবে। আমাদের সকলকে মাথায় রাখতে হবে যাতে মানুষের প্রাণ না যায়, কেউ কোভিড আক্রান্ত না হন। “

হাতিবাগান সার্বজনীন এর শাশ্বত বোস এই নিয়ে বলেন, ” আমাদের যা বলার তা তো আগেই গাইডলাইন্স এর মাধ্যমে বলে দিয়েছি। আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী যা সিদ্ধান্তই নেবেই তা সকলের জন্যে ভালো হবে। তাঁর প্রতি আমাদের সকলের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আর যদি আমাদের পুজোর বাজেটের কথা বলি, তাহলে বলতে হবে, এই বছর আমরা ৪০% বাজেট কমিয়ে দিয়েছি। “

এরপর শিবমন্দির দুর্গোৎসব এর পার্থ ঘোষ এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ” এখন পরিস্থিতি অনেক পাল্টে গেছে। তবে হ্যাঁ এই পরিস্থিতিতে মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। আমাদেরকে এই রোগ থেকে নিস্তার পেতে হবে। আমরা খুবই অদ্ভুত পরিস্থিতিতে এখন রয়েছি। এটা তো একপ্রকার নিয়ম রক্ষক ভাবে পূজা বলা যেতে পারে। তাই এই পূজা হলে মানুষের মধ্যে হয়ত অনেকটা সসের সঞ্চার হবে। “

দমদম পার্ক তরুণ সংঘের পিনাকী বিশ্বাসকে যখন তাঁদের পূজা প্রস্তুতি এবং গাইডলাইন্স নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তিনি বলেন, ” একটুকু বলতে পারি, পূজাতে মানুষ বাড়ির বাইরে বের হবেন অবশ্যই। তাঁরা ঘরের মধ্যে থাকতে পারবেন না। তাই চাইব যাতে পূজা মন্ডপ গুলি তৃতীয়ার দিন থেকে যেন মন্ডপ খুলে দেওয়া হয়। অর্থাৎ যদি ঠাকুর দেখার দিন গুলি বাড়িয়ে দেওয়া হয় তাহলে মন্ডপে ভিড়টা কম হবে। এবং সামাজিক দূরত্ব বিধি নিয়ম বজায় রাখা সম্ভব হবে। কারন করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বিধি নিয়ম বজায় সবথেকে জরুরি। সেই ক্ষেত্রে আমরা মন্ডপের বাইরে একটি করে সার্কেল বানিয়ে রাখতে পারি। ফলে অনেকটা সুবিধা হবে আশা করছি। “

এরপর কুমারটুলি সার্বজনীন এর দেবাশীষ ভট্টাচার্যের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ” মুখ্যমন্ত্রী যা করবেন তা সবার ভালোর জন্যে করবেন। ওনার সিদ্ধান্ত আমরা সকলেই মেনে নেবো। আর যদি পূজার বাজেটের কথা বলতে হয় তাহলে বলব এবারের আমাদের পূজা হবে ১০ লক্ষের মধ্যে। তাই অন্য বারের তুলনায় আমাদের পূজা একটু ছোট ভাবেই হবে। “

নাকতলা উদয়ন সংঘের অর্জুন দাসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ” ফোরাম পক্ষ থেকে আগে থেকেই আবেদন করা হয়েছে। যদি নতুন ভাবে কিছু গাইডলাইন্স এ জারি করা হয় তাহলে তা সবার জন্যেই ভালো হবে। আমরা সবাই ইটা চেষ্টা করব যাতে সুস্থভাবে সম্পূর্ণ কাজটা করা যায়। যেহেতু এখন ট্রেন চলছে না, মেট্রোতেও কম সংখ্যক মানুষ উঠছে, তাই এবারে মনে করা হচ্ছে রাস্তায় চার চাকা ও দু চাকার ভিড়টা বেশি হবে। তাই আমরা স্থানীয় প্রশাসক, নেতাজীনগর থানার সাথে দফায় দফায় কথা বলছি। আমরা চাইছি বেশি করে পুলিশ পোস্টিং যাতে করা হয়।
আর বাজেট এর কথা যদি বলতে হয় তাহলে আমরা বাজেট কমিয়েছি। আমরা বেশিরভাগ বাজেট টাই আম্ফান ও কোভিড ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্যে দিয়েছি। সুন্দরবনে ৩০০ পরিবারকে ১ মাসের জন্যে খাবার দিয়েছি। পথ ভিখারি, ভবঘুরে দের জন্যে ৫০-৬০ দিনের জন্যে রান্না করা খাবার দিয়েছি। আর এবারে আমরা ছোট্ট করে থিম করেই পূজা করব। “

সবশেষে চেতলা অগ্রণীর সন্দীপ মুখার্জির সাথে কথা বললে, তিনি বলেন, ” একটা গাইডলাইন তো আমরা আগেই দিয়েছিলাম। তাই কোনটা কী ভালো হবে সেটা মুখ্যমন্ত্রী ভিকাল মতোই বুঝবেন। তিনি কলকাতার পূজা খুব ভালো করে জানেন এবং বোঝেনও। তাই তাঁর সিদ্ধান্ত যা হবে আমরা সবাই তা মানব। বাজেটের ক্ষেত্রে আমরা আম্ফান এবং কোভিড এ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের অনেকটা টাকা দিয়েছি। সেখানেই আমরা বেশিরভাগ বাজেটটা দিয়েছি। তাই পূজার বাজেট একটু কমিয়েছি। আর এবারের পূজা হবে থিম।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: