Big Story

হরিদেবপুরের এলাকায় মোটরবাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মৃত চালক

চালক অতিরিক্ত মাত্রায় গাড়ি চালানোর ফলে এমন দুর্ঘটনা

বনিতা রায় : গতকাল মধ্যরাতে হরিদেবপুর থানা এলাকার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু রোডে বাতিস্তম্ভে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারা একটি মোটরবাইক। ঘটনাস্থল থেকে কপাল ফেটে চৌচির, মাথার তালু দুমড়ে যাওয়া, মাথার পিছনের অংশও ভিতরে ঢুকে যাওয়া, সেই রক্তে ভেসে যাচ্ছে গোটা মুখ এমন অবস্তাতেই মোটরবাইক চালকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতের নাম শ্যামল দাস।ওই মোটরবাইকের অন্য এক আরোহী আহত হন। তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার হয় এবং প্রাথমিকভাবে চিকিত্‍সার পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শ্যামলের বাড়ি হরিদেবপুর থানার কেওড়াপুকুর রথগলি এলাকায়। তিনি পেশায় অ্যাম্বুল্যান্সের চালক। বছর দুয়েক আগে বিয়ে করেন শ্যামলবাবু এবং বছর দেড়েকের একটি মেয়ে রয়েছে তার। বাবা-মা, দাদা-বৌদির সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন। মৃতের দাদা শ্যামসুন্দর দাস জানান,
পাড়ার মোড়েই আড্ডা দিচ্ছিলেন শ্যামল শুক্রবার রাতে। নিজের মোটরবাইক নিয়ে রাত ১২টা নাগাদ তার বন্ধু বছর ছাব্বিশের কার্তিক নস্করের সঙ্গে ঘুরতে বার হন। পুলিশ সূত্রে খবর, মোটরবাইকের চালক ও যাত্রী দুজনরের কারোর মাথাতেই হেলমেট ছিল না, পাশাপাশি তারা দু’জনেই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। মোটরবাইকের চালক অতিরিক্ত মাত্রায় গাড়ি চালানোর ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাতিস্তম্ভে সরাসরি ধাক্কা মারে, ফলে সরাসরি তাঁর মাথা ধাক্কা খায় বাতিস্তম্ভে।

ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানান, ”বাইকটি এত জোরে চলছিল যে, ধাক্কা লাগায় বাতিস্তম্ভটিও দুমড়ে যায়।” পুলিশ মোটরবাইকের চালক ও যাত্রী দুজনকেই বাঘা যতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে শ্যামলবাবুকে মৃত ঘোষণা করে এবং অন্য জনকে পাঠানো হয় বেসরকারি হাসপাতালে। শনিবার সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দেড় বছরের মেয়ে সায়ন্তিকাকে আগলে কেঁদে চলেছেন শ্যামলবাবুর স্ত্রী শিল্পা দাস ঘটনার পর থাকেই। অস্ফুট স্বরে শুধু বলে যাচ্ছে, ”বার বার বলত দায়িত্বশীল চালক না হলে অ্যাম্বুল্যান্স চালানো যায় না। গাড়ি চালানোর আগে কখনও নেশা করত না। মোটরবাইকে বসে সেই সব দায়িত্বই কি ভুলে গেল?”

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: