Entertainment

মুক্তি পেল “শেষ বেলায়” কী বলছেন পরিচালক রজত সাহা

মন ভালো করার এক ভিন্ন স্বাদের গল্প, আলাদা হয়েও থেকে গেল চন্দ্রা অর্পিতের বন্ধুত্ব

দেবশ্রী কয়াল : মুক্তি পেয়ে গেল অপেক্ষাতীত “শেষ বেলায়” (Sesh Belay)। চন্দ্রা আর অর্পিতের গল্প শোনার অপেক্ষায় ছিলেন দর্শকরা। ওয়ান লাভ মিডিয়াতে (One Love Media) শেষ বেলায়-র টিজার বার হওয়ার পর থেকেই দর্শক জানতে চাইছিল তার গল্প। এই শর্ট ফিল্মটি মুক্তি হওয়ার আগে তা নিয়ে হয় অনেক খেলা, সেখান থেকে জানা যায় অনেক দর্শকই নিজেদেরকে রিলেট করতে পারছেন তার থেকে। আর থেকেই জাগে আশা। এখন দেখার পালা দর্শকরা কেমন ভাবে নেন এই সিনেমাকে।

শেষ বেলায়-এর টিম

এই সিনেমা নিয়ে খানিক গল্প করতে আমরা টেলিফোনিক মাধ্যমে পৌঁছে যাই পরিচালক রজত সাহার (Rajat Saha) কাছে। তার তখনই জানা যায় অনেক গল্প। পরিচালক রজতকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় এই সিনেমা নিয়ে তাঁর এক্সপেক্টেশন কতটা তিনি জানান, ” বেশ ভালোই এক্সপেক্টেশন রয়েছে “শেষ বেলায়” থেকে। কারন এবারের গল্পটা আমাদের অন্যান্য গল্পের থেকে বেশ অনেকটাই কিন্তু আলাদা। আমাদের ওয়ান লাভ মিডিয়াতে আগের ছবি গুলিতে বেশিরভাগ রোম্যান্টিক আর ট্রাজেডি দেখানো হয়েছে। তবে এবারে তাতে খানিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। দর্শকরাও জানিয়েছিলেন তাঁরা এবার কিছু আলাদা চান, শেষভাগতা তার আর বিয়োগ দেখতে চান না, তাই তাঁদের আবদারেও এবারের গল্পের নতুন মোড় রয়েছে। এবারে রয়েছে রোম্যান্টিক কমেডি, একটু ভালোবাসা আবার একটু দুঃখ, আবার শেষে সব মেনে হাসি মুখে সামনে এগিয়ে চলা। আশা করছি এবারে সিনেমার শেষে আমরা দর্শকের মুখে হাসি ফোটাতে পারব।”

“শেষ বেলায়”

এখনও পর্যন্ত বেশ অনেকগুলি শর্ট ফিল্ম করেছে ওয়ান মিডিয়া প্রোডাকশন, মাঝে খানিক বিরতি থাকলেও তারা আবার ফিরে এসেছে। সেখানে এই টিমের সাথে পরিচালকের কাজ করার এক্সপেরিয়েন্সের গল্প জানতে চাইলে তিনি জানান, ” ক্যামেরার পিছনে যাঁরা কাজ করেন তাদের সাথেই আমরা একদম প্রথম থেকে কাজ করছি, তবে সিনেমার অভিনেতা অরুনাভের (Arunava)সাথে এই প্ৰথম কাজ। অবশ্য অভিনেত্রী লহরী (Lahari) এর আগেও আমাদের প্রোডাকশনে কাজ করেছেন। এছাড়া দেবর্ষি (Deborshi)ও অভিজ্ঞান (Abhigyan)কাস্ট হিসাবে নতুন এই টিমে। তবে আমরা সবাই মিলে একটা ফ্যামিলির মতো কাজ করেছি, খুব হয় হুল্লোড় করেছি। “

বর্তমান এই পরিস্থিতিতে এখন যে কোনো কিছু কাজ করতে গেলেই সম্মুখীন হতে হচ্ছে নানান সমস্যার। তাই এই পরিস্থিতিতে কিভাবে শেষ বেলায়-এর টিম কাজ করেছে তা জিজ্ঞাসা করলে জানা যায়, তাঁরা সকলেই সুরক্ষার দিকে বিশেষ নজর রাখত। মাস্ক পড়া ও নিয়মিত নিজেদের জামাকাপড় থেকে শুরু করে ব্যাগ, ফাইল, প্রত্যেকটি ছোট ছোট জিনিসকে স্যানিতাইজ করা ছিল বাধ্যতামূলক। সবার খাবার জোগাড় ও আলাদা করে রাখা হতো, তারপর খাওয়া হয় গেলে নির্দিষ্টি স্থানে তাকে ফেলা। মোটমাট সবরকম হাইজেনিক বিষয় গুলিকে মাথায় রেখে হয়েছে শেষ বেলায়-এর শুটিং।

প্রত্যেকটি সিনেমার শুটিং এর মাঝে এমন একটা ঘটনা ঘটেই থাকে যা মনে রাখার মতো একটা বিশেষ মুহূর্ত হিসাবে বন্দি থাকে। ঠিক এমন একটি ঘটনার কথা আমরা পরিচালক রজত সাহাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, “একটি বেশ মজার ঘটনা ঘটেছিল শুটিং এ, সিনেমারই এক দৃশ্যতে হিরোইন লহরী অরুণাভকে চড় মারবে। কিন্তু এই চড়টা কোনো রাগে বা দুঃখে নয় বরং এই চড়টা একটা কমেডি সিন ছিল। কিন্তু কিছুতেই সেই কমিক টাইমিংটা ওদের থেকে আমরা পাচ্ছিলাম না। শেষে ১৯টার মতো চড় খাওয়ার পর ঠিকঠাক আসে। কিন্তু আমাদের সকলের বেশ জিনিসটা মজার লাগছিল তাই পারফেক্ট শর্ট হয়ে যাওয়ার পর আমরা ক্যামেরা বন্ধ রেখেই শুটিং এর ভান করছিলাম। আর সেই চক্করেই বেশ ৫-৬টা এক্সট্রা চড় পড়েছিল অরুনাভের গালে। এই গোটা বিষয়টাই বেশ সবার কাছে খুব মজার হয়ে দাঁড়ায় পরে।”

পরিচালককে রজতকে অল্প করে “শেষ বেলায়” এর গল্প দর্শকদের শোনাতে চাইলে তিনি বলেন, ” কাহিনীতে চন্দ্রার বিয়ে আর সেই বিয়েতে ফটোগ্রাফারের দায়িত্ব এসেছে তাঁর প্রাক্তন অর্থাৎ এক্স বয়ফ্রেন্ড অর্পিত। যেখানে অর্পিত চন্দ্রাকে বারবার এড়িয়ে যেতে চায় কিন্তু জোর করে কোনো এক কারনে চন্দ্রা অর্পিতকে ডেকে আনে। এখানে আসে গল্পে টুইস্ট, চন্দ্রা একজন বন্ধু হিসাবে অর্পিতকে জানায় তাঁকে এখন উদ্ধার করতে হবে। চন্দ্রা অর্পিতকে বন্ধু হিসাবে চায়। অরুনাভ সেটাকে বোঝে। চন্দ্রা প্রেমিকা হিসাবে জীবন থেকে গেলেও বন্ধু হিসাবে রয়ে গেল সেকথা নিয়েই এগিয়ে চলে অর্পিত। তবে এর মাঝের গল্প জানতে চাইলে কিন্তু অবশ্যই দেখতে হবে শেষ বেলায়। যা ইতিমধ্যেই আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ওয়ান লাভ মিডিয়াতে মুক্তি পেয়ে গেছে। তাই চন্দ্রা অর্পিটকে কেন ডাকলো আর কী জন্যেই বা তাকে উদ্ধার করতে হবে তা জানতে গেলে অবশ্যই দেখতে হবে আমাদের ” শেষ বেলায় “।

ওয়ান লাভ মিডিয়া কামব্যাক করে “পাতা ঝরার দিনে” দিয়ে আর সেখানে বেশ দারুন রেস্পন্স পাওয়া যায়। “শেষ বেলায়” স্বে মাত্র মুক্তি পেয়েছে তার আগেই অবশ্য তা নিয়ে বেশ চর্চা চলেছে। তাই আশা করা হচ্ছে এই সিনেমাটাও বেশ ম্যাজিক হতে চলেছে। কারন এবারের গল্পটা একটু আলাদা। সুতরাং দর্শকদের তো একটা আশা থেকেই যাচ্ছে, তারা অপেক্ষা করবে ওয়ান লাভ মিডিয়ার আগামী প্রজেক্টের জন্যে। তাই তাদের আগামী প্রজেক্ট কী কী তার প্রশ্ন নিয়ে রজত সাহার কাছে হাজির হলে তিনি জানান, আপাতত সামনে ৩টি প্রজেক্ট রয়েছে। একটি হল “হৃদ মাঝারে” সেখানেও অভিনেত্রী হিসাবে রয়েছে লহরী। তবে কবে এটাকে মুক্তি দেওয়া হবে তা এখনও ভাবা হয়নি। বাকি দুটির শুটিং হয়েছে তবে এখনও পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শুরু হয়নি আর নামও ঠিক হয়নি। তবে এই দুটি সিনেমা হয়ত আমরা আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করব না, অন্যান্য কোনো অটিটি প্ল্যার্টফর্মে প্রকাশ করব। এখনও তার কিছুই অবশ্য ঠিক হয়নি। সবটাই পরিকল্পনা পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে চলছে এই মুহূর্তে।

সবশেষে “শেষ বেলায়” নিয়ে পরিচালক রজত সাহা দর্শকদেরকে কী বার্তা দেবেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আশা করছি গল্পটা ভালো লাগবে আপনাদের, এখনও পর্যন্ত বেশ অনেকের জীবনের সাথেই আমাদের এই কাহিনীর গল্প মিলে যাচ্ছে। এই সিনেমাটা দেখার পর হয়ত মন ভালো হবে বা মুখে হাসি ফুটবে বা কারোর হয়ত একটু মন খারাপ হতে পারে। তবে তাও বলব সবাই সিনেমাটা দেখুন আর প্রচুর প্রচুর করে শেয়ার করুন। কারন একমাত্র শেয়ার হলেই বেশি মানুষ দেখতে পারবেন। কমেন্ট করে জানাক কি ভালো লাগল কোনটা খারাপ লাগল, কোনো বিষয়ের উপর আমরা আরও কাজ করতে পারি। ইউটিউবে তো টাকা লাগে না কিছু দেখতে, তাই এটাই চাই সবাই দেখুন এবং নিজেদের বন্ধুদের সাথে পরিবারের সাথে তা ভাগ করে নিন। ফেসবুক, কিংবা হোয়াটস অ্যাপে শেয়ার করুন। “

তাহলে আর অপেক্ষা কিসের, মুক্তি পেয়ে গেছে ওয়ান লাভ মিডিয়া প্রোডাকশনের “শেষ বেলায় “। বেশি দেরি না করে দেখে নিন এই নতুন গল্প, চন্দ্রা আর অর্পিতের। সাথেই করুন শেয়ারস আর কমেন্টস।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: