Big Story

স্কুল-কলেজ খোলা নিয়ে জারি নির্দেশিকা

কড়া সতর্কতার সাথে খোলা যেতে পারে আবাসিক স্কুলগুলিও

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস: বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেই স্কুল-কলেজ খোলা নিয়েই জারি হলো বেশ কিছু নির্দেশিকা। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের স্কুল খুলবে তবে সকাল ও দুপুর দুভাগে ভাগ হয়ে হবে ক্লাস। একটি বেঞ্চে একজন করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বসবে এবং প্রত্যেকে নিজেদের বইখাতা, জল, খাবার নিজেরাই আনবে। স্কুলে বাইরের খাবার আনায় জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা, প্রত্যেককেই বাড়ির তৈরী খাবার আনতে হবে। আপাতত বন্ধ থাকবে মিড-ডে মিল ব্যবস্থা। শ্রেণীকক্ষে সবসময়ই একজন শিক্ষক-শিক্ষিকার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, এবং শ্রেণীকক্ষেই হবে সকালের প্রার্থনা। প্রত্যেকদিন গোটা স্কুল স্যানিটাইজেশন করা, স্কুলে পর্যাপ্ত মাস্ক ও স্যানিটাইজার রাখাও বাধ্যতামূলক। আপাতত অভিভাবকরা স্কুলে প্রবেশ করতে পারবেন না।

অন্যদিকে কলেজের ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম লাগু হতে পারে। তবে কলেজে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির হার নিয়ে তৈরী হয়েছে সংশয়। স্কুল-কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ। ছাত্রছাত্রীদের থার্মাল স্ক্যানিং করে প্রবেশ করতে হবে। ক্যাম্পাস জুড়ে থাকবে করোনা সচেতনতার পোস্টার। প্রতিটি স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাসে আইসোলেশন রুম রাখাও বাধ্যতামূলক।

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ প্রকাশিত 29/10/2021 এর বিজ্ঞপ্তি প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির বক্তব্য :

  • সমিতির পক্ষ থেকে এই বিজ্ঞপ্তিকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।
  • নবম-একাদশ এবং দশম-দ্বাদশ শ্রেণী দ্বয়ের জন্য বিদ্যালয় পঠন-পাঠন শুরু এবং শেষ হবার পৃথক সময় নির্ধারণ অভিনব এবং কোভিড অতিমারির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যথাযথ বলে সমিতি মনে করে।
  • কিন্তু এই বিজ্ঞপ্তির একটি বিশেষ প্রসঙ্গ সমিতির পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ুয়ারা বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠন-পাঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘরে বসে থেকেছে। তারপর এই দীর্ঘ অতিমারি পর্ব পেরিয়ে যখন বিদ্যায়তন শুরু হচ্ছে তখন একদম শুরুতেই সুদীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার বিদ্যালয় কার্যক্রম বজায় রাখা সম্ভব কিনা তাই নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। তার কারণ একটা ছাত্র বা ছাত্রী কে এই দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা + 30 মিনিট আগে রিপোর্টিং ধরলে মোট ছয় ঘন্টা মাস্ক পরিধান করে কোভিড প্রটোকল মেনে বিদ্যায়তনে ক্লাস করতে হবে। এই মুহূর্তে দীর্ঘদিন বিদ্যায়তন থেকে বিচ্ছিন্ন শিক্ষার্থীদের পক্ষে এটি অত্যন্ত কঠিন একটা কাজ। তারপরেও বাড়ি ফিরে পোশাক-পরিচ্ছদ সহ নিজেদেরকে পরিচ্ছন্ন করার কাজ করতে হবে। তাই সমিতির মনে হয়েছে অন্তত প্রথম একটা দুটো সপ্তাহ বিদ্যালয়ের সময় কাল সাড়ে পাঁচ/ছয় ঘণ্টার পরিবর্তে তিন ঘন্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হলে এই পরিবর্তিত ব্যবস্থার সঙ্গে শিক্ষার্থীরা সকলেই মানিয়ে নিতে পারবে। বিষয়টি প্রশাসনকে ভেবে দেখার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ রইল।
    সৌগত বসু
    সাধারণ সম্পাদক
    পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: