Analysis

করোনাসুর দমনে দুর্গতিনাশিনী কি সহায় হবেন : সংশয়ে কলকাতার পুজো কর্তারা

মা দুর্গার আগমনের বার্তায় করোনা বিপদ বিদায় নিক , বড় আকুতি মা দুর্গার কাছে। শেষের বছরের অভিজ্ঞতা ভালো নয় তার ওপর বিপর্যয়ের বিপদ বর্তমান। (পর্ব -১)

নিজস্ব সংবাদদাতা : ১০১ দিন বাকি পুজো আসতে , তবুও বায়না হয়নি ঠাকুর আসছে না ফোন পাড়ার ক্লাব থেকে বাড়ি পুজোর কর্তাদের। তাই মনটা ভারী শিল্পী শীষ চন্দ্র পালের পুত্রবধূ ও আলোক চন্দ্র পালের স্ত্রী কাজল পালের। কাজল দেবী বলেন অন্য বছর ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার ব্যবসা হয় আর তাই দিয়ে চলে সারা বছর , কিন্তু ২০২০ করোনো বিপদে সব শেষ। তবুও গত বছর কিছুটা কাজ করেছিলাম আর এই বছরতো কোন কিছুর হদিস পাচ্ছি না। তবুও আশারাখি রথের দিন যদি কিছু হয়।

দক্ষিণ কলকাতার পুজোর নামি দামি উদ্যোক্তাদের অন্যতম পার্থ ঘোষ বললেন , ” আমরা এখনও ঠাকুর বায়না দিতে পারিনি , থিম এর পরিকল্পনা থাকলেও সেটা ছোট করে। তবে অন্য বারের বাজেট যে পরিমানে থাকে এবার তার ধারে কাছে যাবে না। নিজেরা কুড়িয়ে বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে আয়োজন করতে হবে , তার ওপর আমাদের মন খুব খারাপ কারণ পুজোর সঙ্গে থাকতেন কমবেশি ১৩ জন মারা গেছেন আমাদের পাড়ায় । বাজারে ব্যবসা হচ্ছে না , কোন বিজ্ঞাপন পাবো কিনা জানি না। আমাদের পুজো উদ্যোগটা আনন্দের কিন্তু আর এই পুজো ঘিরে যাদের রোজগার জড়িয়ে আছে তাদের কি হবে ? পার্থ বাবু বললেন অন্য সময়ে ১১০ দিন থেকে ৯০ দিন কাজ চলে পূজা প্রাঙ্গনে, আর এই কাজের সাথে যুক্ত থাকে ৫৫ থেকে ৬০ জন। এছাড়াও শিল্পীর সাথে যুক্ত থাকেন সারা বছর ১২ থেকে ১৫ জন কর্মী।

সন্তোষপুর লেকপল্লীর পুজো উদ্যোগতা সোমনাথ দাস বললেন ,কোন চিন্তা ভাবনাই শুরু করিনি। গত বছর কোন মতে ১৫- ১৬ লক্ষ টাকায় পুজোর আয়োজন করেছি , কিন্তু এবার কি হবে ভেবে পাচ্ছি না। সোমনাথ বলেন যে যে বার বিধান সভা নির্বাচন থাকে সেই বছর গুলোতে বাজার থেকে বিজ্ঞাপন পাওয়ার পরিমানটা অনেক কম , আবার তার ওপর দুবছর করোনা বিপদে বাজার শেষ। কোথায় পাবো বিজ্ঞাপন আর কে দেবে টাকা ? সব মিলিয়ে সোমনাথ আরো বলেন ” আমাদের পুজোর সাথে কমবেশি যুক্ত ১0 জন মারা গেছেন। সব মিলিয়ে মনটা ভার হয়ে যায় নিজেদের কাছের লোকগুলোকে শেষে বিদায় দিতে।এই তো সে দিন কলকাতার অন্যতম দুর্গাপুজো সংঘঠক রজত সেনগুপ্ত (৬৬ পল্লী ক্লাব ) কে শেষ বিদায় জানাতে হল, আর কত কান্না বয়ে এবার মাকে আনতে যাবো ? “

ফোরাম ফর দুর্গা পুজোর সভাপতি কাজল সরকার বললেন , কি করবো আর কি ভাবে করবো তাই ভেবে পাচ্ছি না। শিল্পী জোগাড় হলেও পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করতে পারছি না , কারণ করোনার তৃতীয় ঢেউ কোথায় ভাসিয়ে নিয়ে যাবে আমাদের তাই নিয়ে অস্থির। শেষের দুই বছরে ব্যবসা বাণিজ্য একদম শেষ , ব্যবসা না হলে বিজ্ঞাপন দেবে কেন ? আমরা কলকাতার বড় পুজোর সংঘঠক হলেও এবার এই বিপদ কে কি ভাবে সামাল দেবে সেটাই দেখার , তারপর কম বাজেটের পুজোগুলোর কি হবে ? সব মিলিয়ে অতল জলে দাঁড়িয়ে এবার দুর্গাকে বোধন করতে হবে।

সব মিলিয়ে কলকাতার কমবেশি ১৫০ পুজো উদ্যোগ যারা থিম পুজো করেন। একটা চলতি কথায় হিসেবে করে দেখা যায় যে , এই পুজো কে কেন্দ্র করে সব থেকে কম করে হলেও প্রতি প্যান্ডেলে গড়ে ৩০ জন কাজ করেন কম পক্ষে ৯০ দিন বেশি হলে ১৪০ দিন। এনারা মজুরি হিসেবে ৮০০ টাকা ( কাজ জানা কর্মী ) আর ৬০০ টাকা (কাজ না জানা কর্মী ), তাহলে একটু অঙ্ক করে দেখা যাচ্ছে গড়ে ৭০০ টাকা যদি রোজগার হয় ৭০০X ৩০= ১৮৯০০০ টাকা উপার্জন। এর ফলে সারা বছরের কলকাতার পুজোকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার মানুষ কাজ পান। যদিও বছরের অন্য সময় অন্য কাজের সাথে যুক্ত থাকলেও পুজোর রোজগারই এই পরিবার গুলোর কাছে বছরের মহার্ঘ্য। সব মিলিয়ে বলা যায় মা দুর্গা সহায় হউন নাতো আশানী সংকেত বড় সংশয় তৈরি করেছে সংগঠক থেকে শিল্পী ও সহ কর্মীবৃন্দের মধ্যে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: