West Bengal

তবে কি ছেলের সুবাদেই অপসারণ শিশির অধিকারীর ?

দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারিত করা হলো শিশির অধিকারীকে

মধুরিমা সেনগুপ্ত : তাহলে কি ছেলের সুবাদেই পদচ্যুত হলেন বাবা! শুভেন্দু অধিকারীর ওপর তীব্র আক্রোশ থেকেই কি দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হল শিশির অধিকারীকে (Sisir Adhikari)! আপাতদৃষ্টিতে এমনটাই কিন্তু মনে করছেন অনেকে। তার এই অপসারণ অধিকারী পরিবারের সঙ্গে রাজ্যের তিক্ততা বাড়ার ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। শিশির অধিকারীর জায়গায় সেই পদে নিযুক্ত হন অখিল গিরি।

কিছুমাস আগেও শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে চরম রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছিল। দলের পতাকা ছাড়াই তাকে দেখা যাচ্ছিলো বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে।পরবর্তীকালে তার অনুগামীরা অনেকটাই স্পষ্ট করে দেয় শুভেন্দুর অবস্থান। বিধায়ক সহ যাবতীয় পদ ছেড়ে তৃণমূল থেকে বিদায় নেন শুভেন্দু অধিকারী। যোগ দেন গেরুয়া শিবিরে। তবে এসবের পরে অধিকারী পরিবারের বাকি তিন সদস্য শিশির অধিকারী, দিব্যেন্দু অধিকারী ও সৌমেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন তারা মা-মাটি-মানুষের সাথেই আছেন। কিন্তু শাসকদলের কোনো মিটিং মিছিলে তাদের দেখা যায়নি, ফলে অন্য দোলে যোগদান করা নিয়ে জল্পনা বাড়ে রাজনৈতিক মহলে।

এই জল্পনা কল্পনার মাঝেই কিছুদিন আগে কাঁথি পুরসভার প্রশাসক পদ থেকে শিশিরপুত্র সৌমেন্দুকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কার্যতই সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী।অখিল গিরির মিথ্যে অভিযোগের কারণেই অনিয়মের শিকার হতে হচ্ছে তাঁর ভাইকে এমনটাই অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন তিনি। ঘটনাটি আদালত পর্যন্ত ও পৌঁছে যায়। তারপরেই দেখা যায় শুভেন্দুর হাত ধরেই গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন সৌমেন্দু। এখনো শাসকদলের সাথে রয়েছেন শিশির ও দিব্যেন্দু। কিন্তু সোমবার রাতে দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতির পদ থেকে শিশির অধিকারীকে রাজ্য সরকার বাদ দেয় এবং সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় অখিল গিরিকে। আশংকা করা হচ্ছে এজে তৃণমূলের ভরসায় ফাটল ধরেছে বলেই এই পদচ্যুতি। তবে এ বিষয়ে এখনো শিশির বাবুর কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: