West Bengal

সংক্রমণের জেরে বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজ্য সরকার দুর্গা পুজোর অনুমতি দেয় কীভাবে ? ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

পূজা কমিটি গুলিকে কেন দেওয়া হল টাকা, যখন সকল কাজ পুলিশ করবে, রাজ্যকে প্রশ্ন আদালতের

দেবশ্রী কয়াল : করোনা সংক্রমণে পূজা হবে কী হবে না সেই নিয়ে প্রথম থেকেই দ্বন্দ্ব ছিল, এরপর আদালতে এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন সিআইটু নেতা সৌরভ দত্ত(Sourav Dutta)। আজ সেই মামলার রায় ছিল কলকাতা হাইকোর্টে(Kolkata High Court)। আর মামলার শুনানিতেই রোষের সম্মুখীন হতে হয় রাজ্য সরকারকে(State Government)। যেখানে সংক্রমণের জেরে এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ সেখানে কীভাবে রাজ্য সরকার দূর্গা পূজার(Durga Puja) জন্যে অনুমতি দিতে পারে ? আদালতে তীব্র ভর্ত্‍সনার শুরে রাজ্য সরকারকে প্রশ্ন করা হয়, ‘শুধু দুর্গাপুজোতেই কি অনুদান দেয় সরকার? নাকি অন্য উত্‍সবেও দেওয়া হয়? ঈদেও কি অনুদান দেওয়া হয়েছিল? যদিও আজ রায় শোনা যায়নি, এখনও স্থগিত রাখা হয়েছে রায়। আগামী শুক্রবার হবে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

ক্রমশ সংক্রমণ বেড়ে চলেছে রাজ্যে, পূজার পর সেই সংক্রমণ দ্বিগুন হরে বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় করছেন চিকিৎসকরাও। সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় নভেম্বরে যখন স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে রাজ্য সরকার, তখন দুর্গাপুজোর অনুমতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়(Mamata Banerjee) ! কেবল তাই নয়, প্রত্যেকটি পূজা কমিটি গুলিকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানও। কিন্তু সরকারি টাকায় কেন এই ‘হরির লুট’? সরকারি তাকে কোনোমতেই বিনোদন করা যায় না। কলকাতা হাইকোর্টের জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন সিটু নেতা সৌরভ দত্ত। বৃহস্পতিবার মামলাটি শুনানি হয় বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অরিজিত্‍ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে।

আজকের শুনানিতে রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, এবার দুর্গাপুজোতে কিছু নির্দিষ্ট গাইডলাইন বেধে দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই গাইড লাইনে পুজো করতে হলে মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক বলা হয়েছে। ক্লাবগুলিকে মাস্ক ও স্যানিটাউজার কেনার জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে। এরপর ডিভিশন বেঞ্চ থেকে পাল্টা মন্তব্য আসে, ‘সরকার নিজেই কেন্দ্রীয়ভাবে মাস্ক ও স্যানিটাউজার কিনতে পারত। সেক্ষেত্রে খরচও অনেকটাই কম পড়ত।’

এরপর জানতে চাওয়া হয়, ‘পুজোয় কি কি সুরক্ষা বিধি মেনে চলা হচ্ছে? পুজো মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ?’ উত্তরে সরকার পক্ষের আইনজীবী যখন বলেন, ‘এই বিষয়গুলি পুলিশ দেখবে’, তখন আদালতও পাল্টা প্রশ্ন করে, সবকাজ যদি পুলিশই করবে, তাহলে ক্লাবগুলিকে আলাদা করে টাকা দেওয়ার কী দরকার ছিল ?’এরপর পুজো অনুদান রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল ও মামলাকারী আইনজীবীকে আলোচনায় বসারও পরামর্শ দিয়েছে হাইকোর্ট।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: