Science & Tech

সোশ্যাল মিডিয়া ডেকে আনতে পারে কি অঘটন? জেনে নিন

দৈনিক ২ ঘন্টার বেশি সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকলে বেড়ে যায় মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা

পৃথা কাঞ্জিলাল : অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঘটনার পর অনেকেরই টনক নড়েছে মানসিক রোগ (Mental Health) নিয়ে। সতর্ক হচ্ছেন অনেকেই এবং খবর নিচ্ছেন একে অপরের। তবে জানেন কি, অতি সাধারণ রোজকার একটি কাজ ও ডেকে আন্তে পারে মানসিক অবসাদ ? সেটি হল সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media)। কম বেশি অনেকেই আমরা এতে যুক্ত এবং কাটাই দিনের বেশিরভাগ সময়ে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে দৈনিক ২ ঘন্টার বেশি সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকলে মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

এই রিপোর্ট প্রকাশিত হবার পর থেকেই ফেসবুক, স্ন্যাপ চ্যাট, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা রীতিমত চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। টিকটক কয়েক দিন হলো বন্ধ হয়েছে কিন্তু তাতে মানুষের সোশাল মিডিয়া ব্যবহার বন্ধ হয়নি। এর পাশাপাশি ডাক্তাররা জানিয়েছেন যারা মোবাইল ফোনে গেম বা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করার ফলে হতাশা থেকে জন্ম নিচ্ছে অ্যামনেশিয়া। এছাড়া ফেসবুকে পোস্ট এবং হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটসে “পোস্ট রিচ” না বাড়লেও একটা পরোক্ষ প্রভাব পড়ে বলে মনে করছে গবেষক।

ব্রিটেনের একজন চিকিৎসক রঙ্গন চ্যাটার্জী বলছেন, তিনি একবার ১৬ বছরের একটি কিশোরকে রোগী হিসেবে পেয়েছিলেন – যে তার নিজের হাত-পা কাটার পর তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। “আমি প্রথমে ভেবেছিলাম তাকে বিষণ্ণতা-রোধী ওষুধ দেবো। কিন্তু আমি তার সাথে কথা বলার পর মনে হলো, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করায় তার স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”

সাম্প্রতিক একটি পেমেন্টস অ্যাপের গেমের মাধ্যমে সাধারনরা জিততে পারেন ১০১ থেকে ৫০১ অব্দি। এর ফলে অনেকেই টাকা ওরাচ্ছেন কিছু “রেয়ার” টিকিটের জন্য। এবং রেয়ার টিকিটের চক্করে হতাশ হচ্ছেন অনেকেই, হচ্ছে মানসিক বিষাদ। বাচ্চাদের মধ্যে মানসিক অবসাদের পরিমান বেশি দেখা যাচ্ছে। সাইকিয়াট্রিস্ট লুই থিওডোসিও বলছেন, “দু-তিন বছর আগেও তার সাথে এ্যাপয়েন্টমেন্টের মাঝখানে কোন বাচ্চা তাদের ফোন ব্যবহার করছে, বা টেক্সট করছে – এমন ঘটনা ছিল খুবই অস্বাভাবিক। কিন্তু এখন এটা খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে।”

ডা. সাদিয়া তারান্নুম বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলেই তরুণদের মানসিক সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হবে। এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে-

দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় ফেসবুক ব্যবহার করা।

কারো তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে তা যাচাই করা।

পরিবারকে সময় দেয়া ও তাদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়া।

সপ্তাহে একদিন হলেও আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সাথে সরাসরি দেখা করা।

ফেসবুকে বেশি বন্ধু না বাড়িয়ে যাদের ভালোভাবে চেনেন, তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা।

খেয়াল রাখা যে আপনার ব্যক্তিগত কর্মকান্ড বা পারিবারিক তথ্য অপরিচিতজনেরা যেন না জানতে পারে।

সবাই কেন এত সুখী বা সফল সেটা নিয়ে সব সময় চিন্তা না করে নিজের কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকা।

ফেসবুক-এ পাওয়া দেশ ও দেশের বাইরের নানারকম তথ্য পড়ে পরিবারের সবার সাথে সামনাসামনি শেয়ার করা।

ফেসবুকের তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে সন্দেহ করা বা ঝগড়া বিবাদের জড়িয়ে পড়া উচিত নয়।

ফেসবুকের অচেনা বন্ধুকে বিশ্বাস করে জীবনের কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নেয়া।

সব সময় মনে রাখা আমার সামনের মানুষটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ ফেসবুকের অচেনা বন্ধুটির থেকে।

খেয়াল রাখা শুধুমাত্র ফেসবুকের কাছে যেন পারিবারি বা গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক শিথিল না হয়।

কোন রকম মানসিক চাপ বা সমস্যা অনুভব করলে সরাসরি মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: