Big Story

নেই ফেলু মিত্তির, রয়ে গেল তাঁর শেষ কাজ ‘‌আমি সৌমিত্র’

শোকস্তব্ধ সবাই, আর দেখা যাবে না সেই মন ভোলানো হাসি

দেবশ্রী কয়াল : শেষ হল এক যুগ, ঘটল সৌমিত্র যুগের অবসান ! এই কিংবদন্তি যে আজ আর আমাদের মধ্যে বেঁচে নেই তাই যেন ভাবতেই কঠিন লাগে। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত সবাই, কেউই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর এইভাবে চলে যাওয়াটা। তবে বাংলা সিনেমা, বাংলা নাটক, বাংলা সংস্কৃতি যত দিন থাকবে, ততদিন তিনি সবার মনে থাকবে। কারন শিল্পীর যে কখনও মৃত্যু ঘটে না, তাঁর সব কাজ চিরদিনের মতো লেখা থাকে উজ্জ্বলভাবে। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (Soumitra Chatterjee) যে কী বড় মাপের অভিনেতা তা বলার কোনো অপেক্ষা রাখে না, তবে একজন মানুষ হিসাবেও তিনি ছিলেন উদার, সর্বদা রুচি সম্পন্ন।

তাঁর শেষ শুটিং ছিল গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ভারতলক্ষ্মী স্টুডিওতে (Bharatlaxmi Studio)। তাঁকে নিয়ে তৈরি হচ্ছিল এক দীর্ঘ ডকু-‌ফিচার, যার নাম ‘‌আমি সৌমিত্র’‌ (Ami Soumitra)। এই তথ্যচিত্রে শুধু অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নন, কবি, নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, চিত্রকর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিচয়ও স্পষ্ট হয়ে ওঠার পরিকল্পনা ছিল পরিচালক সায়ন্তন মুখোপাধ্যায়ের (Sayantan Mukhopadhay)। এই কাজে সৌমিত্র-‌কন্যা পৌলোমী চট্টোপাধ্যায়ও প্রচুর সাহায্য করেছেন বলে জানান পরিচালক।

৩০ সেপ্টেম্বরের শুটিংয়ে তাঁর সঙ্গে অংশ নেন পরিচালক সন্দীপ রায় (Sandip Ray)ও সব্যসাচী চক্রবর্তী (Sabyasachi Chakrabarty)। সেদিনের সেই দীর্ঘ আড্ডাকে রাখা হয়েছিল ক্যামেরা বন্দি করে। মূলত সত্যজিত্‍ রায় (Satyajit Ray) ও ফেলুদাকে নিয়ে আলোচনা শুট করা হয়। সন্দীপ রায় জানিয়েছেন, খুব উত্‍সাহের সঙ্গে শুটিং করেন তিনি। আলোচনা হয় ফেলুদাকে (Feluda) নিয়েও। সত্যজিত্‍ রায়ের ‘‌ফেলুদা’‌ তিনি স্বয়ং। আর, সন্দীপ রায়ের ‘‌ফেলুদা’‌ হলেন সব্যসাচী চক্রবর্তী।

সেদিন দুই ফেলুদার আড্ডাও খুব জমজমাট হয় বলে জানিয়েছেন তথ্যচিত্রের পরিচালক। কিন্তু তার ৬ দিন পরেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ ৪০ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েন কিন্তু শেষ পর্যন্ত অপু অ-পরাজিত। অসমাপ্ত রইল তথ্যচিত্রের কিছু কাজ। তবুও, যে ক’‌দিন শুটিং হয়েছে, সেটাই অমূল্য। তাই সেইসব অংশ নিয়েই সম্পূর্ণ হবে তথ্যচিত্র ‘‌আমি সৌমিত্র’‌।‌ তাঁর এই শেষ কাজ হবে খুবই বিশেষ। বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান অপরিসীম। তাঁর চলে যাওয়াতে যে শূন্যস্থান তৈরী হয়েছে তা কখনও পূর্ণ হওয়ার নয়। দীপাবলির আলোকে অন্ধকার করে আকাশের তারা হলেন ফেলু মিত্তির।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: