Health

রোগীকে অসহযোগিতার ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপ স্বাস্থ কমিশনের, সঙ্কটের মুখে ডিসান

রোগী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিসান হাসপাতালকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করল রাজ্যের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন।

পল্লবী কুন্ডু : করোনা পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে একাধিক বেসরকারি হাসপাতালের আসল রূপ। রোগী চিকিৎসার বদলে যে তারা মূলত ব্যবসা চালাচ্ছে তা এবার সকলের কাছেই স্পষ্ট। তবে এবার সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে নড়ে-চড়ে বসেছে স্বাস্থ কমিশন। রোগী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিসান হাসপাতালকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করল রাজ্যের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন। সাথে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রোগীদের থেকে কোনও অগ্রিম নিতে পারবে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, এমনটাই জানিয়েছে স্বাস্থ কমিশন।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী কমিশনের জানিয়েছে, সেদিন তমলুকের বাসিন্দা লায়লা বিবিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়নি, তার অবস্থা সঙ্কটজনক ছিল এবং মৃত্যুর আগে পর্যন্ত হাসপাতাল পক্ষ থেকে কোনো পরিষেবা পান নি ওই রোগী। জানা গিয়েছে, মেদিনীপুরের তমলুকের বাসিন্দা ছিলেন ওই বৃদ্ধা। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তাঁর স্বামী। তাই চিকিত্‍সা করাতে কলকাতা এসেছিলেন দম্পতি। এখানে এসে মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধার স্বামীর। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃ্দ্ধাও। আশঙ্কাজনক অবস্থায় পার্ক সার্কাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয় তাঁকে। সেখানে তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হলে জানা যায়, তিনি আক্রান্ত। কিন্তু করোনা রোগীদের জন্য কোনও ব্যবস্থা ছিল না ওই হাসপাতালে। সেই কারণেই রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। সেই মতো ওই করোনা আক্রান্তকে কলকাতার ডিসান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

রোগীর মৃত্যুর পর পরিবারের অভিযোগ, ভরতির জন্য হাসপাতালের তরফে ৩ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু, সেই মুহূর্তে পুরো টাকা ছিল না তাঁদের কাছে। শেষে ২ লক্ষ ৮০ টাকা জমা দিয়েছিলেন তাঁরা। এই টালবাহানা শেষে দেখা যায় অ্যাম্বুল্যান্সেই মৃত্যু হয়েছে ওই বৃদ্ধার। হাসপাতালের দাবি ছিল, মৃত অবস্থাতেই ওই বৃদ্ধাকে আনা হয়েছিল। এদিন ডিসানের সেই দাবি উড়িয়ে দিল স্বাস্থ্য কমিশন।

গতকাল স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান প্রাক্তন বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে ডিসান হাসপাতালকে। বাকি ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে। এদিন মামলার শুনানিতে কমিশনের চেয়ারম্যান অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ডিসান হাসপাতালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুরুতর। আগেই হাসপাতালের লাইসেন্স সাসপেন্ড হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে সেখানে বেশকিছু জন মানুষ চিকিৎসাধীন থাকায় লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হলোনা।

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: