Nation

না জেনেই মৃত মায়ের পাশে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়তো ছেলে , এই ঘটনার সাক্ষী হায়দ্রাবাদ

৯ মার্চ সেই ডিগ্রির শংসাপত্র আনতে কর্নাটকের বেলগাভিতে যাওয়ার কথা ছিল

তিয়াসা মিত্র : মা ঘুমোচ্ছে ভাবে তাকে বিরক্ত না করে সকালে নিজের স্নান খাওয়া সেরে স্কুল চলে যেত ছেলেটি। বাড়ি এসেও দেখতে মা মাটিতে শুয়ে আছে। তাই তাতে বিরক্ত না করে মৃত মায়ের পাশে এসেই শুয়ে পড়তো বছর দশেকের ছেলেটি। এ ভাবে এক, দু’দিন, তিন দিন কেটে গিয়েছিল। মহিলাকে না দেখতে পেয়ে পড়শিরা ছেলেটিকে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘তোর মা কোথায় রে? দেখা যাচ্ছে না কেন?’ নির্লিপ্ত সুরে ছেলেটি তাঁদের প্রতি দিনই বলত, ‘মা ঘুমোচ্ছে।’ কিন্তু চতুর্থ দিনে মহিলার গা থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করায় ছেলেটি তার মামাকে ফোন করে। তাঁকে বলে, ‘মামা, মায়ের গায়ের থেকে কেমন যেন পচা গন্ধ বেরোচ্ছে!’

ছেলেটিকে তার মামা এর পর জিজ্ঞাসা করে, ‘তোর মা কোথায়?’ ছেলেটি বলে, ‘মা তো চার দিন ধরে মেঝেতে ঘুমোচ্ছে!’ ভাগ্নের কথা শুনে একটু সন্দেহ হওয়ায় সোজা চলে আসেন বোনের বাড়িতে। ঘরে ঢুকতেই চমকে ওঠেন তিনি। মেঝেতে নিথর হয়ে পড়ে রয়েছেন তাঁর বোন। ঘরে কটূ গন্ধে ভরে গিয়েছিল। তিনি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি হায়দরাবাদের তিরুপতির। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত মহিলার নাম রাজ্যলক্ষ্মী।

পেশায় তিনি একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষিকা। তাঁর বছর দশেকের একটি ছেলে রয়েছে। নাম শ্যাম কিশোর। তিরুপতিতে ছেলেকে নিয়ে একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন রাজ্যলক্ষ্মী। কর্নাটকে পিএইচডি করছিলেন তিনি। সম্প্রতি সেই পড়া শেষ হয়েছে। ৯ মার্চ সেই ডিগ্রির শংসাপত্র আনতে কর্নাটকের বেলগাভিতে যাওয়ার কথা ছিল। সব ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি তাঁর ভাই দুর্গাপ্রসাদকেও জানিয়েছিলেন রাজ্যলক্ষ্মী। সেই সঙ্গে জানিয়েছিলেন গত কয়েক দিন ধরে মাথা যন্ত্রণায় ভুগছেন। কর্নাটক থেকে ফিরে চিকিৎসকের কাছে যাবেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন।

Show More

OpinionTimes

Bangla news online portal.

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: