Big Story

সমস্যা সমাধানের বদলে পাল্টা হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর : কৌশলে আন্দোলন ভাঙার চেষ্টা করছেন জুনিয়র ডাক্তারদের !

হটাৎই সাংবাদিক সম্মেলন স্থগিত রেখে বেরিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলে গেলেন, ‘‘কয়েকজন জুনিয়র ডাক্তার এসেছে। আমি ওদের সঙ্গে কথা বলে আসছি। আপনারা বসুন।’

প্রথমেই মুখ্যসচিব মলয় দে- ‘‘আমাদের সমস্ত হাসপাতালের ভিতর নিরাপত্তার ব্যবস্থা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে ইন্টার্ন আহত হয়েছিলেন তিনি এখন ভাল আছেন। সরকার তাঁর যাবতীয় খরচ দেবে। স্বাস্থ্যসচিব ওখানে গিয়েছেন।’’

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বললেন –

১) অভিযোগ থাকলে ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিস্টমেন্ট কমিশন আছে সেখানে যান

২) মুখ্যমন্ত্রীর কৌশল আন্দোলনের মধ্যে ভাঙ্গন ধোবে বলে মনে করেন

৩) স্বরাষ্ট দফতরের পাঠানো নির্দেশে যে পরামর্শ তা মানবেন না , অন্য রাজ্য দেখুন , গুজরাট , উত্তর প্রদেশ দেখুন যেখানে মানুষ খুন হচ্ছে

৪) গিরি কে ওই আন্দোলনে আছে , ও তো ডাক্তার নয় , ওখানে কেন ?

৫) রাজ্য এসব মানবে না

৬) যারা কাজে যোগ দিতে চায় তাদের জন্য সব রকম সাহায্য থাকবে

৭) জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ কাজে ফিরতে চাইছেন।

৮) প্রশাসন ধৈর্য ধরে রয়েছে। এটা প্রশাসনের মানবিক মুখ।

৯) আমরা এখানে এসমা জারি করতে চাই না। কিন্তু ডাক্তাররা তাড়াতাড়ি কাজে যোগ দিন। আমাদের হাতে আইন আছে। কিন্তু প্রয়োগ করতে চাই না। কারও কেরিয়ার নষ্ট করতে চাই না।

১০) স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে কাজে যোগ দেওয়ার লোক আছে। যারা কাজ শুরু করতে চায়, করুক। সকলে এরপর একে একে করবে। বাঁধ ভাঙবে।

১১) আইনত এই গণ ইস্তফার কোনও মূল্য নেই। আমরা অপেক্ষা করছি ওরা আলোচনায় আসবেন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে সম্মান জানানো উচিত।

১২) গত ১০ তারিখ রাতে একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তার পর আমরা সব দিক থেকে চেষ্টা করছি। পরের দিনই স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীকে পাঠিয়েছিলাম। ওরা আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইনি। অসম্মানিত হয়েছিলাম। কিন্তু কিছু বলিনি। কিন্তু বিনা চিকিৎসায় অনেকে মারা গিয়েছেন। চিকিৎসায় আমাদের গর্ব। ভগবান মনে করি।

১৩) রোগীরা যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, তা মর্মান্তিক

১৪) অন্যান্য রাজ্য কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে অন্য ব্যবস্থা নেয়। ওড়িশা, দিল্লি, গুজরাত, রাজস্থান— সর্বত্র এসমা জারি করা হয়েছে এর আগে। মানবিকতায় বিশ্বাস করি বলে এসমা করিনি। রেজিস্ট্রেশন বাতিল করিনি। কারও কারও প্ররোচনায় ছাত্রছাত্রীরা আসছেন না হয়তো। গতকাল আসব বলে আজ সিদ্ধান্ত বাতিল করলেন কেন?

১৫) “কথা বলতে চাইলে কথা বলতে পারেন। নবান্ন প্রশাসনের সদর দফতর। এখানে দরজা খোলা। সরকার চাইছে কথা বলতে। সেটা অমান্য করা ঠিক নয়’’ বললেন মমতা।

১৬) আমার বিরুদ্ধে উল্টোপাল্টা মন্তব্য করা হচ্ছে। আমি পুলিশকে বলেছি, কোনও ব্যবস্থা নেবেন না। অন্য কোথাও হলে কিন্তু এমনটা হত না।প্রবীণরা তাঁদের মতো করে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ওদের প্রতিনিধি দল কথা বলতে এল না। আমি চিকিত্সক মহল, স্বাস্থ্য মহলের কাছে আবেদন জানিয়েছি, আপনারা কাজে যোগদান করুন।

১৭) চন্দ্রিমা তিন ঘণ্টা কথা বলেছেন। পুলিশ কমিশনার নিজে গিয়েছেন। স্বাস্থ্য সচিব গিয়েছেন। সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তার পরেও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তাকে শেম শেম ধ্বনি দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আকস্মিক কিছু ঘটে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে না। সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা দেখুন। ঘটনা বাড়তে পারত। পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা জামিন পায়নি।

Show More

Related Articles

Back to top button
%d bloggers like this: