West Bengal

লকডাউনে ফাঁকা ধর্মতলা-গড়িয়াহাট এর দোকান, ভিড় জমেছে অনলাইন দোকানে

অনলাইন দোকানের উপর ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ, ভরসা কী জাগল তাহলে ?

দেবশ্রী কয়াল : কেনাকাটার ক্ষেত্রে কিন্তু সর্বদা এগিয়ে মানুষ। সে গড়িয়াহাট বা ধর্মতলায় হোক কিংবা অনলাইন। কেনাকাটার ক্ষেত্রে কিন্তু কোনো কার্পণ্য দেখায় না মানুষ। সে জামা কাপড় হোক, ঘরের আসবাব পত্র হোক, সাজের জিনিস হোক, দৈনন্দিন প্রয়োজনের জিনিস হোক, কিংবা গল্পের বই হোক। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে, বাড়ির বাইরে বের হয় কিন্তু বেশ মুশকিল। কারন এখন বারবার বলা হচ্ছে খুব জরুরি কাজ ছাড়া, খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে না বের হন। আর এ ক্ষেত্রে যাঁরা একটু কেনাকাটা প্রেমিক তাঁদের কিন্তু বেশ খানিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। জানতে পারছেন না গড়িয়াহাট বা ধর্মতলায়। তাই এই মুহূর্তে একটাই উপায় থাকছে খোলা তা হল অনলাইন দোকান। এখন অনলাইন মাধ্যমেই মানুষ পেয়েছেন ভরসা।

বর্তমানে সারা দেশ তথা সারা রাজ্য জুড়ে চলছে আনলক ২ পর্ব। তবে করোনার জেরে রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় চলছে লকডাউন। আর এই পরিস্থিতিতে মানুষ কতটা অনলাইন দোকানের উপর নির্ভর হয়ে উঠেছেন তাঁর উপরেই ওপিনিয়ন টাইমস চালায় একটি সার্ভে। যেখানে অনেকেই বলেন তাঁরা কীভাবে অনলাইন দোকানের উপর নির্ভরশীল।

এই বিষয়ে এক অফিস কর্মী অর্চিতা সর্দার কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ” এই মুহূর্তে বাড়ি বসে হচ্ছে অফিসের কাজ। বাইরে যা পরিস্থিতি তাতে বের হওয়া মানে বেশ ঝুঁকির বিষয়। অন্যান্য সময়ে ধর্মতলায় বহু বার কেনাকাটা করতে গেছি, কিন্তু এখন তার আর অবকাশ নেই, তাই অনলাইন এর সম্পূর্ণ ভরসা। ছোটখাটো প্রয়োজনের জিনিস থেকে শুরু করে, দৈন্দিন জিনিসের উপরও কিন্তু ভীষণভাবে নির্ভর অনলাইনের উপর। হ্যাঁ অন্য সময়ের তুলনায় এখন একটু দেরি হচ্ছে পরিস্থিতির জেরে, তবে এই বিষয়টা এই মুহূর্তে বেশি সুরক্ষিত আমার কাছে। “

এরপর একজন শিক্ষার্থী লিসা দাসকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, কলেজ বন্ধ, পড়াশোনাও হচ্ছে অনলাইনে। বাড়ির বাইরে যেতে পারছি না। তাই কিছু কিনতে গেলে বেশিরভাগটাই ভরসা করতে হচ্ছে অনলাইনের উপর। পড়ার বই থেকে শুরু করে গল্পের বই সবটার জন্যই কিন্তু এখন অনলাইনের উপর করতে হচ্ছে ভরসা। আর দৈন্দিন জিনিসপত্র তো রয়েইছে।

এরপর রাজারহাটের বাসিন্দা নম্রতা ঘোষকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমার বাড়ির কাছে বেশ কিছু এলাকায় লকডাউন চলছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হচ্ছি না, কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটাই। তাই এই সময়ে টুকিটাকি জিনিস কিনতে ভয় করছে যে কোনো জায়গা থেকেই। অনলাইনে কিনতেও তেমন একটা ভরসা পারছি না, সুরক্ষার বিষয় ভেবে। কিন্তু বাড়ির বাইরে গিয়ে কেনাকাটা করা আরও ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে যায়, তাই উপায় না পেয়েই অনলাইন কিন্তু ভরসা। যদিও অন্য সময়, গড়িয়াহাট আর ধর্মতলাকেই বেশি প্রাধান্য দিই কেনাকাটার জন্যে। অনলাইন ছাড়া এখন উপায় নেই তাই সেটাকেই ভরসা করে চলছি। “

আর এক চাকুরীজীবি শ্রীলেখা ব্যানার্জিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ” এই মুহূর্তে কিন্তু পুরোপুরিভাবে বন্ধ রেখেছি গড়িয়াহাট, ধর্মতলা। অবশ্য এই অভ্যেসটা বেশ আগেই সময়ের অভাবে ছেড়ে গেছিল। তাই অনলাইন একপ্রকার জামাকাপড় কেনার ক্ষেত্রে একটি বড় ভরসা হয়ে গেছিল। আর লকডাউনেও তার অন্যথা কিন্তু হয়নি। জামা কাপড় কেনার জন্য আগাগোড়া ভরসা অনলাইন,আর এখনও কিছু কিনতে হলে ভরসা নিচ্ছি তারই। “

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে মানুষ এই লকডাউনের জেরে এখন অনলাইনের উপর হয়ে উঠেছেন এখন অনেকটাই নির্ভরশীল। যদিও অনেকে কিন্তু আবারও ফিতে যেতে চান সেই গড়িয়াহাটের গলিতে, ধর্মতলার ভিড়ে। কারন সেখানে রয়েছে এক আলাদা জীবন, আলাদা অনুভূতি। তবে অনলাইন মাধ্যমে সহজেই বাড়ি বসে পাওয়া যাচ্ছে পছন্দের এবং প্রয়োজনের সকল বস্তু।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: