Weather

সজোরে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় “গুলাব”

ইতিমধ্যে মাইকে প্রচার শুরু হয়ে গেছে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে , তৈরি ত্রাণ শিবিরও

সুচিস্মিতা ঘোষ : ধেয়ে আসছে ‘গুলাব’। এই ঘূর্ণিঝড় ওড়িশা ও অন্ধপ্রদেশে প্রভাব ফেলবে এমনটাই পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতর সূত্রে। তবে দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে এ রাজ্যের উপকূলেও। উপকূলবর্তী দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে রাখছে প্রশাসন। ওড়িশা লাগোয়া পশ্চিম মেদিনীপুরের ব্লকগুলিতেও জারি হয়েছে সতর্কতা ।


শনিবার সকাল থেকেই দিঘা, মন্দারমণি-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের গোটা উপকূলে আকাশের মুখ ছিল ভার। দুপুরের দিকে মেঘ কেটে রোদের দেখা মিললেও সমুদ্র দিনভর অশান্ত ছিল। পর্যটকেরা যাতে সমুদ্রস্নানে না নামেন তা দেখার জন্য সৈকতে মোতায়েন করা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং পুলিশ। পুলিশের তরফ থেকে দিনভর মাইকে প্রচার চলেছে দিঘা, মন্দারমণি এবং তাজপুরে। মত্‍স্যজীবীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে তারা যেন দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যায়।

ইয়াসের পর বিপর্যস্থ এলাকা কিছুটা সামাল দিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। প্রশাসনও আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে । ব্লকে ব্লকে খোলা হবে কন্ট্রোল রুম। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি এদিন বিকেলে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন উপকূলবর্তী কাঁথি মহকুমার সাতটি ব্লকের প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা নিয়ে। রবিবার জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পৌঁছনোর কথা রামনগরে। তবে এখনও বাসিন্দাদের সরানো হয়নি। কিন্তু যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রস্তুতি সেরে রাখছে প্রশাসন। এ দিন থেকেই বড় গাছের ডাল ছেঁটে ফেলা হচ্ছে বিদ্যুত্‍ বিপর্যয় রুখতে। রামনগরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরি বলেন, ”ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় যাবতীয় প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।”

দুই ২৪ পরগনায় দুর্বল বাঁধগুলি মেরামত করা হয়েছে। নিচু এলাকা থেকে মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরানোর ব্যবস্থা হচ্ছে। মত্‍স্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে এবং যাঁরা গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরানো হচ্ছে। ফ্লাড শেল্টার-সহ একাধিক স্কুল ভবনকে ত্রাণ শিবির হিসাবে তৈরি রাখা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক পি উলগানাথনও সব দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিদ্যুত্‍ দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে , বিদ্যুত্‍স্পৃষ্ট হয়ে যাতে প্রাণহানি না হয় সেই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে। সব ব্লক ও পঞ্চায়েতে পর্যাপ্ত পানীয় জল, চাল, ত্রিপল মজুত রাখতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ”পরিস্থিতির উপরে নজর রাখতে সব দফতরের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে ” বলে জেলাশাসক সূত্রে খবর।


ঘূর্ণিঝড়ের দাপট চালাবে ওড়িশা লাগোয়া পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর, দাঁতন ও কেশিয়াড়িতে। শনিবার থেকেই এই সব এলাকায় প্রশাসন মাইক প্রচার করে বাসিন্দাদের সতর্ক করছে। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে রবিবার ও সোমবার । সঙ্গে আশঙ্কা রয়েছে বজ্রপাতের । তাই অবিলম্ব্বে কাঁচা বাড়ি থেকে লোকজনকে সরতে বলা হয়েছে। প্রতিটি পঞ্চায়েতে ত্রাণ সামগ্রী মজুত। দাঁতন ১ ও কেশিয়াড়ি ব্লকের সুবর্ণরেখার তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনছে প্রশাসন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: