West Bengal

বিজেপি সভাপতির পরিবার এবার স্বাস্থ্যসাথীর লাইনে, পরখ করার জন্যই নাকি নেওয়া

আড়াই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কার্ড নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগ 'খুবই ভাল' বলে জানিয়েছেন

পৃথা কাঞ্জিলাল : স্বাস্থ্যসাথীর ছাতার তলায় এইবার গেরুয়ার ছোয়া! আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড নিলেন ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপির সভাপতি সুখময় শতপথীর পরিবারের সদস্যরা। শনিবার ঝাড়গ্রাম শহরে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডের জন্য ছবি তোলা হচ্ছিল। সেই সঙ্গে কার্ডও দেওয়া হচ্ছিল। সেখানেই লাইন দিয়ে কার্ড সংগ্রহ তাঁরা। আড়াই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কার্ড নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগ ‘খুবই ভাল’ বলে সম্বোধন ও করেছেন বিজেপির ঝাড়গ্রাম জেলা সভাপতির বোন অর্চনা শতপথী। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্য এসেছিলাম। কার্ড পেয়েছি, খুবই খুশি আমরা। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ খুবই ভাল লাগলো ।’

জানা যায়, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্য বাসস্ট্যান্ডে ছবি তোলা হচ্ছিল। সেখানে ছবি তোলার জন্য লম্বা লাইনও ছিল। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ছবি তোলার জন্য আসেন সুখময় শতপথীর বাবা, বছর পঁচাশির অবনী শতপথী, মা বছর পঁয়ষট্টির স্নেহলতা শতপথী ও বোন অর্চনা শতপথী। এমনকি তাঁর কাকা-কাকিমা, জেঠু-জেঠিমাও এসেছিলেন, তাঁরাও লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। দিনের শেষে সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ তাঁদের ছবি তোলা হয়। তার পরে তাঁরা হাতে হাতে কার্ডও পেয়ে যান। জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের উল্টো দিকে রয়েছে সুখময়বাবুর পৈতৃক বাড়ি। তবে সুখময়বাবু দীর্ঘদিন ধরে আলাদা ভাড়াবাড়িতে থাকেন।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫ ডিসেম্বর দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন তাঁর পরিবারের লোকজন। তবে এদিন ছবি তোলার জন্য বিজেপির জেলা সভাপতি ও তাঁর স্ত্রী এবং মেয়ের নাম ছিল। কিন্তু তাঁরা ছবি তোলার জন্য আসেননি। তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ছত্রধর মাহাতর কটাক্ষ, ‘বিজেপির জেলা সভাপতি বিভিন্ন জায়গায় মিটিং-এ স্বাস্থ্যসাথীর বিরোধীতা করছেন, অথচ তাঁর পরিবারের মানুষজন স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড লাইনে দাঁড়িয়ে নিচ্ছেন। অথচ বিজেপি মানুষকে মিথ্যা কথা বলছেন। এর অর্থ হল মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখা। স্বাস্থ্যসাথী নয় বাংলার সমস্ত পরিষেবাই কোনও রং না দেখেই করা হয়। এই প্রকল্প গণমুখী।’ বিজেপির জেলা সভাপতি সুখময় শতপথী নিজে এবিষয়ে বলেন, ‘রাজ্য সরকার টাকা খরচ করে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করছে। সে জন্য সত্যি সত্যি দেখতে চাই, এটা কী অবস্থায় আছে। আমার পরিবার যদি না নেয়, তাহলে আমি বুঝব কী করে? সেজন্য গিয়েছিল ওরা। আর চার মাস সময় রয়েছে। তার পর রাজ্যে এমনই আয়ুষ্মান ভারত চালু হয়ে যাবে।’ এ নিয়ে ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মুর বয়ানে ”সুখময়বাবু নিজেও কার্ড নিলে ভাল করতেন। তবে ওঁর পরিবারের সদস্যরা প্রমাণ করে দিয়েছেন, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নে আস্থাশীল।” সুখময় বলছেন, ”মাস চারেক পরে এ রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। তখন ওই কার্ড করাব।”

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: