West Bengal

কৃষকদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কুমির কান্না কাঁদছেন বলে চিঠিতে তোপ রাজ্যপালের

কৃষিদের দুরাবস্থার জন্যে রাজ্য সরকারের অকর্মণ্যতাকে দায়ী করলেন জগদীপ ধনকর

দেবশ্রী কয়াল : ক্রমশ জলঘোলা হচ্ছে গত রবিবার পাস হয়ে যাওয়া কৃষি বিল নিয়ে। গতকাল নবান্নে এই কৃষি বিল নিয়ে কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। আর তার পরেই খানিক চিরাচরিতভাবে সংঘাত লাগে রাজ্য সরকার ও রাজ্যপালের মধ্যে। আজ মঙ্গলবার সকালেই মুখ্যমন্ত্রীর উপর পাল্টা তোপ দাগেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। তিনি বলেন, কুমিরের কান্না কাঁদলে কৃষকদের দুর্দশা ঘুচবে না। রাজ্যপালের এমন বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেছে সমালোচনা।

এদিন রাজ্যপাল অভিযোগ করে বলেন, রাজ্য সরকারের কারণেই প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির ৮৪ হাজার কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ৭০ লক্ষ কৃষক। নাহলে এতদিনে প্রত্যেক কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১২ হাজার টাকা করে জমা পড়ত। এদিন রাজ্যপাল মোট তিনটি ট্যুইট করেছেন। প্রথম টুইটে অ্যাটাচ করেছেন একটি চিঠি। সেখানে ডিয়ার চিফ মিনিস্টার বলে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের গড়িমসি ও অকর্মণ্যতার জন্য ৭০ লক্ষ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির সুবিধা পাননি। রাজ্য সরকার যদি যথাসময়ে উদ্যোগ নিত, তাহলে কৃষকদের জন্য আসত ৮৪ হাজার কোটি টাকা। প্রত্যেক কৃষক তা থেকে ১২ হাজার টাকা করে পেতেন।

এর পর রাজ্যপাল বলেন, এই প্রকল্পের পুরো খরচ বহন করে কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থাত্‍ এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে গেলে রাজ্য সরকারের ওপরে বাড়তি ব্যয়ভার চাপত না। এই প্রকল্পের ব্যাপারে গড়িমসি করার কোনও কারণই থাকতে পারে না। রাজ্যপাল চিঠিতে লিখেছেন, সারা দেশের কৃষকরা প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি থেকে সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কেবল পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা। কেবলমাত্র তাই নয় অন্যান্য প্রকল্পের সুবিধা থেকেও এরাজ্যের কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন, বলে মনে করছেন রাজ্যপাল।

রাজ্যপাল লেখেন, কোভিড অতিমহামারীতে কেন্দ্রীয় সরকার ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। রাজ্য সরকার যদি যথাসময়ে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির সুবিধা নিত, তাহলে ওই প্যাকেজ থেকেও ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি পেতে পারতেন এরাজ্যের কৃষকরা। চিঠির শেষদিকে বলা হয়েছে, আমরা মনে করি, কৃষকরা আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তাই তাঁরা যদি রাজ্য সরকারের অকর্মণ্যতার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে সেই বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তাভাবনা করা উচিত। অর্থাৎ একেবারে সরাসরি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে এবং মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন রাজ্যপাল।

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: