West Bengal

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিভাগের অধ্যাপিকাকে লাগাতার যৌন হয়রানি বিভাগীয় প্রধানের

'মানসিক অত্যাচার এবং যৌন হয়রানি'র অভিযোগ উঠলো প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধানের বিরুদ্ধে

পল্লবী কুন্ডু : ঘটনা কাটোয়া কলেজের। মানসিক অত্যাচার এবং যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠলো প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধানের বিরুদ্ধে এবং এই অভিযোগ হানলেন ওই বিভাগেরই এক অধ্যাপিকার মা। এই প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এটাই প্রথমবার নয়।কিছুদিন আগেই এই বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছিলেন এক ছাত্রী। আর এবার সমস্ত তথ্য প্রমান নিয়ে অভিযোগ ওই বিভাগেরই এক অধ্যাপিকার মা-এর। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় ওই অধ্যাপিকার মা অধ্যক্ষ নির্মলেন্দু সরকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করে জানান, জুওলজি ডিপার্টমেন্টের প্রধান নির্ভীক বন্দ্যোপাধ্যায় মানসিক অত্যাচার ও যৌন হয়রানি করছেন তাঁর মেয়েকে।

পাশাপাশি তিনি একটি ১১ পাতার চিঠি নিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন অধ্যক্ষের কাছে।সেখানে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন আগে নির্ভীকবাবু তাঁর মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাতে রাজি হননি অধ্যাপিকা। সেই থেকেই সমস্যার শুরু। তিনি অভিযোগ তোলেন,লাগাতার মানসিক নির্যাতন করা হত তার মেয়েকে। এমনকী ওই অধ্যাপিকার সঙ্গে যে সকল পড়ুয়ার ভাল সম্পর্ক ছিল, ইচ্ছাকৃত নির্ভীকবাবু তাঁদের নম্বর কমিয়ে দিতেন, অশালীন মন্তব্যও করতেন তাঁদের সম্পর্কে। অধ্যাপিকার কথায়, কলেজের সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হবে। এমনকী প্রমাণ স্বরূপ তাঁর কাছে কিছু অডিও ক্লিপ রয়েছে বলেও দাবি ওই অধ্যাপিকার।

বেশ কিছুদিন আগে টাকার বিনিময়ে কাটোয়া কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগে পড়ুয়াদের ভরতি করানোর অভিযোগ উঠেছিল বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে। এই সম্পূর্ণ ঘটনা শোনার পর তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ। এছাড়াও, ওই প্রধানের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছিলেন এক ছাত্রী। তিনি জানিয়েছিলেন, জুওলজি বিভাগের প্রধান অর্থাত্‍ নির্ভীকবাবু তাঁকে অশ্লীন মেসেজ করতেন। পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিতেন। এছাড়াও অর্থের বিনিময়ে ভরতি করানো বা বেশি নম্বর দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল নির্ভীক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই দাবি অভিযুক্ত নির্ভীক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর কথায়, অভিযোগকারী অধ্যাপিকা, জুওলজি বিভাগের আরও এক অধ্যাপক, ওই কলেজেই কর্মরত অভিযোগকারী অধ্যাপিকার বাবা ও জুওলজি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান পরিকল্পনা করে এসব করছে।

অবশ্য গোটা বিষয়ের তদন্ত হবে বলেই জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: