Life Style

মাইগ্রেনের যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে এড়িয়ে চলুন কিছু অভ্যেস

চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত রোদে ঘোরাঘুরির কারণে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে

পল্লবী কুন্ডু : মাইগ্রেনে(Migraine)র যন্ত্রনা হলো অসহ্য মাথার ব্যাথা। মাথার যে কোনও এক পাশ থেকে শুরু হয়ে তা মারাত্মক কষ্টকর হয়ে ওঠে। মাইগ্রেনের যন্ত্রণা অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং দীর্ঘস্থায়ী। তীব্র মাথা যন্ত্রণার পাশাপাশি বমি বমি ভাব, শরীরে এবং মুখে এক ধরনের অস্বস্তিতে ভোগে। মাইগ্রেনের ব্যথা টানা বেশ কয়েকদিন থাকে। মুক্তির উপায় খুঁজতে মরিয়া ভুক্তভোগীরা। তবে পুরোপুরি এর থেকে রেহাই পেতে বেশ কিছুটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই যাদের এই সমস্যা রয়েছে, তাদের এই ব্যথার জন্য দায়ী কিছু কাজ বা অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভাল। এতে মাইগ্রেনের সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত রোদে ঘোরাঘুরির কারণে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরম, অতিরিক্ত আর্দ্রতার তারতম্যেও মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হয়ে থাকে। পাশাপাশি পেট খালি থাকলে মাইগ্রেনের ব্যথা বা সমস্যা শুরু হতে পারে। এর কারণ হচ্ছে, খালি পেটে থাকলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয় যা মাইগ্রেনের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, যারা অনেক বেশি চাপ নিয়ে একটানা কাজ করে থাকেন এবং নিজের ঘুম ও খাওয়া-দাওয়ার কোনও নির্দিষ্ট সময় মেনে চলতে পারেন না, তাদের বেশি মাইগ্রেনে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। তাই মানসিক চাপ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। খুব মানসিক চাপে থাকলে এক কাপ লেবু চা খেয়ে নিন। এতে মস্তিষ্ক কিছুটা রিলাক্স হবে।

খুব বেশি শব্দ বা খুব জোরে গান শোনা ইত্যাদির কারণেও মাইগ্রেনের সমস্যা শুরু হতে পারে। প্রচণ্ড জোরে আওয়াজের কারণে প্রায় দু’দিন টানা এই ব্যাথা থাকার প্রবল আশঙ্কা থাকে। মাত্র এক দিনের ঘুমের অনিয়মের কারণে শরীরের উপরে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। যেমন, যারা নিয়মিত মোটামুটি ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা করে ঘুমান, তারা যদি হুট করে একদিন একটু বেশি ঘুমিয়ে ফেলেন, সেক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হয়ে যায়।

আর এগুলি ছাড়াও, বেশি মিষ্টি খাবার খেলে তখন আমাদের রক্তের সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়। যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত ইনসুলিনের উত্‍পাদন হতে থাকে। যার ফলে রক্তের সুগারের মাত্রা নেমে যায়। এ ভাবে হঠাত্‍ হঠাত্‍ রক্তে সুগারের মাত্রার তারতম্য হওয়ার কারণেও মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা নিয়মিত ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় খেতে অভ্যস্ত, তারা হঠাত্‍ করে সেই অভ্যাস ত্যাগ করলে বা বন্ধ করে দিলে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে। তাই এই অভ্যাস বন্ধ করতে চাইলে ধীরে ধীরে কফি খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে করতে হবে। একেবারে কমানোর চেষ্টা করবেন না এতে আপনি নতুন করে সমস্যায় পড়তে পারেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: