Culture

কুমোরটুলি আজ পড়েছে প্লাস্টিকের চাদরে ঢাকা

টানা বৃষ্টিতে চিন্তায় মাথায় হাত পটুয়াপাড়ার শিল্পীদের

সুচিস্মিতা ঘোষ : সকাল থেকেই অনবরত পড়ে চলেছে বৃষ্টি। কখনও আকাশের মুখ ভার , কখনওবা ঝিরিঝিরি। প্রতিমার মাথায় প্লাস্টিকের ঢাকা , কখনোবা বাইরে থেকে পড়ি কী মরি করে ঠাকুরকে ছাদের তলায় নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় ।পটুয়াপাড়ার শিল্পীরা আজ প্রতিমাকে বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে ব্যস্ত। মঙ্গলবার কলকাতার পটুয়াপাড়ার ছবিটা এই রকমই।আর বাকি মাত্র ১৩ দিন বাকি।দরজায় কড়া নাড়ছে প্রতিমা ডেলিভারি দেওয়ার সময়। কিন্তু সঠিক সময়ে সেই ডেলিভারি দেওয়া যাবে কি না সেই চিন্তায় চোঁখে ঘুম নেই পটুয়াপাড়ার শিল্পীদের। এখন মধ্যগগনে নতুন কাজগুলির অর্ডার। কোথাও মায়ের মূর্তি তৈরির , মাটির কাজ শেষ, কোথাও বাকি রঙের কাজ, আবার কোথাও মায়ের সাজ নিয়ে বাড়ছে ব্যস্ততা । এর মধ্যে চোঁখ রাঙাচ্ছে বৃষ্টি । সোমবার সারাদিন রোদ ঝলমলে থাকলেও মঙ্গলবার সকাল থেকেই মুখ ভার আকাশের। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নাহলেও ঝিরঝির বৃষ্টি পড়েই চলেছে সারাদিন ।আর সেই বৃষ্টিতে প্রতিমার মাথা বাঁচাতে ব্যস্ত কারিগররা । রোদের আশা করা বৃথা মনে করছেন তাঁরা। দুয়ারে নিম্নচাপ করানাড়ছে , শক্তি বাড়িয়ে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণাবর্ত, ভাসতে পারে বঙ্গের উপকূল, তাই প্রতিমা শুকাতে এক মাত্র উপায় আগুনের সাহায্য নেওয়া। কোথাও টিনের মধ্যে কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে, আবার কোথাও কাঠ কয়লা জ্বালিয়ে, কোথাও গ্যাসের ল্যাম্প জ্বালিয়ে ঠাকুর শুকানোর পালা চলছে পটুয়াপাড়ায় গলিতে গলিতে। মৃত্‍শিল্পী অমল পাল জানালেন, ‘বড় কাজগুলো হয়ে গেছে। এখনও অনেক কাজ বাকি। বৃষ্টির জন্য সমস্যায় আছি। সূর্যের তাপ ছাড়া প্রতিমা সাধারণত শোকায় না। কিন্তু এখন আর উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়েই কাঠ কয়লা ডুয়ো ল্যাম্পের ব্যবহার করে প্রতিমা শুকানো হচ্ছে।’ এমনিতেই এবারের বাজার মন্দা দোসর হয়েছে বৃষ্টি। বৃষ্টির চোখ রাঙানিতে কাঁপছে কুমোরটুলি।খরচ বাড়ছে বৃষ্টির দরুন। যা নিয়ে চিন্তা বাড়ছে।কমবে লাভের পরিমাণও সব দিক থেকে। শিল্পী দিলীপ পালের কথায়, ‘এইভাবে ঠাকুর শুকাতে প্রায় ১৫ শতাংশ খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এমনকি ফ্যান চালাতে হচ্ছে দফায় দফায়। তাতে বিদ্যুতের খরচও বাড়ছে।’ তরুণ শিল্পী সোমনাথ সাউয়ের কথায়, ‘এই রকম বৃষ্টি আগের বছর বা তার আগের বছরও হয়নি। এই বৃষ্টির জন্য শুধু ঠাকুর তৈরি নয়, রঙ শুকানোর মতো অসুবিধাও হয়।’ পটুয়াপাড়ায় এক শিল্পী অবিনাশ পালের গলায় হতাশার সুরে। কী করে বাকি কাজ শেষ হবে তা নিয়ে চিন্তায় মাথা ঘুরছে তাঁর। রোদের দেখা কবে মিলবে? শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি পিছিয়ে যাচ্ছে ক্রমশই । তবে শেষ মুহূর্তে মাটি না রঙ শুকাতে আগুন বা পাখার হাওয়ার ওপরই নির্ভর করতে হবে বলেও জানান কুমোর পাড়ার শিল্পীরা। কুমোরটুলি মৃত্‍শিল্প সংস্কৃতি সমিতির যুগ্ম সম্পাদক বাবু পাল জানান, ‘আমাদের এখন অবস্থা খুব খারাপ। ক্ষনিকে ক্ষনিকে বৃষ্টি এসে মাটি করে দিচ্ছে আমাদের সব কিছুই।অগত্যা শেষ মুহূর্তের পাখা চালিয়েই কাজ করতে হবে নয়তো আগুনের সাহায্যেই শুকানো হবে প্রতিমা ।’ সময়ে ঠাকুর মন্ডপে পৌঁছানোও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কুমোরটুলির শিল্পীদের কাছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: