Big Story

বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা ” বাবা পুলিশ কর্মী ছেলে গ্যাংস্টার জয়পাল ভুল্লার ” -STF গুলিতে মৃত -২

আন্তঃরাজ্য গ্যাংস্টার জয়পাল ভুল্লার সহ যশপ্রীত জার্সি দুষ্কৃতী নিহত , খোঁজ চলছে শহর জুড়ে আরো অনেকের। কাদের যোগ সাজিসে এই করার চক্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা : পুলিশ আবাসনের পাশেই খাস কলকাতা শহরে শ্যুটআউট। পুলিশের সঙ্গে দুষ্কৃতীদের গুলির লড়াইয়ে মৃত হল দু’জনের। জানা গিয়েছে, নিউটাউনের সাপুরজি এলাকায় কলকাতা পুলিশের STF টিমকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে একদল দুষ্কৃতী। সেই সময়ই পাল্টা এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় দুই দুষ্কৃতীর। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ডি -১৫৩ বিল্ডিং থেকে গুলি চালানোর শব্দ শোনা যায়। জানা যাচ্ছে পাঞ্জাবের থেকে আসা দুষ্কৃতী।

সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে এই জয়পাল ভুল্লার হচ্ছে পাঞ্জাবের বাসিন্দা , এর আসল নাম মনজিৎ সিং। জয়পালের বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের কর্মী , এসআই পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। জয়পাল ওরফে মনজিৎ সিং জাতীয় স্তরের খেলায় অংশগ্রহণ করেছে।

কিন্তু কেন এই পথে জয়পাল ওরফে মানজিৎ সিং : সূত্র মারফত জানাযাচ্ছে জয়পাল এর সাথে জিমে পরিচয় হয় সেরা নামের আরেক দুস্কৃতির। তার পরথেকে বেআইনি কাজে যুক্ত হয়ে পরে। জয়পাল ওরফে মানজিৎ সিং এই অন্দকার জগতে জড়িয়ে যাবার খবর তার বাবার কাছে অনেক দেরিতে যায় ,এর পর জয়পাল ওরফে মানজিৎ কে হাত ছাড়া করতে চান নি তার বাবা । যেখানে পোস্টিং হত সেখানেই নিয়ে যেত। কিন্তু জয়পালের বাবার এর পর চাকরির পদোন্নতি হয়ে পাঞ্জাবেই ট্রেনিং স্কুলে পোস্টিং হয় ৬ মাসের জন্য। এই সুযোগে প্রথম অন্ধকার জগতে নাম উঠে আসে পুলিশের খাতায়। এই পর আর ফিরে আসেনি জয়পাল , অন্ধকার জগতের বেতাজ বাদশা হিসাবে নাম উঠেআসে পাঞ্জাব , হরিয়ানা ও চন্ডিগড় সহ আরো কয়েকটি রাজ্যে। এই ঘটনা বাড়ার সাথে সাথেই পরিবারের ওপর নেমে আসে পুলিশের অত্যাচার। এই সময়ে লুধিয়ানা , ভাটিন্ডা ও চন্ডিগড় জেলে আসাযাওয়া নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়ায় জয়পালের ।

৫০ শে’র বেশি অভিযোগ খুন , ডাকাতি রাহাজানি সহ নেশার কারবারের অভিযোগ। যখন চন্ডিগড় জেলে ছিল জয়পাল , তখন সেই জেলে পরিচয় হয় যশবিন্দার সিং রকির সাথে। এই রকি ছিলেন রাজনীতির সাথে যুক্ত হলেও বড় ধরণের দুষ্কৃতী। যশবিন্দার সিং রকিও খুন হয়ে যান ২০১৬ সালে। এর পর জয়পাল তার বাবাকে প্রতিশ্রুতি দেয় আর অন্যায় করবে না। তারপর জয়পালের বাবা আদালতে জামানত করিয়ে বাড়ি নিয়ে যায়।

কিন্তু এর কিছুদিন পর জয়পাল আবারও অন্ধকার জগতে ফিরে যায় , তারপর জয়পাল শেরা জিডি নামক দুস্কৃতির সাথে যুক্ত হয়ে অনেক অপরাধমূলক কাজ করে। ব্যাঙ্ক ডাকাতি থেকে অস্ত্র কারবার সহ সুখদেব সিং নামের একজনকে হত্যা করে আলোড়ন ফেলেদেয় আন্তঃরাজ্য মাফিয়াদের দুনিয়াতে।

কুখ্যাত গ্যাংস্টার রকির মৃত্যর পরে এই অন্ধকার জগতের বেতাজ বাদশা হিসাবে নিজের নাম তুলে ধরে। ফেসবুকে নিজের স্বীকারোক্তি দেয় বলেই অভিযোগ যে তিনিই এই রকি কে খুন করেছেন। এর পর রকির খুনের তদন্ত শুরু হয়। জয়পালের ঘনিষ্ট বন্ধু চান্দু এখনো পাঞ্জাবের জেলে বন্দি আছে।

ঘটনার জেরে আতঙ্কিত এলাকাবাসী। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার। বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ওই এলাকায়। আরও কোনও দুষ্কৃতী সাপুরজি আবাসনে লুকিয়ে রয়েছে কি না, তল্লাশি চালিয়ে দেখছে পুলিশ। দুষ্কৃতীরা কত দিন সাপুরজি আবাসনে লুকিয়ে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে সুদূর পাঞ্জাব থেকে এই বাংলাতে জয়পালের মত দুস্কৃতির চলে আসা , তাহলে মাঝের যোগাযোগটা কার সাথে। এই ঘটনার ফলে বিপদ থেকেই যায় যে, আপাতত পুলিশ বড়সড় সাফল্য পেলেও আরো কি কেও আছে এই খাস কলকাতায়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: