Education Opinion

এবার স্কুল খোলা নিয়ে প্রস্তাব স্কুলশিক্ষা দফতরে

এদিন মাধ্যমিকের সময় পরিবর্তন সহ নভেম্বর থেকে ক্লাস শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয় স্কুলশিক্ষা দফতরে

পল্লবী কুন্ডু : বর্তমান সময়ে করোনার ভয়াল প্রভাব পড়েছে প্রতিটি ক্ষেত্রেই। বিশেষ ভাবে অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষামহল। তবে এবার ফের মাথা তুলে দাঁড়ানোর সময় এসে গেছে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় খোলা নিয়ে এদিন খবর মেলার পর এবার, মাধ্যমিক দিন পরিবর্তন সহ নভেম্বর থেকে ক্লাস শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয় স্কুলশিক্ষা দফতরে(Education Department)। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির বদলে জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হোক মাধ্যমিক পরীক্ষা। মাধ্যমিক শেষের ১০ দিন পর থেকে শুরু হোক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। মাধ্যমিকের সিলেবাস প্রসঙ্গে বলা হয়েছে সিলেবাস কাটছাঁট না করে, প্রথম ও দ্বিতীয় সামেটিভ থেকে ৮০ শতাংশ এবং তৃতীয় সামেটিভ থেকে ২০ শতাংশ প্রশ্ন করার কথাও প্রস্তাবে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, ওই প্রস্তাবে এও আবেদন রাখা হয়েছে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ বা ডিসেম্বর থেকে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য খুলে দেওয়া হোক। আগামী বছর যারা মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে, তাদের ক্লাস আগে শুরু করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর আগে সোমবারই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন শুরু, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার বিষয় নিয়ে দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের আগে স্কুলে আনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, যে প্রস্তাব এসেছে তা রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার। ‌ স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে যে, যে প্রস্তাব জমা পড়েছে তাতে স্কুল খোলার পর আগামী বছরের মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীদের ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্লাস করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া, এই সময় দ্বিতীয় সামেটিভের সিলেবাস পড়ানোর পাশাপাশি তৃতীয় সামেটিভ পড়ানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে টেস্ট নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক নিয়ে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক শেষের ১০ দিন পর উচ্চমাধ্যমিক শুরু করা হোক। সেক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিক হবে জুনের তৃতীয় সপ্তাহে। আগামী বছর যারা উচ্চমাধ্যমিক দেবে তাদের এখনও পর্যন্ত কোনও ক্লাসই হয়নি। ফলে এই পড়ুয়ারা যাতে ক্লাস করতে পারে, প্র‌্যাকটিক্যাল পরীক্ষা দিতে পারে, তাদের সেই সময় দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে প্রস্তাবে।

তবে ক্ষুদে-দের কি হবে সে বিষয় নিয়ে একটা চিন্তা থেকেই যায়। ওই প্রস্তাবে প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক নিয়ে বলা হয়েছে, প্রাথমিকের পড়ুয়াদের এখনই স্কুলে আসার দরকার নেই। তবে, যেহেতু মার্চ মাস থেকে এই খুদে পড়ুয়াদের সঙ্গে স্কুলের কোনও সম্পর্ক নেই, তাই স্কুলে আসার অভ্যেসটা ফের তৈরি করতে সপ্তাহে একদিন বা দুদিন ভাগাভাগি করে এদের স্কুলে আনা যেতে পারে। উচ্চপ্রাথমিকের পড়ুয়াদেরও প্রতিদিন স্কুলে আসার দরকার নেই। একেক দিন একেকটি ক্লাসের পড়ুয়াদের স্কুলে আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর এই প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করে নভেম্বরেই হয়তো শুরু হতে পারে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ক্লাস। তবে, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার।

তবে এই সবকিছুর মুলে রয়েছে পড়ুয়াদের সুরক্ষা। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে স্কুল চলবে, কীভাবে স্কুল চত্বর জীবাণুমুক্ত করা হবে তা নিয়েও গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: