Big Story

পিতা-পুত্রের ঘরে ফেরা অন্য রাজনৈতিক ইঙ্গিত সর্ব ভারতীয় ক্ষেত্রে “বড় ধাক্কা রাজ্য বিজেপিতে “

শেষের ৬মাসের হিসেবে মিললো না বলেই ঘরে ফেরার পালা , এ কোন রাজনীতির ইঙ্গিত !

নিজস্ব সংবাদদাতা : ১) বিজেপি চালিকাশক্তি RSS. মতাদর্শের প্রতি কঠোর আনুগত্য প্রমাণ না করতে পারলে তাই বিজেপিতে হালে পানি পাওয়া মুশকিল। অন্য দল গুলো থেকে আসা নেতানেত্রীদের এক ঘরে করে রাখার প্রক্রিয়া ছিল , তাই খোলা মনে রাজনীতি করা অসম্ভব।

২) মুকুল রায় কে ভোটের বাজারে টিকিট দিয়ে লড়াইয়ে নামিয়ে রাজ্য নির্বাচনের মুখ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মেনে নেন নি। দিলীপ বাবুদের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কের চির ধরাতে বাদ্য করেছে।

৩) বিজেপির অভ্যন্তরে কানা ঘুসো হচ্ছে যে মুকুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে ভুরিভুরি। তৃণমূল নেতাদের অনেকেই দাবি করেন, দলের তরফে চিটফান্ডের সঙ্গে বোঝাপড়ার দায়িত্ব ছিল মুকুলেরই ওপরে। ফলে ভবিষ্যতে চিটফান্ড কাণ্ডে তৃণমূলকে চাপে ফেলতে গেলে মুকুলের গায়েও হাত দিতে হবে বিজেপিকে। সেই কারণে বিজেপি মুকুলের ওপর থেকে সুরক্ষার বলয় সরিয়ে নিলে বিপদে পড়বে মুকুল রায়।

৪) দিল্লি বিজেপির পার্টিতে লোকসভা নির্বাচনের পর মুকুলের সাংগঠনিক দক্ষতাও প্রশ্নে মুখে পড়েছে বিজেপির অন্দরে। এই ক্ষেত্রে লোকসভা নির্বাচন মিটতেই বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে পুরসভা ও পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিদের ঝাঁকে ঝাঁকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে বিজেপিতে যোগদান করিয়েছিলেন মুকুল। কেন ২০২১ শে’র নির্বাচনের পর বিজেপিতে আসা নেতারা তৃণমূলে ফিরে যাচ্ছে সেখানে মুকুলের কোন ভূমিকা নেই , তার ফলে বিজেপি নেতৃত্ব ক্ষুব্দ। শেষের ২৫ দিনে নির্বাক মুকুল , এই অবস্থায় জল্পনা বেড়েছে এটি গোপন ভাবে। তার ফলে সন্দেহের উদ্বেগ তৈরি হয় বিজেপিতে। রাজ্য সভাপতির মিটিংয়ে মুকুল অনুপস্থিত , তারপর মিটিং সম্পর্কে মুকুলের বক্তব্য আরো সম্পর্কের ফাটল পরিষ্কার হয়।

৫) ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে নিজের এলাকাতেও বিজেপির সংগঠন তেমন চাঙ্গা করতে পারেননি মুকুল। মুকুলের খাসতালুক কাঁচরাপাড়ায় বিজেপির যেটুকু সংগঠন রয়েছে তা অর্জুন সিংয়ের দৌলতে।এর ফলে বিজেপির অভ্যন্তরে সমালোচনার মুখে পড়েন মুকুল।

৬) শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব ব্যানার্জী যে ভাবে নির্বাচন ঘোষণার পর বিজেপির মূল মুখ হয়ে যায় তার ফলে মুকুল এক ঘরে হয়ে পড়েন। নির্বাচনের সভাতেও মুকুল তার অসহায়তা প্রকাশ করে ফেলেন মোদির সভার আগে। বিজেপির হিসেবে মুকুলকে সামনে আনলে বিরোধীরা পুরনো মদ নতুন বোতলে পরিবেশন করা হচ্ছে বলে দাবি করতে পারে। সেক্ষেত্রে ভেস্তে যেতে পারে বিজেপির পরিকল্পনা।তাই মুকুল কে আড়াল করেই বঙ্গ বিজেপি লড়াইয়ের কৌশল করেন।

৭) মুকুল রায় নিজের সঙ্গে সঙ্গে তার ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত মুকুল রায়। মিলিয়ে হিসেবে চলছে শেষের একমাস ধরে এটা ঠিক নয় মোটের ওপর বলা যায় এই হিসেবে কষা শুরু হয় নির্বাচনের প্রাক্কালে।

৮) তৃণমূল মুকুলকে যোগদান করিয়ে বিজেপিতে যতবড় ভাঙন ধরানো যাবে বলে মনে করছেন । কিন্তু সম্ভবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না , সব্যসাচী দত্ত, সৌমিত্র খাঁ, কর্নেল দীপ্তানশু শোঃ অনেকেই আছেন এই লাইনে । গুঞ্জন চলছে ৩০ জন বিজেপি বিধায়ক ও ৫ জন লোকসভা সাংসদ যুক্ত হতে পারেন। তাই মুকুল কে আড়াল করেই বঙ্গ বিজেপি লড়াইয়ের কৌশল করেন।

৯) দিলীপ ঘোষ সহ বেশ কিছু নেতার সাথে বনিবনা হচ্ছিল না মুকুল সহ অনেকেরই , যারা তৃণমূল থেকে এসেছিলেন। মূলত বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের মনভাবে বাড়ে বাড়ে প্রকাশ পেয়েছে যে আদি বিজেপি ও নব্য বিজেপি দ্বন্ধের ।

১০) দেশের রাজনীতির দিকে তাকিয়ে এই সিদ্ধান্ত কিন্তু অন্য সুর বেধেদিচ্ছে। যখন সোনিয়া গান্ধী , মমতা ব্যানার্জী, সীতারাম ইয়েচুরি ,অখিলেশ যাদব , লালু প্রসাদ সহ অনেকেই এক সাথে হাঁটা শুরু করছেন। তার ফলে ২০২৪ সালের লোকসভার অঙ্ক কোষ শুরু। গুঞ্জন চলছে আগামীর UPA তে মমতা বান্ধোপাধ্যায় হতে পারেন আগামীর চেয়ারম্যান , রাহুল হতে পারে প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে থাকবে অখিলেশ সহ অনেকেই। রাজ্যের ভার সামলাতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: