Culture

আর মঞ্চে আসবেন না স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত

বেলাশুরু’ ছবি মুক্তির আগেই চিরবিদায় নিলেন অভিনেত্রী। তাঁর মৃত্যুতে সিনে দুনিয়ায় শোকের ছায়া। চির বিদায় স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত !

সুবীর ঘোষ, চলচ্চিত্র নির্মাতা : নাটক শুরু হবার অনেক আগে ঘুরে যাবার একটা ইচ্ছে সব সময় থাকতো। নিজের অভিনয়টা শুধু তাই নয় অন্যরা ঠিক তৈরি হল কিনা সেটা দেখা ছিল ওনার অভ্যাসের মধ্যে । শুধু যারা নাটক করেন তাদেরই না, সঙ্গে সঙ্গে দলের অন্যন্যদেরও সাথে একই বিষয়।

স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত ১৯৭০-এর শুরুর দিকে ইলাহাবাদে এ. সি. বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশনার অধীনে স্বাতীলেখা থিয়েটারে কাজ শুরু করেন। তিনি বি. ভি. কারাট, তাপস সেন ও খালেদ চৌধুরীর মতো লোকের উৎসাহও পেয়েছেন। ১৯৭৮ সালে তিনি কলকাতায় চলে আসেন এবং নান্দীকার নাট্যদলে যোগদান করেন। নান্দীকরে রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের নির্দেশনায় তিনি কাজ করতে থাকেন।

১৯৭৫ সালে সত্যজিৎ রায় নির্দেশিত ঘরে বাইরে ছবিতে ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সাথে তিনি মুখ্য নারী চরিত্রে অভিনয় করেন। দীর্ঘ ৩১ বছর পরে সৌমিত্রর সঙ্গেই পর্দায় ফিরলেন তিনি। প্রযোজক-পরিচালক নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে বড় পর্দায় দেখা যায় তাঁকে। ‘বেলা শেষে’ ছবিতে সৌমিত্র-স্বাতীলেখার রসায়ন দেখে আপ্লুত দর্শকদের জন্য ফের ‘বেলাশুরু’-তে অভিনয় করেন তাঁরা। কিন্তু ছবি মু্ক্তি পাওয়ার আগেই চলে গেলেন নায়ক-নায়িকা। গত বছর নভেম্বর মাসে মৃত্যু হয় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। বুধবার চলে গেলেন স্বাতীলেখাও।

স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত ১৯৮৪ সালে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পর্দায় অভিনয়ের যাত্রা শুরু। সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ছবি ‘ঘরে বাইরে’-র ‘বিমলা’ অভিনয় নিয়ে আজও প্রশংসায় পঞ্চমুখ বাংলা ছবির দর্শক।

ভারতীয় থিয়েটারে অভিনয়ে অবদানের জন্য ২০১১ সংগীত নাটক অকাডেমি পুরস্কারএর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ থিয়েটার জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন পুরস্কার পরবর্তী ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ নাট্য অকাডেমি পুরস্কার প্রাপ্তি ।

স্বাতীলেখা দীর্ঘদিন কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ২৫ দিন ধরে আই সি ইউ তে চিকিৎসা চলছিল। ২০২১, ১৬ই জুন বুধবার দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তার স্মৃতির প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: