West Bengal

সপ্তমীর আগেই এক লাফে বেড়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, কপালে ভাঁজ স্বাস্থ্যদপ্তরের

উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত করোনায়ে একনজরে শহরের পুজোর বাজার

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস : বিগত ৭ মাস ধরে সাধারণ মানুষ গৃহবন্দী থেকে, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং বিজ্ঞানী মহল মাথার ঘাম ঝরিয়ে যেভাবে লেগে রয়েছে করোনা দমনে, সেখানে ষষ্ঠিতেই একলাফে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড গড়েছে পশ্চিমবঙ্গ। গত ষষ্ঠীতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে সাড়ে চার হাজার পৌঁছেছে। কলকাতায় আক্রান্ত হয়েছে ৮৭৪ জন। পিছিয়ে নেই উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাও, শতাধিক হারে বেড়ে চলেছে অন্যান্য জেলায় আক্রান্তের সংখ্যাও। বিজ্ঞানী মহলএর আশঙ্কা অনুযায়ী হাসপাতালে বেডের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতি তাদের এই আশঙ্কাই যেন সত্যি হতে চলেছে। অষ্টমী, নবমী ও দশমীতেও এহারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলে পুজো পরবর্তী পরিস্থিতি আরো সাংঘাতিক হবে বলে আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য এবং প্রশাসনিক মহল।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে যেভাবে মানুষের সুস্বাস্থ্য সংকটাপন্ন সেভাবেই সংকটের মুখে বাংলার হস্তশিল্পী থেকে শুরু করে সমস্ত ব্যবসায়ী। বাজেটের ঘাটতির কারণে অনেক পুজোয়ে ছোট সাবেকিয়ানার ছোঁয়া লক্ষ্যণীয়। করোনাসুরের দাপটে নতুন জামাকাপড় থেকে শুরু করে পরিবহন ব্যবস্থার অবস্থাও কিন্তু বেশ খারাপ। হাইকোর্টের নির্দেশে পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষেধ, ফলে মণ্ডপের আশেপাশের বিভিন্ন স্টলগুলির আয়ের ক্ষেত্রে বিশাল ঘাটতি চোখে পরে। এখানেই শেষ নয়, সপ্তমীর সারাদিন যাবৎ বৃষ্টি এবং আগামী দিনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও যেন ছেড়ে কথা বলার নয়।

এতো কিছুর পরেও মানুষ বাড়ি থেকে ঠিকই বেরোচ্ছেন। বেশির ভাগ শপিং ডিজিটাল প্লাটফর্মে হলেও শপিং মল এবং হকার্স কর্নারে লোকের অভাব নেই। পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষেধ, অথচ “no entry” ব্যারিকেটেই ভিড় জমাচ্ছে সকলে। ঠাকুর না দেখলেও রাস্তায় লোকের আনাগোনা কম নয় কোনোভাবেই। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ববিধি, থাকছে না মুখে মাস্কও। সেক্ষেত্রে কতটা সক্রিয় প্রশাসনিক মহল? এমন চলতে থাকলে পুজো পরবর্তী পরিস্থিতি কি আদৌ সামলে উঠতে পারবে প্রশাসনিক এবং স্বাস্থ্য দপ্তর?

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: