Health

দুয়ারে হুইলচেয়ার : শারীরিক ভাবে বিশেষ ক্ষমতা সম্পূর্ণ মানুষদের পাশে করোনা বিপদে ওরা কয়েকজন !

বেহালা ঠাকুরপুকুর অঞ্চলে স্রোতের বিপক্ষে অভিনব উদ্যোগ ,শারীরিক ভাবে বিশেষ ক্ষমতা সম্পূর্ণ মানুষদের whatsapp সমন্বয়ে বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়াবার নতুন প্রয়াস

নিজস্ব সংবাদদাতা : করোনা বিপদে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে অভিনব উদ্যোগে এবার বেহালা ঠাকুরপুর অঞ্চলে শারীরিক ভাবে বিশেষ ক্ষমতা সম্পূর্ণ মানুষদের জন্য। সাধারণত ভাবে সক্ষম মানুষ যখন করোনা সংক্রমণে বিপন্ন তখন এই উদ্যোগ কে কুর্নিশ না জানিয়ে উপায় নেই।

৬ তারিখ আনুষ্ঠানিক ভাবে করোনা বিধি মেনে ১০ জন মানুষ যারা শারীরিক ভাবে বিশেষ ক্ষমতা সম্পূর্ণ তাদের কে হুইলচেয়ার দেওয়া হয়।কেন এই ভাবনা বলতে গিয়ে বললেন এই উদ্যোগের পক্ষে অন্যতম বরুন ঘোষ বলেন “আমরা নিজেদের নিয়ে এতো টা চিন্তিত যে শারীরিক ভাবে বিশেষ ক্ষমতা সম্পূর্ণ মানুষেরা আরো যেন হারিয়ে যাচ্ছে আলোচনা থেকে । সাধারণ ভাবে করোনা মুক্ত সময়ে কিছুটা কাজ এদের নিয়ে হলেও বর্তমানে একদমই বাদ পরে যাচ্ছে এনারা।এরা আদেও ভ্যাকসিন পেয়েছেন কিনা , তাদের দিন কি ভাবে চলছে বা কি করে তাদের সংসার চলছে। সব মিলিয়ে অনেকটাই আড়ালে চলে গেছেন , তাই এনাদের কেও আমাদের সাথে এগিয়ে নিয়ে যেতেহবে। “

উদ্যোগের সাথে বিশিষ্ট সমাজকর্মী শঙ্কর ঘোষ বলেন , ” সাথে আছি পাশে আছি , বিনামূল্যে বেশ কয়েকটি অক্সিজেন পার্লারের ব্যবস্থা করেছি বেহালা-ঠাকুরপুর অঞ্চলে , এছাড়াও বাড়িতে দরকারে অক্সিজেন দেওয়ারও ব্যবস্থা করছি। অনেকেই কাজ হারিয়ে খাবার জোগাড় করতে পারছে না , তাদের কে আমরা আমাদের সাধ্যমত সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছি। আর শারীরিক ভাবে বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষদের দিকেও বিশেষ নজর রেখেছি আমাদের সীমিত সামর্থ নিয়ে । “

স্বদেশ বোস হাসপাতালের কর্ণধার জয়ন্ত ভদ্র বলেন ” শারীরিকভাবে যারা বিশেষ ক্ষমতা সম্পূর্ণ মানুষ তাদের মধ্যে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়, যেমন – মোটামুটি ভাবে মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের চার ভাগে ভাগ করা যায়।

১) অল্প প্রতিবন্ধী (mild) যাদের I.Q. ৫০-৫৫ থেকে ৭০ এর মধ্যে।
২) মাঝারি প্রতিবন্ধী (moderate) যাদের ৩৫-৪০ থেকে ৫০-৫৫ এর মধ্যে।
৩) বেশি প্রতিবন্ধী (severe) যাদের I.Q. ২০-২৫ থেকে ৩৫-৪০ এর মধ্যে।
৪) গুরুতর প্রতিবন্ধী (profound) যাদের I.Q. ২০-২৫ এর নীচে।”

জয়ন্ত বাবু আরো বলেন , ” যে মূলত করোনা বিপদে সাধারণ মানুষের সাথে এনাদেরও সংক্রমণ আর মৃত্যুর ভয় আছে। তবে বিপদের দিক হল সংক্রমণের ভয়ে অন্যান্য সাধারণ রোগের চিকিৎসা গ্রহণ না করে হাসপাতাল/ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুলো এড়িয়ে চলা।এরসাথে যেটুকু কাজ তারা করেন তাও বন্ধ ফলে কাজ বা চাকরি হারানোর ভয়। পরিবার বা পরিবেশে এমনিতেই এনারা বিশেষ ভাবে চিহ্নিত হওয়া তে প্রায় একঘরে হয়ে থাকেন। ফলে এদের কে সমাজের মূলস্তরে মেশাতে হবে, না হলে হতাশায় কিছুই করতে পারব না ভেবে ভেঙে পড়বেন। এছাড়া সব খবর হলেও এনাদের কোন খবর গণমাধ্যমে আসছে না ফলে প্রশাসন অনেকটাই অন্ধকারে থেকে যাচ্ছে । তাই সবাই কে এগিয়ে আসতে হবে , আমরা পথে নেমেই আছি সমাজের সকলের কাছে আবেদন আসুন একসাথে এগিয়ে চলি করোনা বিপদ আজ না হয় কাল পরাজিত হবেই । “

আয়োজকরা জানালেন- দুয়ারে হুইলচেয়ারের উদ্যোগ চলবে ধারাবাহিক ভাবে , এই দিনের উদ্যোগে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক বেক্তিত্ব পার্থ চন্দ , পৌর কার্য নির্বাহী অভিজিৎ মুখার্জী , শিপ্রা ঘটক , সমাজকর্মী সায়ন্তন ঘোষ ও শ্রীদীপ দাস সহ অনেকেই । করোনাবিধি মেনে এই দিনের উদ্যোগ শেষ হলেও শুরু হল প্রতিশ্রুতি রক্ষার পালা। আগামীর দিকে নজর থাকবে ওপিনিয়ন টাইমস এর।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: