mamata banerjeeWest Bengal

স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ফেরালে হাসপাতাল কে দিতে হবে খেসারত, স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড থাকা রোগীকে ফেরালে লাইসেন্স নিয়ে সমস্যা হতে পারে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের। দুর্গাপুরের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পৃথা কাঞ্জিলাল : স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন এবং কমবেশি বহু লোক এ নথিভুক্ত করছেন প্রকল্পের জন্যে। তবে কড়া হাতে সামলাচ্ছেন দিদি এই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প, এবং যা শোনা গেলো মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে কারও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলে তিনি যেন কোনও ভাবেই চিকিত্‍সা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন। আজ, সোমবার সকালে রাণাঘাটের জনসভা থেকে এ বিষয়ে বার্তা দেন তিনি। আরো জানান, ২ কোটি মানুষ সরকারের নতুন প্রকল্প ‘দুয়ারে সরকার’-এ গেছে। নদিয়া থেকে ৯ লক্ষ মানুষ দুয়ারে সরকার শিবিরে এসেছেন। ৯০ শতাংশ মানুষ পরিষেবা পেয়ে গেছেন। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘অনেক বড় বড় হাসপাতাল আছে, যারা বলছে এখানে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড চলবে না, তাদের বলছি চালাতে হবে।’ রীতিমতো নির্দেশের সুরেই এ আদেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি উল্লেখ করেন, ‘জেলার ছোট ছোট নার্সিং হোমগুলো আছে, তাদের বলছি স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের পরিষেবা দিতে।’ এখানেই শেষ নয়। এই নির্দেশ যে কেবল মৌখিক নয়, তাও স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনে হাসপাতাল পেতে পারে কড়া শাস্তি তাও জানিয়ে দেন।

তাঁর কথায়, ‘মনে রাখবেন লাইসেন্স বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের আছে।’ এর পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষের উদ্যেশে বার্তা দেন, কোনও হাসপাতাল যদি সমস্যা করে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের নিয়ম-মোতাবেক পরিষেবা দিতে তবে তার বিরুদ্ধে যেন তাঁরা এফআইআর করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘আপনাদের বলছি, কেউ যদি (কোনও নার্সিংহোম) আপনাদের হেনস্থা করে, তা হলে একটা এফআইআর করবেন। বাকিটা সরকার দেখে নেবে।’ এমনিতেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পকে ২১শের লড়াইয়ের জন্যে এখন পাখির চোখ করেছে রাজ্য সরকার। দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পগুলিতেও দেখা গিয়েছে, সবচেয়ে বেশি মানুষ আসছেন স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা নিতেই। ফলে এই পরিস্থিতিতে পরিষেবায় যাতে কোনও খামতি না হয় সে ব্যাপারে সেটি দেখছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে লাইনে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়েছেন গত ৫ জানুয়ারি। নিজেকে ‘সাধারণ মানুষ’ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। তার পরে এই কার্ডকে যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের কড়া বার্তা সে কথাকেই স্পষ্টতর করল। দু’দিন আগেই সমস্ত জেলার জেলাশাসক, সিএমওএইচ, ডেপুটি সিএমওএইচ, হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছিলেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেখানে তিনিও বলেছিলেন, সরকারের কাছে যেন এমন অভিযোগ আর না আসে যে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রয়েছে অথচ নার্সিংহোমে পরিষেবা পাচ্ছেন না। তেমন হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব বিবেক কুমার জানান, এখনও পর্যন্ত ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড থাকা রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোট ৩,২৫০টি। মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসকদের বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে চার-পাঁচ মাস অন্তর এমন অভিযোগগুলি নিয়ে বৈঠকের নির্দেশ দেন। তিনি আরও বলেন, ‘‘হাসপাতাল তো বিনা পয়সায় চিকিৎসা করছে না। হাসপাতাল চালাতে গেলে মানবিক হতেই হবে। আগে দুঃস্থদের চিকিৎসার জন্য ‘কোটা’ ছিল। এখন সে সব উঠে গিয়েছে। তার উপরে ‘স্বাস্থ্যসাথী’র রোগীদের ফেরানোর অভিযোগ উঠছে। কারও ঔদ্ধত্য মানা হবে না।’’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: