Nation

আদিত্যনাথের নিন্দা এবার উমা ভারতীর, হাসপাতাল থেকেই করলেন ট্যুইটের পর ট্যুইট

পরিবারের তরফে উঠছে অভিযোগের পর অভিযোগ, প্রশাসন নিরাপত্তার বদলে দেখাচ্ছে ভয়

দেবশ্রী কয়াল : উত্তরপ্রদেশের হাথরসের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন আজ সারা দেশের মানুষ। আর এবারে এই ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথ সরকারেরই সমালোচনা ও নিন্দা করলেন বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও প্রশাসন যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে উত্তরপ্রদেশ সরকার ও বিজেপির ভাবমূর্তিই খারাপ হয়েছে। যেভাবে নির্যাতিতার পরিবারকে পুলিশি প্রহরে আটকে রাখা হয়েছে, বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না, সেই পুলিশ পাহারা যাতে অবিলম্বে তুলে দেয় যোগী সরকার। ট্যুইটের মাধ্যমেই একথা বলেছেন বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী। অবশ্য এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্ত হয়ে উত্তরাখণ্ডের একটি হাসপাতালে রয়েছেন উমা ভারতী।

এছাড়া আজ সকালে টুইট্যারের মাধ্যমে যোগী আদিত্যনাথের কাছে উমা ভারতী অনুরোধ করে বলেন, যাতে সংবাদমাধ্যম, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিরোধী দল সবাইকে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়। যেরূপ তরুণীর দেহ পুড়িয়ে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ, সেই ঘটনার ও তীব্র নিন্দা করেছেন তিনি। হিন্দিতে টুইট করে উমা ভারতী এদিন বলেন, ‘একজন দলিত পরিবারের মেয়ে ছিল ও। পুলিশ ওর দেহ তাড়াতাড়ি করে পুড়িয়ে দিল আর এখন ওর পরিবার ও গোটা গ্রামকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম কিছু বলব না, কারণ আপনি (যোগী আদিত্যনাথ) নিশ্চয় এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। কিন্তু যেভাবে পুলিশ নির্যাতিতার পরিবার ও গোটা গ্রামকে ঘিরে রেখেছে, একপ্রকার তাদেরকে নজরদারির মধ্যে রেখেছে আর তাতে এটাই মনে হচ্ছে নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগই সত্যি।’

উমা ভারতী আরও বলেন, ‘আমি জানি না শুধুমাত্র স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম তদন্ত করছে বলে কোনও পরিবার কারও সঙ্গে কথা বলতে পারবে না, এমন কোনও নিয়ম আছে কিনা আদেও। এমন কাজ করে সিটের তদন্তের উপরেই সন্দেহ তোলা হচ্ছে। সম্প্রতি রামমন্দিরের শিলান্যাস করেছি আমরা। দাবি করেছি দেশে রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা করার জন্যে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এই আচরণে উত্তরপ্রদেশ সরকার ও বিজেপির ভাবমূর্তিই খারাপ হচ্ছে।’

এরপর যোগী আদিত্যনাথকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদনও করেন উমা ভারতী। তিনি বলেন, ‘আপনার ভাবমূর্তি খুবই পরিষ্কার। তাই আমি চাইব সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক নেতাদের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি আপনি দেবেন। আমার করোনা ভাইরাস না হলে আমিও ওই পরিবারের সঙ্গে বসে থাকতাম। আমি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে তাঁদের সঙ্গে দেখা করব। আমি আপনার বড় দিদির মতো। আমার আবেদন মেনে নেওয়ার অনুরোধ করছি আপনাকে।’

হাথরাসের ঘটনা নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল গোটা দেশ। অবশ্য ইতিমধ্যে সংবাদ মাধ্যমকে নির্যাতিতার পরিবারের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর তখনই পরিবার তরফে প্রশাসনের বিরুদ্ধে উঠছে একাধিক অভিযোগ। কাল থেকে এসআইটি-এর দোহাই দিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে কোনোমতেই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি, জানা যাচ্ছে কাল পুলিশ ছাড়া কোনো এসআইটি-র সদস্য নির্যাতিতার পরিবারের সাথে দেখা করতে আসেনি। অর্থাৎ প্রশ্ন উঠছে কী লুকিয়ে যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ এর সরকার ? কেন জনতাকে জবাব দিতে ব্যর্থ তারা ? কেন সংবাদ মাধ্যমকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি গত কয়েকদিন, কেন তাঁদের জবাবে চুপ করেছিল প্রশাসন !

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: