West Bengal

করোনাতে কী হবে খাবার দোকানদার, বেলুন দোকানদারদের ? চিন্তায় তাঁদের মাথায় হাত !

কঠিন পরিস্থিতিতে অসহায়দের দিকে বাড়িয়ে দিতে হবে সাহায্যের হাত, কারন করোনা প্রভাব প্রকট

দেবশ্রী : করোনা আবহ হলে কী হবে, পুজো পুজো গন্ধ কিন্তু ইতিমধ্যেই ভাসতে শুরু করেছে। খানিক ভয়ের সাথে হলেও মানুষের মন রয়েছে মা দুর্গার আগমনের অপেক্ষায়। কারন আশা, প্রার্থনা একটাই, মা যেন এই অতি মহামারীকে দূর করে দেন। কারন তখনই পাওয়া যাবে স্বস্তির নিশ্বাস। একটি দূর্গা পূজার সাথে জড়িত থাকে প্রায় লক্ষ লক্ষ পরিবার। অনেকেতো কেবল বছরের ৩৬৫টি দিন অপেক্ষা করে থাকে পূজার এই কটি দিনের জন্যে। কারন তখনি হয় ব্যবসা। রাজ্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ কলকাতায় এসে ভিড় জমায় একটু লাভ করার জন্যে, একটু টাকা ইনকাম করার আশায়। একটি পূজা মন্ডপের বাইরে কিন্তু থাকে ভিন্ন ধরনের স্টল। ফাস্ট ফুড সেন্টার থেকে শুরু করে, আইসক্রিমের দোকান, বেলুন দোকান, সাজের দোকান, খেলনার দোকান, ফুচকা, ঘুগনীর দোকান আরও কত কিছুই না থাকে। কিন্তু করোনা প্রকোপে পড়েছে তাঁরা। চিন্তায় মাথায় পড়েছে হাত।

করোনা সংক্রমণ রুখতে এখনও বন্ধ রয়েছে লোকাল ট্রেন। পূজার আগে তা খুলবে কী না বা খুললেও কেমন পরিকল্পনা ও শর্তের সাথে চলবে তা এখনও সম্পূর্ণ অজানা মানুষের কাছে। আর এই পূজার সময় অনেক মানুষ অনেক ছোট ছোট দোকানদার, ব্যবসায়ীরা রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন কলকাতায় .কারন এই তিলোত্তমাতে সবথেকে বেশি মানুষের ঢল দেখা যায়। সকাল থেকে সারা রাত্রি ধরে মানুষের ঢল থাকে পূজা মন্ডপ গুলিতে। আর পূজার এই কটা দিনেই হয় একটু ভালো ভাবে ব্যবসা। কিন্তু এই করোনা পরিস্থিতিতে তাঁরা আসবেন কীভাবে, যদি ট্রেন না চালু হয় ? আর ট্রেন চালু হলেও তাঁরা আসবেন বা কোন সুরক্ষার সাথে ? যেরূপে করোনা তার বিস্তার ঘটিয়ে চলেছে সেখানে বাড়ি থেকে বের হওয়া কিন্তু রীতিমত আতঙ্কের বিষয়। বারবার কিন্তু বিশেষজ্ঞদের তরফ থেকে বলা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বিধি নিয়ম যেন অবশ্যই পালন করে চলা হয় না হলে কিন্তু বিপদ বেশি। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তাঁদের বাড়ি থেকে বের হওয়াটা কিন্তু বেশ চিন্তার। কারন তাঁদের পরিবারের সুরক্ষাও অনেকটা ভাবনার বিষয়। এদিকে চিন্তা রয়েছে সংসার চালানোর। কারন টাকা না আসলে যে দুবেলার খাবার জুটবে না। সব মিলিয়ে বেশ সঙ্কটেই কিন্তু রয়েছে এই পরিবার গুলি।

এই করোনা পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মানুষই কিন্তু বাড়ির বাইরের কোনো খাবার এখন কিনছেন না, বা বাড়ির বাইরে কিন্তু খাচ্ছেন না। বাড়ির বাইরে থেকে কোনো জিনিস ও কিন্তু তেমন কিনছেন না। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, করোনা পরিস্থিতিতে এই ছোট দোকানদার গুলি নিজের দোকান পূজা মন্ডপের বাইরে দিলেও আদেও তা অন্য বছরের ন্যায় বিক্রি হবে কী না সেই নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। তাই এত ঝুঁকি নিয়েও যখন তাঁরা আসবেন তখন যদি ঠিকমতো বিক্রিই না হয় তখন কোথায় যাবেন এঁরা ? কে বা কারা নেবেন তাঁদের দায়িত্ব ? সুতরাং তাঁদের পেটের চিন্তা যেমন তাঁদেরকেই করতে হবে তেমনই তাঁদের স্বাস্থ্যের কথাও কিন্তু তাঁদের নিজেদেরকেই ভাবতে হবে।

তাহলে কী হবে তাঁদের? যদিও কলকাতার বের কয়েকটা বড় ক্লাব জানিয়েছে, তাঁদের পূজা মন্ডপের বাইরে যে সকল দোকান গুলি বসবে তাঁরা কিন্তু বহু পুরানো দিনের সঙ্গী এই পূজার। সুতরাং তাঁদের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখবেন তাঁরাই। শুধু সেটুকুই না বাড়িয়ে দেবে সাহায্যের হাত। সত্যিই তো এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষকেই কিন্তু এগিয়ে আসতে হবে মানুষের সাহায্যের জন্যে। সবাই একসাথে থেকে, সকল নিয়ম মেনেই কিন্তু কাটাতে হবে এই দুঃসময়কে। করোনাকে হারিয়ে জিততেই হবে এই যুদ্ধে।

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: