Nation

রাজ্যসভা থেকে বহিস্কৃত ৮ সাংসদ, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে একাধিক

বিরোধীরা রাতভর সংসদে বসবেন ধর্নায়, খারিজ করতে করবে বহিষ্কৃতের সিদ্ধান্ত

দেবশ্রী কয়াল : এখন সংসদে চলছে বাদল অধিবেশন। কিন্তু এবার সেই বাদল অধিবেশন থেকে বাদ দেওয়া হল ৮ সাংসদকে। আর সেই নিয়েই বিরোধীরা দেখতে হুরু করেছে প্রতিবাদ। কিন্তু প্রতিবাদের জেরে কিছু কার্যকর হওয়ার আগেই আজকে সোমবার রাজ্যসভার মুলতুবি হয়ে যায়। অধিবেশন থেকে এই ৮ সাংসদকে বহিস্কার করার পিছনে রয়েছে গতকাল রাজ্য সভায় পাস হয়ে যাওয়া বহু বিতর্কিত কৃষি বিল আইন। এদিন রবিবার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, কৃষি বিল নিয়ে ভোটের সময় ডেপুটি চেয়ারম্যানের সঙ্গে অভব্য আচরণ করার অভিযোগে, সাংসদদের বহিষ্কারের জন্য মোশান এনেছিলেন।আর তারপরই ৮ সাংসদকে বহিষ্কার করা হয়, বাদল অধিবেশন থেকে।

এদিন চেয়ারম্যানের নির্দেশ এর পরেও বহিষ্কৃত সাংসদরা কক্ষ না ছাড়ায়, বার কয়েক অল্প কিছুক্ষণের জন্য মুলতুবি হওয়ার পর সোমবার সারা দিনের মত উচ্চ কক্ষের অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়। এদিকে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশের বিরুদ্ধে ১২টি বিরোধী দল অনাস্থা প্রস্তাবের জন্য নোটিশ দিয়েছে। তারা অভিযোগ তুলে বলেছেন, অধিবেশন মুলতুবি করার জন্য তাদের আর্জি ওভাররুল করেছেন হরিবংশ। চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নায়ডু মোশনটি খারিজ কর দেন।

আর এই পরিস্থিতির জেরেই বিরোধী সাংসদরা ঘোষণা করেছেন, তারা সংসদ ভবনে রাতভর ধর্ণায় বসবেন। অর্থাৎ আশঙ্কা করা হচ্ছে তাঁদের যদি বহিস্কৃত করার সিদ্ধান্ত বা যে মোশানটি নেওয়া হয়েছে তা যেন খারিজ না করা হয়, তাহলে এই বিষয়টি আরও দূর গড়াবে। গতকাল বাদল অধিবেশন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে সিপিআইএমের দুই সাংসদ কংগ্রেসের তিনজন, আম আদমি পার্টির একজন ও তৃণমূল কংগ্রেসের দু’জন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁরা সংসদ কক্ষের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি করেছিল। বিশেষ করে ডেপুটি চেয়ারম্যানের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন।

সোমবার রাজ‍্যসভায় আট সাংসদকে বরখাস্ত করার কথা ঘোষণা করেন উচ্চকক্ষের চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু। তিনি বলেন, “গতকাল যা হয়েছে তাতে আমি ব‍্যথিত। এটা সমস্ত যুক্তির বাইরে। রাজসভার কাছে এই দিনটি অত্যন্ত কালো দিন হিসেবে পরিচিত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, রাজ‍্যসভার সাংসদরা ওয়েলে নেমে কাগজ ছড়িয়েছেন, ডেপুটি চেয়ারম্যানের মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, এমনকি তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করেছেন। তাই অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য তাঁদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত বাদল অধিবেশন ১লা অক্টবর শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে কোভিড পরিস্থিতিতে তা ২৩ তারিখে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: