West Bengal

শহীদ পরিবারেরা রয়েছেন ‘দাদার পাশেই’

শুভেন্দুর পাশে শহীদদের পরিবার, তবে কি রাজনীতির মানচিত্রে নন্দীগ্রাম ফের আনবে বদল?

মধুরিমা সেনগুপ্ত: বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সভা ছিল যার মূল বক্তা ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। সেই সভায় সমস্ত শহিদ পরিবারের সদস্যরা হাজির ছিলেন।তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কারোর মা, কারোর বাবা, কারোর ভাই। এদিন তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, ‘২০০৭ সাল থেকে দাদাই ছিলেন আমাদের পাশে। আপদে-বিপদে দাদাই ছুটে এসেছেন বারবার। তাই তাঁর সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকব।’ এক শহিদের বাবাকে এও বলতে শোনা যায়, ‘আমার ছেলে ওই আন্দোলনে শহিদ হয়েছিল। ওর মায়ের চিকিত্‍সা করতে প্রতি মাসে ১০-১২ হাজার টাকা লাগে। শুভেন্দুবাবুই সেই খরচ বহন করেন। ওনাকে ছেড়ে যেতে পারব না।’

শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছাড়ার আগে রীতিমতো তর্ক শুরু হয়েছিল যে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রকৃত নেতা কে ছিলেন? বিভিন্ন বিরোধী পক্ষের নেতারাও একবাক্যে শুভেন্দুর অবদানের কথা স্বীকার করলেও আপত্তি করেছিল একমাত্র তৃণমূল। গতকাল নন্দীগ্রামে সভা করে তৃণমূল রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিও বলেছিলেন, ‘নন্দীগ্রামের আন্দোলন ছিল সেখানকার মানুষের আন্দোলন। আর নেত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেউ কেউ মনে করেন নন্দীগ্রামের আন্দোলন বুঝি তাঁর ব্যক্তিগত। কিন্তু তা নয়।’ এই এতো তর্ক-বিতর্ক এর মাঝে সবার একটাই বিষয়ে কৌতূহল ছিল যে নন্দিগ্রামের মানুষেরা কি ভাবছেন।

শহিদ পরিবারের সদস্যরা সকলেই হাজির ছিলেন মঞ্চে। শুভেন্দু অনুগামীরা বলছেন, এতেই প্রমাণ হয়ে গেল, কে আসলে নেতা ছিলেন। সারা বছরই শুভেন্দু নন্দীগ্রামের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার দায়িত্ব বহন করা থেকে দুর্গাপুজো কিংবা ইদে নতুন পোশাক পৌঁছে দেওয়া, সবটাই তিনি বিগত কয়েকবছর ধরে করে চলেছেন। মুকুল রায়ও সেই প্রসঙ্গে বলেন, ‘শুভেন্দু ছিলেন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কাণ্ডারী। এটা যদি স্বীকার না করি তাহলে সত্যের অপলাপ হবে।’ তাঁর কথায়, ‘নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পরে তা ধরে রাখার কাজও শুভেন্দু করেছেন।’ অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে নন্দীগ্রামের অধিকাংশ পরিবার শুভেন্দু অধিকারীর পাশেই দাঁড়াবেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: