West Bengal

প্রতিটি মন্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষেধ হোক, পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

কিছুক্ষনের মধ্যেই হবে রায়ের ঘোষণা, কী হবে এবারের দুর্গা পূজায়

দেবশ্রী কয়াল : পূজা শুরুর অনেক আগেই গাইডলাইনে বলে দেওয়া হয়েছিল ভিড় সৃষ্টি যাতে না হয়, কিন্তু গতকাল ছুটির দিনে যেভাবে পূজা মন্ডপ গুলিতে মানুষের ঢল দেখা যায় তাতে আশঙ্কা বাড়ছে। দ্বিতীয়াতেই যদি এরূপ হয় তাহলে পঞ্চমী থেকে দশমী কি রূপ ধারণ করবে ! এমন হলে করোনা(Corona Virus) সংক্রমণ বিপুল হারে যে বেড়ে যাবে তাতে কোনো রকম সংশয় নেই। করোনা সংক্রমণে দুর্গাপূজা না হওয়ার জন্যে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ কলকতা হাইকোর্টে(Kolkata High Court) হবে সেই মামলার রায়দান। আর মাত্র কিছুক্ষনের অপেক্ষা, এই বিষয়ে আজ রায় দেন করবেন বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে আজ আদালতে মামলার রায় শুনানির আগেই পর্যবেক্ষণে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি। এই সংক্রমণের মধ্যে প্রতিটি পূজা মণ্ডপকেই কন্টেইনমেন্ট জোন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে সকল দর্শনার্থীদের মণ্ডপে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কথাও বলা হয়েছে আদালতের পর্যবেক্ষণে। এদিনের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্টের তরফে বলা হয়েছে, সরকারের তরফে যে গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে তাতে সদিচ্ছা থাকলেও তার বাস্তবায়ন কিন্তু হতে দেখা যাচ্ছে না। পুজোর আগেই ভিড় দেখে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এই ভিড় কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে তা নিয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ও মুখ্যসচিবের কাছে পরামর্শ চাইলেও তা আসেনি বলেই জানিয়েছেন বিচারপতি।

আজ নিজের পর্যবেক্ষণে বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রতিটি মণ্ডপকে কন্টেইনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হোক। তাহলে সেখানে ভিড় কম রাখার নির্দেশ দেওয়া যাবে। দর্শনার্থীদের মণ্ডপে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক। শুধুমাত্র তালিকায় যে সকল উদ্যোক্তাদের নাম থাকবে কেবল তাঁদেরই মণ্ডপে প্রবেশের অধিকার থাকবে। কারণ ২ থেকে ৩ লাখ লোকের ভিড় সামলাতে মাত্র ৩০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেটা কোনোভাবেই তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারের আরও বেশি সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল এই বিষয়ে। এই প্রশ্নের জবাবে রাজ্যের তরফে বলা হয়েছে, আরও পুলিশ বাড়ানো হবে।

এদিন দুর্গা পুজোর(Durga Puja) প্রসঙ্গে রাজ্যে স্কুল ছুটি ও মহারাষ্ট্রের গণপতি পুজোর প্রসঙ্গও নিজেদের পর্যবেক্ষণে নিয়ে এসেছেন বিচারপতি। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণে এই সময় স্কুল বন্ধ। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। তাহলে কী ভাবে রাজ্যে পুজোর জন্যে অনুমতি দেওয়া হল। এবছর মহারাষ্ট্রে গণপতি পুজোর জন্যে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাহলে রাজ্যে কী ভাবে এই পরিস্থিতিতে দুর্গা পুজোর জেনে অনুমতি দিয়ে দিল সেই প্রশ্নই তুলেছেন বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই এই মামলার রায় দান হবে। এখন দেখার বিষয় রায় দানে কী বলে হাইকোর্ট। কারন এইভাবে যদি ভিড় বাড়তে থাকে তাহলে তা মানুষের জন্যে খুবই ভয়ানক। রাজ্যে হাসপাতাল গুলিতে বেডের সংখ্যা তেমন নেই, তাই মহামারী দেখা দিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়বে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: