Big Story

প্রত্যেক পুজো কমিটিকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান, মিলবে কি পুজোয় ঘোরার অনুমতি? বড়ো ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

এ বছর পূজার বিসর্জন হবে ১৫, ১৬, ১৭ অক্টোবর, কার্নিভাল হবে কিনা তা জানা যাবে নির্বাচনের পর

মধুরিমা সেনগুপ্ত: ঢাকে কাঠি পরে গেছে, সামনের মাসেই বাঙালির সবথেকে বড়ো উৎসব দুর্গাপুজো। আর এই পুজোর প্রাক্কালেই মুখ্যমন্ত্রীর বড়ো ঘোষণা। আগামী মাসেই পুজো, তাই গাইডলাইন নিয়ে আলোচনা করতে পুজো কমিটির কর্মকর্তাদের সাথে আজ নেতাজি ইন্ডোরে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি জানান গত বছরের ন্যায় এবছরেও পুজো কমিটিগুলোকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, বিদ্যুত্‍ বিল-সহ অন্যান্য সমস্ত লাইসেন্স খরচও মুকুব করা হবে বলে জানান মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। পুজোর যেহেতু বেশি দেরি নেই তাই এই করোনা আবহে কিভাবে সুষ্ঠভাবে পুজো করা সম্ভব তা নিয়েই আজ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন নির্বাচনের শেষে বৈঠক করলে তা দেরি হয়ে যেত এবং সমস্যায় পড়তেন পুজো কমিটিগুলি। সামনেই নির্বাচন। নির্বাচনের অনেক বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও তিনি অনুমতি নিয়েই যে এই বৈঠক করেছেন তা প্রথমেই স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে গত বছর যা যা গাইডলাইন জারি করা হয়েছিল সরকারের তরফে এবছরেও তা একই থাকবে। তিনি প্রত্যেক পুজো কমিটিগুলিকে অনুরোধ করেন যেন তারা প্রত্যেকে ছোট করে সুন্দর করে পুজো করে। আগের বারেও করোনার আবহে কার্যত নমো নমো করে সারা হয়েছিল দুর্গাপুজো। সাথে ছিলো কোর্টের তরফে জারি করা বিধিনিষেধ। কিন্তু এবছর পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা কারণ শহরবাসীর অনেকেই পেয়ে গেছেন ভ্যাকসিন। এবারেও আগেরবারের মতো বিধিনিষেধ থাকবে কিনা তা এখনো জানা যায়নি। বৈঠকে মমতা ব্যানার্জি আরও বলেন সকলকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও তাঁর পরামর্শ, ক্লাবগুলোকে কোভিড সচেতনতা প্রচার করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তৃতীয় ঢেউ যদি না আসে তবে এ বছর পূজার বিসর্জন হবে ১৫, ১৬, ১৭ অক্টোবর অর্থাত্‍ একাদশী, দ্বাদশী ও ত্রয়োদশীর দিন। গত বছর করোনার জন্য দুর্গাপুজোর কার্নিভাল বন্ধ ছিল। এই বছর কার্নিভাল হবে কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন করলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি বিচার করে ভোটের পর এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মমতা ব্যানার্জি এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন যে সারা রাজ্যে প্রায় ৩৬ হাজার বড় পুজো হয়। যার মধ্যে কলকাতার রেজিস্টার্ড ক্লাবের সংখ্যা ২৫০০। মুখ্যসচিব ঘোষণা করেছেন, এই সব উদ্যোক্তাই ৫০ হাজার টাকা ও অন্যান্য সুবিধে পাবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্গাপূজাকে বিশ্বের এক নম্বর ফেস্টিভাল বলে মনে করি। কুইন্স ইউনিভার্সিটি এবং আইআইটি খড়গপুর সার্ভে করেছিল গড়ে ৩২ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা খরচ হয় দুর্গাপূজায়।” সাথে জেলার পুজোগুলিরও তুমুল প্রশংসা করেন তিনি। পুজোয় ভিড় সামলানোর জন্য এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশকে বাড়তি তত্‍পরতার সাথে কাজ করার কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে বোঝাই গেলো ভোটপূজোর আগে দুর্গাপুজোর দামামাটা মুখ্যমন্ত্রী বাজিয়েই দিলেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: