Nation

এলিফেন্ট করিডর পরিষ্কার রাখতে হবে, নীলগিরিতে তৈরি সমস্ত রিসর্ট ভাঙার আদেশ শীর্ষ আদালতের

শীর্ষ আদালতের রায়ে ভাঙা পড়তে চলেছে মিঠুন চক্রবর্তী সহ একাধিক সেলিব্রিটি, নামী ব্যক্তির রিসর্ট

পল্লবী কুন্ডু : মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ-এ নিজস্ব রিসর্ট কার না ভালো লাগে। আর তাই-ই মিঠুন চক্রবর্তী সমেত একাধিক নামী-দামি ব্যক্তিরা রিসোর্ট তৈরী করেছিলেন তামিলনাড়ুর নীলগিরির পাহাড়ি অঞ্চলে। কিন্তু তা আজ প্রকৃতির জন্যই ভাঙা পড়তে চলেছে। ওই রিসর্ট গুলির খুব কাছেই এলিফেন্ট করিডরের অবস্থান। শীর্ষ আদালতের রায়ে ভাঙা পড়তে চলেছে মিঠুন চক্রবর্তী সহ একাধিক সেলিব্রিটি, নামী ব্যক্তির রিসর্ট। তামিলনাড়ুর নীলগিরির পাহাড়ি অঞ্চলে তৈরি ওই রিসর্ট গুলির কারণে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে হাতিদের চলাফেরায় ।

বুধবার রিসর্টগুলি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ২০১১ সালে এই একই ইস্যুতে মাদ্রাজ হাইকোর্টও রিসর্ট ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশেই এদিন সিলমোহর দিল শীর্ষ আদালতও। নীলগিরির পাহাড়ি অঞ্চলে মাদুমলাই ফরেস্টের সুরক্ষিত জায়গাই আইনি বিধি মেনেই রিসর্ট তৈরি করেছিলেন একাধিক জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। এর মধ্যে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীরও একটি রিসর্ট রয়েছে । কিন্তু ওই এলাকার আশপাশ দিয়েই যাতায়াত হাতিদের । এলিফ্যান্ট করিডরের এতটা কাছে জনবসতির কারণে প্রভাব পড়ে ওই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রে।

রিসর্ট তৈরি হওয়ার পর ওই অঞ্চলে ক্রমাগত ফলত, মানুষের ভয়ে হাতিরাও নিজেদের চলাচলের রাস্তা ক্রমাগত বদলে ফেলছে । ক্ষতি হচ্ছে জঙ্গলের। এই বিষয়টিতে নজরে আসতেই ২০১১ সালে মাদ্রাজ হাইকোর্টে দায়ের হয় মামলা । তবে মাদ্রাজ হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে জমা পড়ে ৩২টি আপীল। মিঠুন চক্রবর্তী নিজের আবেদনে আদালতকে জানিয়েছিলেন, তাঁর রিসর্ট থেকে ওই এলাকার বহু আদিবাসী মানুষ নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করেন । রিসর্ট ভাঙা পড়লে তারা রোজগার হারাবেন । একইসঙ্গে ওখানে মানুষের জনসমাগমের কারণে চোরাশিকারদের হাত থেকেও হাতিদের বাঁচানো সম্ভব হয়েছে । তাই আদালতে রিসর্টটি না ভাঙার আবেদন রেখেছিলেন অভিনেতা ।

কিন্তু পরবর্তী সময়তে সেই সমস্ত আপিল খারিজ করে মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখে।ওই অঞ্চলকে ২০১০ সালের অগাস্ট মাসে এলিফ্যান্ট করিডর বা হাতিদের চলাফেরার অঞ্চল বলে চিহ্নিত করে তামিলনাড়ু সরকার। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে ও হাতিদের বাঁচাতে ওই অঞ্চলে আদিবাসীদের বাড়ি ছাড়া বাকি রিসর্ট, হোটেল সহ মোট ৮২১টি বিল্ডিং ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট ।আদালত বলে, হাতিরা অত্যন্ত ভদ্র একটি প্রাণী তাই মানুষেরও ভদ্রতাস্বরূপ তাদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়া উচিত।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: