Education Opinion

মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে না , তবে মূল্যায়ন হবে কী ভাবে সেটা জানাবে কমিটি

জনতার থেকে কি মেধার বিচারে পিছিয়ে শিক্ষক সংগঠন ? প্রশ্ন উঠছে !

নিজস্ব সংবাদদাতা :মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা কি হওয়া উচিত ? , সেই নিয়ে বিতর্কের পারদ উর্ধমুখী। রাজ্যের ২০ লক্ষ কমবেশি ছেলেমেয়ের ” ভীবিষৎ কি সওয়াল “। তাই আজ নবান্নে জানিয়ে দিলেন মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে না , তবে মূল্যায়ন হবে।

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত শিক্ষা বিষয়ে বিশেষ কমিটি গঠন ও জনদরবারের মতামতে জন্য আহব্বান অন্য এক জল্পনার তৈরি করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি সংখ্যা :৫৯-এসএসই/২০২১ তারিখ ৬ জুন ২০২১ (59-SSE/2021, dated 06/06/2021) অনুসারে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সংক্রান্ত তিনটি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, ছাত্র-ছাত্রীদের তথা অভিভাবক-অভিভাবিকাদের মতামত আহ্বান করা হয়েছে।

এই ক্ষেত্রে যারা বিশেষ উল্লেখ্য যে শিক্ষক-শিক্ষিকা, যাঁরা প্রতিমুহূর্তে প্রতিটি শিক্ষার্থীর শিখন-শিক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকেন, তাঁদের মতামত জানতে চাওয়া হয়নি।এমনকি বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন, যারা শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকারকে নানান সময়ে তাদের সুপরামর্শ দিয়ে রাজ্যের শিক্ষা মানচিত্রের উজ্জ্বল চলমানতা বজায় রাখতে সবসময় সচেষ্ট, তাদেরও কোনো মতামত জানতে চাওয়া হয়নি কেন ? এর পিছনে কি যুক্তি আছে তাও জানবার চেষ্টা করা হয়েছিল, দফতর থেকে কিন্তু আধিকারিকরা বলেন এটা ওপর মহলের সিদ্ধান্ত।

৬ জুন ২০২১ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ৭ জুন ২০২১ দুপুর দুটোর মধ্যে এই মতামত প্রদানের সময়সীমা ধার্য্য করা হয়েছে। এতো কম সময়সীমার জন্য অধিকাংশ সাধারণ মানুষ, অভিভাবক-অভিভাবিকা/ পিতা-মাতা, ছাত্র-ছাত্রীরা জানতেই পারবে না যে সরকার থেকে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ধরণের মতামত কাঙ্খিত হলে এই সময়সীমাও বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। তাহলে প্রশ্ন উঠছে যদি পরীক্ষা নিয়ে স্বাধীন মতামত চেয়েই থাকেন সরকার তবে ২৪ ঘন্টার মধ্যে কি ভাবে ২৩ টি জেলার মানুষ এখানে তাদের মতামত জানাবেন ?

যেখানে করোনা অতিমারির প্রথম পর্যায়ের শেষ ধাপে যখন রাজ্যে কোভিড সংক্রমণের গ্রাফ ক্রমশঃ নিম্নমুখী হচ্ছিল এবং নিয়মিত অনলাইনে ক্লাস চালু ছিল, এমনকি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখ থেকে যখন স্কুলগুলো নবম-দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য খুলে দেওয়া হলো তখনও যদি পর্ষদ এবং সংসদের কর্তাব্যক্তিরা কোনরকম অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতেন তাহলে আজকে কিভাবে মূল্যায়ন হবে সেই প্রশ্ন ওঠার অবকাশই থাকতো না। ভোটের আগে নির্দিষ্ট কোন সিদ্ধান্তে পৌছাতেই পারলেন না রাজ্যের শিক্ষা দফতর , তার ফলে পরিক্ষাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্যের চূড়ান্ত ক্ষতির মুখে।

শিক্ষক সংঘঠনের অভিযোগ, যখন দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী বাতিল করা হয়েছিল, তখন যারা সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, পর্ষদ এবং সংসদের কর্তাব্যক্তিরা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সেই সমস্ত ব্যক্তি তথা সংগঠনের বিরুদ্ধে এমনভাবে বিষোদগার করেছিলেন যে সরকারকে কালিমালিপ্ত করার জন্যই যেন এই মন্তব্য গুলো করা হয়েছিল। যদিও আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বোঝা যাচ্ছে কতটা প্রাসঙ্গিক ছিল সেই দিনের এই সময়ের ভাবনাগুলি।

সব মিলিয়ে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বলা যায় দশম শ্রেণির পরীক্ষা/ মাধ্যমিক পরীক্ষা আয়োজন না করে নবমের প্রাপ্ত নম্বরকে যদি ফলাফল প্রস্তুতির জন‍্য বিচার করা হয়, তাহলে বিগত ১৮ মাস ধরে একই বিষয় নিয়ে ক্রমাগত পড়া এবং পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য যে সময় দশম শ্রেণির পড়ুয়ারা ব্যয় করল তার প্রতি চরম অমর্যাদা করা হবে। অতিমারির পরিস্থিতিতে অন্তত হোম এসাইনমেন্ট এর মাধ্যমেও যদি দশম শ্রেণীর পড়ুয়াদের মূল্যায়নের প্রয়াস নেওয়া হয় তাহলে অন্তত একজন পড়ুয়া মানসিকভাবে শান্তি পাবে এই ভেবে যে তার দশম শ্রেণীর প্রস্তুতির প্রতিফলন অন্ততপক্ষে তার মাধ্যমিক ফলাফল নির্ণয়ের জন্য বিচার করা হচ্ছে। নবম শ্রেণির ফলাফল – যার সঙ্গে বর্তমানে মাধ্যমিকের কোন সম্পর্ক ই নেই তা বিচার করা হলে পরীক্ষার্থী আগামী শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানান বিড়ম্বনা এবং হীনমন্যতার সম্মুখীন হবে।

এই বিষয়ে ABTA এর কলকাতা জেলা সভাপতি মৃন্ময় রায় বলেন ” রাজ্য সরকার দায়িত্ব শীল অবস্থান থেকে কোন কাজ করছেন না , এই সরকার সব সময় চটক দারিতে বিশ্বাসী। ফলে বাস্তবের চাহিদা কে এড়িয়ে যাবার প্রবণতা। আমরা গত ৬ তারিখ আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্য শিক্ষা দফতরকে লিখিত একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি , জানি না ওরা গুরুত্ব দেবে কিনা। কিন্তু বিগত বাম সরকারের আমলে বিশেষ ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের প্রস্তাবকে মান্যতা দিয়েই সরকার সিদ্ধান্ত নিত।

সৌগত বসু পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সংঘঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন , বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমাদের রাজ্যের ২০ লক্ষ ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ। এই দাবি বিগত বছরে আমরা শিক্ষা দফতরে পাঠিয়েছিলাম কিন্তু সেভাবে আগাম কোন পরিকল্পনা নিলেন না রাজ্য সরকার। আমরা সরকারি শিক্ষক , আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি কারণ এই ছাত্র ছাত্রীদের ক্ষেত্রে যদি সিদ্ধান্ত সঠিক না হয় তাহলে আগামী আমাদের ক্ষমা করবে না। আমাদের এই ক্ষেত্রে পরামর্শের জন্য না ডাকলেও আমরা আমাদের তরফ থেকে বেক্তিগত ভাবে পাঠিয়েছি আমাদের মতামত। এই বিপদে যদি আমাদের দরকার হয় রাজ্য সরকারের তাহলে আমরা সম্পূর্ণ সাহায্য করবো , তবে সরকারি সব উদ্যোগ থাকা দরকার।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: