Education Opinion

পদ্মশ্রী সুজিত চট্টোপাধ্যায়, আউশগ্রামের ‘মাস্টারমশাই’ শিক্ষার আলো জ্বেলে চলেছেন নিরন্তর

৩ পড়ুয়া থেকে বেড়ে ৩৫০ পড়ুয়া, বছরে ২ টাকা গুরুদক্ষিণা এই উদয়ন পন্ডিতের

মধুরিমা সেনগুপ্ত: ‘সদাই ফকিরের পাঠশালা’র মাস্টারমশাই সম্মানিত হলেন পদ্মশ্রী তে। আউশগ্রামে দীর্ঘ দিন ধরে একটি শিক্ষাকেন্দ্র চালান সুজিত চট্টোপাধ্যায়। প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে তিনি ” পদ্মশ্রী ” সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। সেই ‘সদাই ফকিরের পাঠশালা’য় প্রায় ৩০০ পড়ুয়া পড়াশোনা করে। আর পড়ুয়া পিছু ‘গুরুদক্ষিণা’ বছরে মাত্র ২ টাকা। অবিশ্বাস্য হলেও দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সুজিতবাবু এরকম করেই ক্রমাগত শিক্ষার আলো জ্বেলে চলেছেন। ঘরের লাগোয়া লম্বা বারান্দা, মাথার উপরে টালির ছাদ। আর সেখানেই সার দিয়ে বসে পড়াশোনা করে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীরা। আর তাদের মাঝে থাকেন সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি পরা ৭৭ বছরের এক অশীতিপর বৃদ্ধ। বিরামহীন ভাবে একনিষ্ঠ হয়েই তিনি চালিয়ে যান পঠনপাঠনের কর্মসূচি। এককালে তিনি রামনগর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। আর এখন তিনি ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর আদরের ‘মাস্টারমশাই’।

সুজিতবাবুর এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালে অবসর গ্রহণের পর থেকেই। জানা যায় একদিন তিনজন ছাত্রী এসে তাঁর কাছে পড়ার জন্য অনুরোধ করলে কন্যাসমা ছাত্রীদের অনুরোধ ফেলতে পারেননি তিনি। সেই থেকেই শুরু তার ‘সদাই ফকিরের পাঠশালা’। ৩ জন ছাত্রী থেকে সংখ্যাটা ৩০০ পেরোলেও মাস্টারমশাই রয়েছেন আগের মতোই। ক্লাস শুরু হয় সকাল ছ’টায় এবং শেষ হয় সন্ধে ছ’টায়। অন্যান্য স্কুলের মতো নিয়মের কড়াকড়ি আছে এই পাঠশালাতেও। বাকি বিদ্যালয়গুলির মতো এখানে আছে রেজিস্ট্রারের খাতা, হয় পেরেন্ট-টিচার মিটিংও। ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকাংশই প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী এবং তাদের মধ্যে অনেকেই আদিবাসী সম্প্রদায়ের। এছাড়াও জানা যাচ্ছে পড়ুয়াদের ৮০%-ই মেয়ে বিভিন্ন দুঃস্থ পরিবার থেকে আসা ছাত্রছাত্রী বা যারা টাকার অভাবে পড়তে পারেনা তাদের জন্যই সুজিতবাবুর এই পাঠশালা।

পাঠশালার ছাত্রছাত্রীরা কিন্তু পরীক্ষায় যথেষ্ট ভালো ফলাফল করে। সুজিতবাবু তাঁদের বাংলা ও ভূগোল পড়ান, কলেজ পড়ুয়াদের পড়ান বাংলা। এবং শুধু পড়ানোই নয় পাশাপাশি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের জন্য অনুদানও সংগ্রহ করেন তিনি। এখনও অবধি সুজিতবাবু ৬০টি শিশুর জন্য অনুদান তুলেছেন। সম্প্রতি দ্য টেলিগ্রাফ এডুকেশন ফাউন্ডেশনের তরফ থেকে তাঁকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট দেওয়া হয়েছে। আজকালকার সমাজে এই রকম উদয়ন পন্ডিত আরো জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করুক ছাত্রছাত্রীদের এটাই কাম্য।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: