West Bengal

সামান্য অসচেতনতা, লক্ষীপুজোর দিনেই চিরতরে বিদায়ের পথে গৃহলক্ষী

ধনদেবীর আরাধনায় যখন গোটা পরিবার মগ্ন ঠিক তখনই অন্যদিকে সামান্য অসচেতনতার বসেই প্রদীপের আগুন লাগে গৃহ বধূর আঁচলে।

পল্লবী কুন্ডু : লক্ষীপূজোর দিন-ই গৃহলক্ষীর দেহ পুড়লো। ধনদেবীর আরাধনায় যখন গোটা পরিবার মগ্ন ঠিক তখনই অন্যদিকে সামান্য অসচেতনতার বসেই প্রদীপের আগুন লাগে গৃহ বধূর আঁচলে। লক্ষী মা-এর পুজোর দিন এর থেকে অশুভ আর কিছু হতেই পারেনা। বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন। সিল্কের শাড়ি পরে ঘরের বউ সেই পুজোর-ই আয়োজন করছিলেন। তিনি বুঝতেও পারেননি যে কিভাবে, কখন তার আঁচলে আগুন লেগে গেছে।

সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েই পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, লক্ষীপূজোর দিন অর্থাৎ শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। যাদবপুর থানা এলাকার ইব্রাহিম রোডের অধিবাসী দোলা মিত্র, তাদের বাড়িতেই জোর কদমে চলছিল মাতৃ আরাধনা। মা-এর সামনে জ্বলছিল ধুপ-দীপ। বাড়ির কর্ত্রী দোলা মিত্র সিল্কের শাড়ি পরে পুজোর তদারকিতে ব্যস্ত ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন পরিবারের অন্যরাও। পুজোর কাজ করার সময় হঠাত্‍ই শাড়ির এক কোণায় প্রদীপের আগুন ধরে যায়। যেহেতু সিল্কের শাড়ি, তাই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই জ্বলে যায় শাড়িটি। আর তার সঙ্গেই সেই আগুন ধরে নেয় দোলা দেবীর শরীরকেও।

সেই রাতেই অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় যাদবপুরের (Jadavpur) বাসিন্দা বছর তেষট্টি বছরের দোলা মিত্রকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভরতি করা। পরিবারের লোক ও প্রতিবেশীরা মিলে তড়িঘড়ি তাঁকে কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ (National Medical College) হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিত্‍সকরা জানান, তাঁর শরীরের ৮৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্‍সা শুরু হয়।শারীরিক অবনতি দেখে ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ নিয়ে যাওয়া হয় OCB ওয়ার্ডে। কিন্তু গৃহলক্ষীকে আর গৃহে ফেরানো সম্ভব হলোনা। আজ সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে যাদবপুরের ইব্রাহিম রোডের মিত্র পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: