Nation

যোগী রাজ্যে ফের গণধর্ষণ, বিফলে গেলো পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার ছক

গ্রেপ্তার বদায়ুন গণধর্ষণে মূল অভিযুক্ত পুরোহিত

মধুরিমা সেনগুপ্ত: উত্তরপ্রদেশ এমনিতেই দিন দিন কুখ্যাত হয়ে উঠছে মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়ে।এবারে আরও এক ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী থাকলো যোগীরাজ্য।উত্তরপ্রদেশের বদায়ুন গণধর্ষণ কাণ্ডের (Badaun rape-murder) মূল অভিযুক্ত মহন্ত সত্যনারায়ণের কীর্তি শুনে স্তম্ভিত গোটা দেশ।অভিযুক্ত পুরোহিত ধর্ষণ করার পর পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষে। রবিবার সন্ধেয় কুকীর্তি ঘটানোর পর সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকা থেকে পালিয়ে যাননি ওই পুরোহিত।একদম ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করেছিল, দিন কয়েক গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারলেই যখনই পরিস্থিতি একটু ঠিকঠাক হবে তখনই পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যাবে।কিন্তু তার সেই পরিকল্পনা ধূলিস্যাৎ হয়ে যায়। শেষরক্ষা হল না গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত সত্যনারায়ণের। গ্রাম ছাড়ার উদ্দেশ্য নিয়ে খোলস ছেড়ে বেরোনোর সাথে সাথেই তাকে ধরিয়ে দিল খোদ গ্রামবাসীরাই। পৈশাচিক সেই ঘটনার ঠিক চার দিনের মাথায় গ্রেপ্তার হল মূল অভিযুক্ত।

রবিবার বিকেল উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) বদায়ুনে ৫০ বছর বয়সি এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ ওঠে মন্দিরের পুরোহিত এবং তার দুই সাগরেদের বিরুদ্ধে। গণধর্ষণের পর মহিলার যৌনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে দেওয়া ও তার পাঁজর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। রবিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ স্থানীয় মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন বদায়ুন জেলার উঘইতি গ্রামের ওই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। সন্ধে পেরিয়ে রাত হয়ে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ তাকে বাড়ির দরজার সামনে ফেলে রেখেপালিয়ে যায় তিন অভিযুক্ত।মহিলার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে পরিবারকে তারা জানায় যে ওই মহিলা মন্দিরের পাশে শুকনো কুয়োয় পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযুক্তদের আচরণে সন্দেহ হয় নির্যাতিতার ছেলের। তখন সে অভিযোগ জানায় মন্দিরের পুরোহিত মহন্ত সত্যনারায়ণ (Mahant Satyanarayana) ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা মায়ের উপর অকথ্য অত্যাচার করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায় ধর্ষণের সময় মহিলার যৌনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। তারপরে ভারী পাথরের আঘাতে বুক ও পাঁজরের হাড়ও ভেঙে দেয় তারা। অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণেই নির্যাতিতার মৃত্যু হয় বলে জানা যাচ্ছে।ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের খুঁজছিল পুলিশ এবং তাদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু অতিচালাক সেই অপরাধীকে ধরা খুব সহজ ছিল না। পুলিশের গতিবিধির উপর নজর রাখতে চারদিন সে লুকিয়ে ছিল ঘটনাস্থলের কাছেই।

পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাতেই সে গ্রাম থেকে পালানোর ছক কষেছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই গ্রামবাসীরা তাকে ধরিয়ে দেয়। আরও জানা যাচ্ছে মূল অভিযুক্ত মহন্ত সত্যনারায়ণের আসল বাড়ি বদায়ুনে নয়, বালিয়ায়। প্রায় সাত বছর আগে বদায়ুনের ওই মন্দিরে পুরোহিত হিসেবে যোগ দেয় সে। সেখানেই তখন থেকে থাকত। তার অতীত কোনও অপরাধের রেকর্ড আছে কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: