Big Story

“আমাদের গেছে যে দিন একেবারেই কি গেছে, কিছুই কি নেই বাকি?” চলে গেলেন সকলের প্রিয় অপু

হয়ত এভাবে না হতে পারত শেষটা, থেমে গেল ৪০ দিনের কঠিন লড়াই

পৃথা কাঞ্জিলাল : ” হিসেবে মিলছে না রে তোপসে”; রহস্যের হিসেবে না মিললেও মিলিয়ে দিয়েছেন যিনি তিনি জীবনের হিসেবটা মেলাতেন পারলেন না। প্রয়াত হলেন বর্ষীয়াণ অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (Soumitra Chatterjee)। আজ বেলা ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ বেলভিউ হাসপাতালে (Bellevue Nursing Home) তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রয়াণকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি করোনা ভাইরাসে ( কোভিড এনসেফেলোপেথি) আক্রান্ত হয়েছিলেন।

করোনা থেকে সুস্থ হলেও ক্রমেই কোমর্বিডিটির কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপের দিক চলে যায়। করা হয়ে প্লাসমা টেস্ট। গত শুক্রবার থেকে অবস্থা একেবারেই খারাপ হতে থাকে। মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দেয়। চলে যায় চেতনা। সৌমিত্রবাবুকে ১০০ শতাংশ ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। সব ধরনের চেষ্টা করেও ফেরানো গেলোনা তাঁকে। চিকিৎসকরা জানান মৃত্যু কালে তিনি গভীর কোমাতে চলে গিয়েছিলেন, তাঁকে ফিরিয়ে আনার আর কোনো রাস্তাই ছিল না। তাঁর মৃত্যুতে শোকগ্রস্ত গোটা চলচ্চিত্র জগত্‍। কেউই মেনে নিতে পারছেন না এই নক্ষত্রের চলে যাওয়া, যেন হল এক যুগের অবসান।

১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি জন্ম কিংবদন্তির। অভিনেতা হিসেবে তাঁর ডানা অনেকটাই বিস্তারিত এমনকি আবৃত্তি শিল্পি হিসেবেও তাঁর নাম অত্যন্ত সম্ভ্রমের সাথেই উচ্চারিত হয়। তিনি কবি এবং অনুবাদকও। বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিত্‍ রায়ের (Satyajit Roy)৩৪টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতে অভিনয় করেছেন। তাঁর প্রথম সিনেমা “অপুর সংসার”, (Apur Songsar) আর সেই অপু আজও সবার মনের মধ্যে বিরাজ করছে। সত্যজিত্‍ রায়ের দ্বিতীয় শেষ চলচিত্র শাখা প্রশাখা-তেও তিনি অভিনয় করেন। তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় “ফেলুদা” হিসেবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পরিচালক তমাল দাশগুপ্ত র (Tamal Dashgupta)কথাতে ” উনি আমার একটি ডকুমেন্টারি তে ভয়েস দিয়েছিলেন এবং WMT 9615 বলে যে ছবিটি করেছিলাম তাতে একটু চরিত্র করেছিলেন। বাবার লেখা গল্প শেকড়ের প্রধান চরিত্রে ওনাকে নিয়ে কাজ করবার কথা ছিল। চিত্রনাট্য প্রাথমিক ভাবে শুনে ওনার ভীষণ ভালো লেগেছিলো। আমাকে শুধু বলেছিলেন,- ছবিটা আরও কয়েক বছর আগে করতে পারতে। সেই চিত্রনাট্য এন.এফ.ডি.সি-র অনুমোদনের অপেক্ষায়। কিন্তু অতিমারীর কারনে পিছিয়ে গেল ছবির কাজ। ওনার মতন অভিনেতা হয়ে না এই সময়ে দাঁড়িয়ে। পরিচালক হিসেবে কিছু বলাটা ধৃষ্টতা এবং আমাদের অনেক সাহায্য করেছেন, একটি শট অনেকবার করে ও নিয়েছিলেন বিনা বিরক্তি তে। ওনাকে হারিয়ে সত্যি কিছু বলার নেই আমার”

ইতিমধ্যে “বেলভিউ” এবং কন্যা র থেকে খবর ২:০০ নাগাদ মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে গল্ফ গ্রীন এবং সেখান থেকে টেকনিশিয়ান ষ্টুডিও। ৩:৩০ নাগাদ রবীন্দ্র সদন এ শায়িত ছিলেন ফেলুদা , আসবেন অনেক অনুরাগীরা জানিয়েছেন শেষ সম্মান। মুখ্যমন্ত্রী র তরফ থেকে জানা গেছে ৫:৩০ র পরে পদযাত্রা র মধ্যে দিয়ে এবং কেওড়াতলা মহা শ্মশানে গান সেলুট দিয়ে বিদায়ে ও নিয়েছেন তিনি।বাংলা চলচ্চিত্রের শিরস্ত্রাণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো একটি পালক, আজকে শুধু বারবার এ মনে পড়ছে তাঁর ই গলা এ ” আমাদের গেছে যে দিন একেবারেই কি গেছে, কিছুই কি নেই বাকি?” বারবার ই মন বলতে চাইছে , ফিরে এসো ফেলুদা, “দুষ্টু” লোকদের শাস্তি দেওয়া বাকি। সবশেষে একটাই কথা শিল্পীদের মৃত্যু হয় না কখনও, তাঁরা মনের মধ্যে সবসময় থাকে, তাঁর কাজ ইতিহাসের পাতায় জ্বলজ্বল করে। কেবল জীবন যুদ্ধের লড়াইটা স্তব্ধ হয়ে যায়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: