Culture

দীপাবলির ইতিকথা

কোথায় কোথায় কি কারণে পালন করা হয় দীপাবলি? জেনে নিন

মধুরিমা সেনগুপ্ত: বাঙালিদের দুর্গোৎসব শেষ হওয়ার ১৮ দিন পর পালন করা হয় “দীপাবলি”। বাংলা, আসাম, ওড়িশা ও মিথিলাতে এই সময় কালীপুজো হয় যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দিওয়ালি নাম জনপ্রিয়। এছাড়াও বাংলার দীপান্বিতা কালীপূজা বিশেষ জনপ্রিয়। কালীপুজোর দিন আদি পশ্চিমবঙ্গ বাসিন্দা অর্থাৎ ঘটিরা বাড়িতে লক্ষ্মী পূজা করে থাকেন। কালীপুজোর দিন দীপাবলি অর্থাৎ “প্রদীপের সমষ্টি”। দীপাবলির দিন প্রত্যেকটি ঘরে ছোটো মাটির প্রদীপ জ্বালানো হয়। বলা হয় এই প্রদীপ জ্বালানো হলো অমঙ্গল, অশুভ বিতাড়নের প্রতীক। শুধু প্রদীপ জ্বালানো না, দীপাবলির দিন বাড়িঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে সারা রাত প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখলে ঘরে লক্ষ্মী আসে বলে বিশ্বাস করেন অনেকে।

দীপাবলি বা কালীপুজোর দিন বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানো, বাজি পোড়ানো ও মিষ্টি বিতরণের চল আছে। অমাবস্যার রাতের আকাশ বাজির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। তবে এটা যে শুধুমাত্র হিন্দুদের উৎসব এমনটা নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন কারণে পালন করা হয় দীপাবলি। উত্তর ভারতীয় হিন্দুদের মতে দীপাবলির দিনেই শ্রীরামচন্দ্র চৌদ্দ বছরের নির্বাসনের পর অযোধ্যা ফেরেন এবং সেই ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে অযোধ্যাবাসীরা ঘিয়ের প্রদীপ জ্বেলে সাজিয়ে তোলেন তাদের রাজধানীকে। তারপরেই সেখানে দীপাবলি পালনের চল হয়। অন্যদিকে পূর্বভারত বাদে সম্পূর্ণ ভারতবর্ষে এই দিনে লক্ষ্মী-গণেশের পুজোর নিয়ম আছে। জৈনদের মতে, ৫২৭ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে মহাবীর এই দিনেই মোক্ষ বা নির্বাণ লাভ করেছিলেন। তাই তারা দীপাবলি পালন করেন। পাশাপাশি ১৬১৯ খ্রিষ্টাব্দে শিখদের ষষ্ঠ গুরু হরগোবিন্দ ও ৫২ জন রাজপুত্র দীপাবলির দিন মুক্তি পেয়েছিলেন বলে শিখরাও এই উৎসব পালন করেন। এছাড়াও আর্য সমাজ এই দিনে স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর মৃত্যুদিন পালন করে। অর্থাৎ কারণ আলাদা হলেও সারা দেশ মেতে ওঠে আলোর উৎসবে।

তথ্য সংগৃহিত
সৌজন্য: উইকিপিডিয়া

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: