Big Story

রাজনীতির রংবদল, দলবদলুদের ঘরে ফেরার জয়গান

হেভিওয়েট নেতাদের হঠাৎ বেসুরো হওয়ায় চমকেছেন অনেকেই

মধুরিমা সেনগুপ্ত: এঁদের মধ্যে কেউ কেউ দলে থেকে কাজ করতে পারছিলেন না, আবার কারোর দম আটকে আসছিলো দলে থেকে। ২০২১ এর নির্বাচনের আগেই কয়েকজন তৃণমূল থেকে দলে দলে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। কয়েকজন তারও আগে থেকেই ছিলেন গেরুয়া শিবিরে। কিন্তু সম্প্রতি তাদের দলবদলের চিত্র আবারো চোখে পড়লো। বিজেপি হোক বা তৃণমূল, হেভিওয়েট তারকা প্রার্থী কিন্তু বরাবর ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে নির্বাচনে। সেরকমই এক তারকা প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়, এককালীন দৌড়তে গায়ক, গতকালই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন। ‘বোম্বে কাঁপিয়ে, ভারত নাচিয়ে’ আসা গায়কের এরকম সিদ্ধান্তে যে গেরুয়া শিবির কেঁপে গেছে সে বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি এমনটা মানতে নারাজ। তিনি বাবুলকে রাজনৈতিক পর্যটক বলে কটাক্ষ করেছেন। কিছুদিন আগেই মুকুল রায় সহ আরো কয়েকজন নেতা আর তারপরেই গতকাল বাবুল; বিজেপির হেভিওয়েট নেতাদের এই বেসুরো হওয়ায় চমকেছেন অনেকেই।

২০১৪ তে প্রথমবার মোদির হাত ধরে রাজনীতিতে নামেন বাবুল সুপ্রিয়। তার আগে গায়ক হিসাবে তিনি দেশে বিদেশে অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। কিন্তু রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর গায়ক বাবুলকে আর পাওয়া যায় না। পরবর্তীকালে আসানসোল থেকে ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে জিতে পরিবেশ, জঙ্গল এবং জলবায়ু মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হন বাবুল সুপ্রিয়। বিভিন্ন সময় এক্টিভ ভাবে দলের প্রচারে নেমেছেন তিনি। ২০২১ এর নির্বাচনে বাবুল টালিগঞ্জ আসন থেকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ান এবং পরাজিত হন। এরপরেই ৭ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন বাবুল সুপ্রিয়। এমনকি ৩১ জুলাই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মাধ্যমে বাবুল সুপ্রিয় রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস গ্রহণের ঘোষণা করেন। প্রথমদিকে সেই পোস্টটিতে,‘অন্য দলে যোগ দেব না’ লিখলেও পরে পোস্টের ওই অংশটি মুছে দেন তিনি। তখন থেকেই চাপা গুঞ্জন শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। রাজনৈতিকদের একাংশের মতে মাঝ রাস্তায় ভিক্টোরিয়ায় গাড়ি থামিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ঝাল মুড়ি এবং ফুচকা খাওয়ান বাবুল সুপ্রিয়কে সেই ঝালমুড়ির ঝাঁঝই এখন হরে হরে টের পাচ্ছে বিজেপি।

উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরেই বিজেপি থেকে যে স্টার ক্যাম্পেনারের তালিকা প্রকাশ করা হয় তাতে বাবুল সুপ্রিয়র নাম ছিল। কিন্তু ঘনিষ্ট মহলে বাবুল জানান যে তাকে না জিজ্ঞাসা করেই তার নাম তালিকায় দেয়া হয়েছে, এবং তিনি এও জানান যে তিনি বিজেপির হয়ে প্রচারে বেরোবেন না। আর তারপরেই গতকাল অভিষেকের হাত ধরে জোড়াফুলে বাবুল। দলবদলুদের আদর্শগত বিষয় নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন উঠে এসেছে। রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস গ্রহণের নামে তৃণমূলে যোগদান, বাবুলের শেষ থেকে শুরু। অর্থাৎ বিজেপিতে মন্ত্রীপদ ছেড়ে তৃণমূলে কর্মজীবন শুরু। দলবদলুদের অধিকাংশের একটাই দাবি তারা মানুষের জন্য কাজ করতে চান, কিন্তু দলে থেকে করতে পারছিলেন না। এখন এটাই দেখার গায়কের বেসুরো হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য ঠিক কতটা ভালো। উত্তর দেবে সময়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: