Nation

নিহত নির্যাতিতা মা ও ভাইয়ের বিস্ফোরক মন্তব্য, শুধু মৃত মেয়ের বিচার চায়

শেষ বারের জন্যে মুখ দেখতে দিল না মেয়েটার, নিয়ে চলে গেল সৎকার করতে, ওদিকে পরিবারকে প্রশাসন দেখাচ্ছে ভয়

দেবশ্রী কয়াল : দীর্ঘ ৪৮ ঘন্টার পর, অনেকবার আবেদন করে, সরকারকে চাপের মুখে ফেলার পরেই আজ সকালে হাথরসে নির্যাতিতার বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি মেলে সংবাদ মাধ্যমের। আর এদিন সংবাদ মাধ্যম পৌঁছানোর পরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যেরা। আর তার পরেই একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলে পরিবার। নির্যাতিতার ভাই এর মন্তব্য থেকে উঠে আসে আরও চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। নির্যাতিতার ভাই এদিন সংবাদ মাধ্যমের কাছে প্রশ্ন করেন, ” কী করেছিল আমার দিদি যে, তার উপর দু’দুবার অত্যাচার হলো? একবার করল ওই চার পাষণ্ড, আর দ্বিতীয়বার প্রশাসন ! “

এদিন গ্রামের বাড়িতে সকাল থেকেই মিডিয়ার ভিড়। ভিড় বেশি মা আর ভাইকে নিয়েই। মুখ ঢাকা অবস্থায় ভাইয়ের বিস্ফোরণ মন্তব্য, একবার ওরা নৃশংস অত্যাচার করে হাত-পা-জিভ কেটে ঘাড় ভেঙে দিল। এরপর হাসপাতালে মারা যাওয়ার পরেও বোনের দেহটা পর্যন্ত দেখতে দিল না। ওরা বলল, এত বীভত্‍স হয়েছে দেহ, কাটা-ছেঁড়া করা হয়েছে, কখনও পোস্টমর্টেম দেখেছেন কী, তাই দেখতে পারবেন না। কিন্তু কেন দেখতে দিল না, অন্তত মুখটাতো দেখতে দিতে পারতো ! ওইভাবে ঝোপ-ঝাড়ের মধ্যে স্যনিটাইজার ঢেলে, কেরোসিন ঢেলে গাছের ডাল-দিয়ে দাহ হয়েছে। আর কাকে দাহ করা হলো, জানি না, মুখতো দেখতেই পাইনি আমরা কেই। আমরা কী দোষ করেছিলাম, যে মৃত বোনের দেহ পর্যন্ত আমাদেরকে দেওয়া হলো না, এমনকি তাঁর মুখটা পর্যন্ত আমাদেরকে দেখতে দেওয়া হল না শেষ বারের জন্যে।

এদিন নিহত নির্যাতিতার মাও বললেন, কাকে পোড়াল তাও জানি না। আমার মেয়ে কিনা সেটাই তো এখনও জানি না। মেয়েকে শেষ দেখা দেখতে দিল না। আমার মেয়ে সবার খুব আদরের ছিল। হাসপাতালে বলেও ছিল, মা আমাকে বাড়ি নিয়ে চল ! তারপর এইভাবে মেয়েটাকে মেরে ফেলল ওরা। এখন জেলা শাসক এসে ভয় দেখিয়ে গিয়েছে, কোনো বয়ান না দেওয়ার জন্য। আর এই জেলা শাসকের কার্যত ফাঁসি চেয়েছেন নির্যাতিতার মা। বলেছেন, ” ক’টা দিন আমাদের জীবন ছারখার করে দিয়েছিল। আমাদের বাথরুম যাওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা ছিল। বাড়িতে সকলকে আটকে রেখেছিল, বাড়িতে কোনো খবর নেই, সবজি শেষ। কিন্তু কাউকে কোথাও যেতেই দিচ্ছে না। পাহারা দিয়ে রেখেছে সবাইকে। “

নির্যাতিতার মা আরও বলেন, আমাদের এই ক্ষতিপূরণ দেবে? আমাদের কিন্তু কোনো টাকা বা কিছুই চাই না, শুধু আমাদের মেয়েকে ফেরত দিয়ে দিক। আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দিন। আমাদের ইনসাফ চাই, আমাদের মেয়ের এই নির্মম মৃত্যুর কড়া শাস্তি চাই। আমাদের দাবির কথা পরে আসবে, আগে চাই এর বিচার। এই কদিন আমাদেরকে কারোর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছিল না। মোবাইল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল। বাড়ির ছাদে পুলিশ এর পাহারা বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ভয়ে আমরা ঘরের ভিতরে থাকতাম। পারলে আমাদের সঙ্গে বাথরুমেও যেত। ঘরে খাবার ফুরিয়ে গিয়েছিল, তবু বাইরে বেরতে দেওয়া হয়নি। আমরা না খেয়ে কার্যত কটা দিন কাটিয়েছি। প্রশাসন সুরক্ষা দিচ্ছিল না, আমাদের ভয় দেখিয়ে নজরবন্দি করে রেখেছিল। জেলা প্রশাসনকে বলেছিলাম, অন্তত একবার ঘরের দরজায় মেয়ের দেহ রাখা হোক। অন্তত একবার মুখটা দেখি। দেখে অন্তত একবার জেনে নিতে পারতাম ওটা আমার মেয়ে। ওরা আমাদের মেয়েকে শুধু ছিনিয়ে নিল তাই নয়, জীবনটাকেও শেষ করে দিল। আমরা বিচার চাই, অপরাধীদের শাস্তি চাই। “

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: