Analysis

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরীক্ষা নেবেন আপোষহীন তৃণমূল কর্মীরা , পাস্ করলে থাকবেন আবারও ৩৪- আর ফেল করলে সিপিআইএম !

সফল মীরজাফর হতে ব্যর্থ মুকুল : কুশলী হলেও তার কৌশল ব্যর্থ হয়েছে

নগর দর্পন : রবার্ট ক্লাইভ একটি চিরকুট পাঠালেন মীর জাফরের কাছে। লেখা ছিল: “এই জয়ের জন্য আমি আপনাকে অভিনন্দন জানাই। এই জয় আমার নয়, আপনার। আশা করি আপনাকে নবাব ঘোষণা করতে পেরে নিজে সম্মানিত হতে পারব।” এই প্রসঙ্গ টেনেই কলম ধরেছি , যে ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের পর দিল্লির দরবারে মোদী সরকারের স্বপথের আগের দিন বেশ কয়েকটি কাগজে মুকুল রায় কে বিশেষ উৎসাহজনক শব্দে সম্মানিত করেছিল সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম থেকে হাল ফিলের বাংলার তাবেদার মহল , তিনি নাকি বাংলার চাণক্য !

চুপ করে অপেক্ষা করেছি সময়ের , সময় বদলের পালা আসবেই। ২রা মে সকাল ৭ টার সময়ও কেও ভাবতেই পারেনি যে পাশার দান যে ভোটাররা উল্টোদিকে মত দিয়েছেন ,মুকুল বাবুরও হিসেবের মধ্যে ছিল না স্বয়ং। তবে আগাম বুদ্ধির মানুষ নির্বাচনের প্রচারে কৃষ্ণনগরে তৃণমূলের একাংশ দলে থাকলেও নিষ্ক্রিয় ছিলেন , হারল তৃণমূল জিতলো মুকুল বাবু। জানতেন জিতবেন কিন্তু খুশি ছিলেন না , কারণ যদি বিজেপি আসে সরকারে তাহবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ পাবেন না, এটা আগাম আন্দাজ করেছিলেন – ফলে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণে সে ভাবে উৎসাহ ছিল না উচ্চাভিলাসী মুকুল বাবুর।

বিধানসভা ভোটের প্রাকপর্বে ‘অক্সিজেনের’ মাত্রা কমে তৃণমূলের মধ্যে অনেকের দমবন্ধ হয়ে এসেছিল। গেরুয়া শিবিরকে ‘সেফ হোম’ ভেবে চলে গিয়েছিলেন অনেকে। ইদানীং সেখানেও তাদের অক্সিজেনের মাত্রা কমছে বলে খবর। সপুত্র মুকুলের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে ‘অক্সিজেনের মাত্রা ওঠানামা’ করা সেই অংশ আবার নতুন করে আশায় বুক বাঁধছিল। তাহলে এবার বোধহয় ফেরা যাবে তৃণমূলে, শুরু হয় তুমুল জল্পনাও। সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর স্পষ্টবার্তা—‘ভোটের সময় দলকে নানাভাবে অপদস্থ করার চেষ্টা চালিয়ে যারা নিম্নরুচির পরিচয় দিয়েছে, তাদের ঠাঁই হবে না তৃণমূলে। গদ্দারদের ফেরাব না। মুকুল দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’ তৈরি হল চর্চা গদ্দারদের নতুন ক্লাসিফিকেশন , ভালো গদ্দার আর মন্দ গদ্দার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বললেন , ‘আমরা বিজেপির মতো ধমকে নয়, স্বচ্ছতার সঙ্গে মুকুলকে ফেরালাম।’ মুকুলবাবুকে দলীয় প্রতীক সম্বলিত উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ট্যুইটবার্তায় মুকুলবাবুর দলে ফেরাকে স্বাগতও জানিয়েছেন তিনি।

মুকুল বাবুর রাজা সাজার সাজা পেলেন হাতে নাতে , অতীতে যারা মুকুল বাবুর ঘরে ঢুকতে একবার হোঁচট খেত- তাদের দুয়ারের বাইরে বসে অপেক্ষা করছিলেন ঘরে পুনর্বাসনের সম্মতি কখন আসে । কথায় আছে ‘ভগবানের মার দুনিয়ার বার’ ,

কিন্তু এখানেই প্রশ্ন উঠছে পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কেন নয় অন্যরা ? আর ঘরে ফেরার তালিকায় রাজীব ব্যানার্জী , থেকে সোনালী গুহ এর মাঝে রুই কাতলা মাগুর চিতল অনেক ধরণের নামি বেনামীরা রয়েছেন যারা সম্প্রতি অতিতিতে মুকুল বাবুর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিলেন। তাদের কি হবে যারা স্বমহিমায় দল ছেড়েছিলেন , এখন যে বিজেপি তে যে অক্সিজেনের বড় অভাব , কি ভাবে রক্ষা হবে ওদের মান আর কুল।

কিন্তু আবারও প্রশ্ন , যারা অসময়ে রইলেন দল কে বিপদ মুক্ত করে আবার সিংহাসনে বসলেন তাদের কি হবে? যেহেতু এই দলে কোন তথাকথিত রেজিমেন্টেশন নেই , নেত্রী ভিত্তিক দল , তাই এবার পরীক্ষার সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কি করবেন সামনেই পৌরসভা থেকে বিধান পরিষদ ঘঠন। এর পরই পঞ্চায়েত – জেলা পরিষদ নির্বাচন তারপর লোকসভা নির্বাচন। সব মিলিতে পুনর্বাসনের গল্পে অনেকেই তাল ঠুকছেন কি ভাবে কি পাওয়া যাবে নতুন সুযোগ পুরানো জায়গায় , কারণ ২০২৬ পর্যন্ত একটা নিশ্চিন্ত ব্যাপার স্যাপার।

দল ও প্রশাসনকে আলাদা করতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তাই এক ব্যক্তি, এক পদ নীতি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এর ফলে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস আলাদা আলাদা ভাবে কাজ করতে পারবে। তার ফলে অনেক নেতাই আসায় বুক বেঁধে ছিলেন , তারা এখন বাস্তবে হতাশ। কারণ কিছু সুযোগ থাকলেও বর্তমানে সেটা দুরাশা , কারণ দলবদলুর এতটাই দক্ষ যে যে কোন সময়ে নিজের চরিত্র বদল করে ক্ষমতার বলয়ে ঢুকে নিজের আখের গোছানোতে সিদ্ধ হস্ত।

অনেকেরই ধারণা সুখের মধ্যে যারা অসুখী হবেন তারাই আগামীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরীক্ষা নেবেন। যেমন ১৯৯৫ সালের পর বামেদের থেকে অনেকেই বসে গেছিলেন যারা সত্যিকারের নেতা ছিলেন। সিপিআইএম সরকার চালিয়ে ম্যানেজারের উৎপত্তি করলেও নেতারা বসে থাকলেন ঘরে বা কালের গীতিতে তারা হারিয়ে গেলেন। আজ তাই শত সুযোগ থাকলেও বামেরা এখন শূন্য।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: