Big Story

পাক চক্রান্তের পর্দা ফাঁস , জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ৫ জন

গণেশ চতুর্থীর দিনেই ভারতে জঙ্গি হামলার ছক করেছিল এই জঙ্গি দল

ইন্দ্রানী চক্রবর্ত্তী : দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সন্ত্রাস দমন শাখা। গণেশ চতুর্থীর দিনই হামলার ছক কষেছিল তাঁরা। উৎসবের মরসুম গোটা দেশ জুড়ে। এরই সুযোগ নিয়ে দেশে জঙ্গি হামলা হতে পারে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা যাচ্ছে ধৃত ৫ জন জঙ্গির বয়ানে। ধৃতদের বেশিরভাগই দিল্লী এবং লখনৌ এর বাসিন্দা। খোঁজ মিলেছে তাদের মূল মাথারও, আপাতত দুবাইতে গা ঢাকা দিয়ে আছেন তিনি।

তদন্তকারীদের কথা অনুযায়ী , পাকিস্তান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন ধৃত জঙ্গিরা। লখনৌ থেকে যাত্রা শুরু করে শেখ ওরফে সমীর ওসামা (২২), মূলচাঁদ (৪৭), মহম্মদ আবু বকর (২৩), জিশান কামার (২৮) ও মহম্মদ আমির জাভেদ (৩১) এই পাঁচ জন জঙ্গি মাসকটে পৌঁছায়। তারপর সমুদ্র ও স্থলপথ ধরে যায় পাকিস্তানে। সেখানকার গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর কাছ থেকে বিস্ফোরক তৈরি, অস্ত্র চালনার বিশেষ প্রশিক্ষণ নেয় তারা। এমনকি ‘ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস’ (আইইডি)-র ট্রেনিংও দেওয়া হয় তাদের। সামনেই দশেরা এবং দীপাবলীর মতো উৎসব যেখানে দেশের বহু সংখ্যক মানুষ যুক্ত থাকে। আর সেই সময় আইইডি বিস্ফোরণ ঘটনোর ষড়যন্ত্র করে এরা , ওসামা এবং জিশানকে পৃথকভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল আইএসআই। পাকিস্তানের স্লিপার সেলেরও সক্রিয় সদস্য ছিলেন এই জঙ্গিরা। পাশাপাশি বাংলাদেশী জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল মুজাহিদিনের যোগের আশঙ্কাও অবহেলা করছে না পুলিশ। অন্যদিকে দুবাই পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এদের মূল শাকরেদকে গ্রেপ্তার করার। ক্রমাগত জেরা করা হয়েছে ধৃতদের যেখান থেকে উঠে এসেছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য। এদের বয়ান অনুযায়ী , আগে দাউদ ইব্রাহিমের ডি-কোম্পানির হয়ে কাজ করত অনেকে । এই কোম্পানির অধীনেই অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচারের কাজে যুক্ত ছিল মূলচাঁদ ও সমীর । সেখান থেকেই তাদের বাছাই করে নেয় পাক আইএসআই গোষ্ঠী।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত অগাস্ট মাসে অমৃতসরে একটি গ্রামে একটি ড্রোনের মাধ্যমে ২ কেজি আরডিএক্স ফেলা হয়। ড্রোনটি আসে পাকিস্তান সীমান্তের দিক থেকে। পাঞ্জাব পুলিশ একটি টিফিন বোমাও উদ্ধার করে। এর সাথেই ছিল গ্রেনেড ও ১০০ পিস্তলের কার্টিজ। অদ্ভুত ভাবে , দিল্লিতে ধৃত জঙ্গিদের থেকে যে অস্ত্র পুলিশ উদ্ধার করেছিল তার সাথে ওই উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মিল পাওয়া যাচ্ছে। মহারাষ্ট্র এটিএস-এর জানিয়েছে , ভারতের বিভিন্ন জায়গায় উৎসব ও জমায়েতের সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালানোর চেষ্টায় তৎপর দাউদের একটি গোষ্ঠী। এই ধরণের হামলার মূল হচ্ছে ডি কোম্পানি। সূত্রের থেকে খবর, দাউদের ভাই আনিস ইব্রাহিম রয়েছে এর নেপথ্যে , মূল ছড়ি ঘোরাচ্ছেন তিনি ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: