Abhishek BanerjeeWest Bengal

যোগ্যতার তুলাদণ্ডে শুভেন্দু এগিয়ে অভিষেকের থেকে, আন্দোলনের হিসেবে জনতার অভিমত

রাজনৈতিক মহলে দক্ষতা এবং ক্ষমতার নিরিখে কে এগিয়ে শুভেন্দু নাকি অভিষেক ?

পল্লবী কুন্ডু : শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) মন্ত্রিত্ব ছাড়ার ঘোষণার পরেই কার্যত তোলপাড় গোটা রাজনৈতিক মহল। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তড়িঘড়ি একাধিক বৈঠকে সামিল হচ্ছেন দলের উচ্চপদস্থ নেতা, নেত্রী এবং কর্মীরা। তবে এবার জনতার নজরের তুলাদণ্ডের হিসেব কিন্তু বলছে অন্যকথা। যদি প্রশ্ন ওঠে রাজনৈতিক মহলে দক্ষতা এবং ক্ষমতার নিরিখে কে এগিয়ে শুভেন্দু নাকি অভিষেক (Abhishek Banerjee) ? তবে উত্তর উঠে আসছে আম জনতার কাছ থেকেই।

তবে তার আগে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক কি বলছে, শুভেন্দু অধিকারী একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও ১৫শ লোকসভার সদস্য। তিনি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে তমলুক লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত সাংসদ। তিনি একজন সাম্মানিক স্নাতক। তিনি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন রাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির অধিকারীর পুত্র। পাশাপাশি, কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক থাকাকালীন নন্দীগ্রামে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির অধীনে তিনি সরকারি রাসায়নিক শিল্পকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন এবং উক্ত অঞ্চলের অধিবাসীদের আন্দোলন সংগঠিত করে তোলেন। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম গণহত্যার পর তিনি তমলুক লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রভাবশালী সিপিআই (এম)-নেতা লক্ষ্মণ শেঠকে ১.৭৩ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয়যুক্ত হন তিনি।

এদিকে, ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী হলফনামা অনুসারে, সেই সময় শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তিনটি ফৌজদারি মামলা ছিল।এই তিনটির মধ্যে একটিতেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি। তারপরে তিনি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহন মন্ত্রী পদে ছিলেন।

শুভেন্দু অধিকারীর পরেই যদি নজর দেওয়া যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতুষ্পুত্র অভিষেক ব্যানার্জীর দিকে তবে তিনি হলেন দলের অন্যতম কনিষ্ঠ সদস্য।তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত ১৬শ লোকসভার সদস্য। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে উক্ত আসন থেকে নির্বাচিত হন। তিনি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের যুব শাখা সর্বভারতীয় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি।

পাশাপাশি তার শিক্ষাগত যোগত্যার দিকে তাকালে তিনি এম. পি. বিড়লা ফাউন্ডেশন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে পড়াশোনা করেন। নতুন দিল্লির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট থেকে বিবিএ পাস করার পর তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকেই এমবিএ করেন। তার স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় থাইল্যান্ডে জন্মেছেন। সে দেশেরই নাগরিক। তবে তার ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনমানস কার্ড (পিআইও কার্ড) রয়েছে।

২০১২ সালের জুলাই মাসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় তৃণমূল যুব-এর জাতীয় সভাপতি রূপে তার রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র (যা মূলত দক্ষিণ হুগলীর পূর্ব তট অঞ্চল নিয়ে গঠিত) থেকে প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-র ড. আবুল হাসনতকে পরাজিত করেন।এরই সাথে তাকে ‘১৬শ লোকসভার শিশু’ বলা হয়। কারণ তিনি উক্ত লোকসভার কনিষ্ঠতম সদস্য। ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে তিনি সর্বভারতীয় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি ঘোষিত হন। তাকে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস-এর ভবিষ্যৎ রূপে অভিহিত করা হয়।

তবে জনতার হিসেবে এগিয়ে কিন্তু শুভেন্দু-ই। সাধারণের জন্য একাধিক আন্দোলন, সর্বদা তাদের সাথ দেওয়া এবং পাশে থাকা। কিন্তু ঠিক তার বিপরীতে অভিষেক-এর থেকে অধিকাংশ সময়ই নিরাশ তারা। একাংশের দাবি, শুধুমাত্র পারিবারিক ভীত শক্ত হওয়ার খাতিরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ এই স্থানে। তাই জনগণের নজরে পাল্লা ভারী শুভেন্দুর-ই।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: