Health

প্রকাশিত হল কোভিড ভ্যাকসিনের দাম, সাধারণ মানুষ রইল চিন্তায়

এই দুর্মূল্যের বাজারে কি সামর্থে কুলোবে ভ্যাকসিন? জনসাধারণের জন্য কি ব্যবস্থা গ্রহণ হবে?

মধুরিমা সেনগুপ্ত : নতুন বছর শুরুর সাথে সাথেই সবাই অধিক আগ্রহে বসে আছে ভ্যাক্সিন বেরোনোর জন্য।ইতিমধ্যে বাজারে বিভিন্ন ভ্যাক্সিনের ট্রায়ালও শুরু হয়েছে। কিছু ভ্যাকসিন ইতিমধ্যেই শেষ ট্রায়াল অবধি পৌঁছেছে। ২০২১ এর শুরুতেই পুণের ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থা সিরাম ইন্সটিটিউট ভারতের বাজারে তাদের তৈরি ভ্যাকসিন (Covid Vaccine) নিয়ে আসার ব্যাপারে আশার কথা শুনিয়েছিল। কিন্তু সেই ভ্যাকসিনের দাম কত ধার্য হবে তা নিয়ে প্রশ্ন সকলেরই মনে। এই বহু প্রতীক্ষিত টিকার দাম কত হবে তা নিয়ে এদিন সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলেন সিরাম প্রধান আদার পুণাওয়ালা।

তিনি বলেন অতি দ্রুত বাজারে আসতে চলেছে তাদের তৈরী ভ্যাকসিন। সেই প্রসঙ্গে তিনি জানান অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিনের কত দাম ধার্য হতে চলেছে ভারতে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে কেন্দ্র সরকার ২০০ টাকার বিনিময়ে সিরাম ইন্সটিটিউটের কাছ থেকে ভ্যাকসিনের এক একটি ডোজ কিনবে। তবে সরকারের জন্য ধার্য এই দাম বাকি সকলের জন্য প্রযোজ্য হবে না। তিনি আরো জানান যে ব্যক্তিগত ভাবে যাঁরা সিরাম ইন্সটিটিউটের কাছ থেকে ভ্যাকসিন কিনতে চাইবেন তাদের দিতে হবে অধিক মূল্য। ১০০০ টাকার বিনিময়ে ভ্যাকসিনের এক একটি ডোজ ব্যক্তিগত উদ্যোগে কেনা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জানা যাচ্ছে, সিরাম নির্মিত ভ্যাকসিনের প্রথম ১০ কোটি ডোজ ‘বিশেষ মূল্যে’ কেন্দ্র সরকারের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে যার প্রতি ডোজের দাম হবে ২০০ টাকা। কিন্তু এরপর থেকে ভ্যাকসিনের দাম বেড়ে ১০০০ টাকার বিনিময়ে প্রাইভেট মার্কেটে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন সিরাম কর্ণধার আদার পুণাওয়ালা। কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকার গুলির সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা জানিয়েছে সিরাম। কিন্তু প্রায় ১৩৮ কোটির এই দেশে ঠিক কতজন সেই ১০০০ টাকার টিকা গ্রহণের সামর্থ রাখেন সেটাই আসল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডাক্তার, নার্স, সাফাইকর্মী,সামরিক বাহিনী, কোভিড আক্রান্ত মানুষদের টিকা দেয়ার পর আর কতজন সেই ২০০ টাকার টিকা পাবে এবং এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কতজনই বা ১০০০টাকা বরাদ্দ করতে পারবে টিকার জন্য তা সত্যিই বড়ো প্রশ্ন। নিম্নবিত্ত দিন আনা দিন খাওয়া সাধারণ যাদের পক্ষে এতো দাম দিয়ে টিকা নেয়া অসম্ভব তাদের জন্য কি আদৌ কোনো আলাদা কথা ভাবা হবে? প্রশ্ন তুলছে প্রত্যেকে। তাদেরই মধ্যে একজন পল্টু সরকার নামক এক চা বিক্রেতা বলেন ,”ভ্যাকসিন আসছে ভালো কথা। কিন্তু লকডাউন এর পর যেহারে ক্ষতি হচ্ছে, তার মধ্যে এই তো বাজারের অবস্থা। এতো টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কেনা আমাদের পক্ষে অসম্ভব।” একই বক্তব্য হাজরাবাসী গৃহবধূ শ্রীলা বিশ্বাস এর মুখেও। তিনি বলেন,”সেই কবে থেকে শুনছি ভ্যাকসিন আসছে ভ্যাকসিন আসছে। যাও বা এলো তও এরকম দাম শুনছি। আমাদের মতো সাধারণ মানুষেরা কোথায় যাবে বলুন তো!”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লন্ডনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি নির্মিত ভ্যাকসিন অ্যাস্ট্রাজেনিকা ভারতে প্রস্তুতের বরাত পেয়েছে পুণের সিরাম ইন্সটিটিউট। দীর্ঘ কাল ধরেই ভ্যাকসিন প্রস্তুতির কাজ চলছিল এবং দেশের একাধিক জায়গায় চলছিল ভ্যাকসিনের ট্রায়ালও। রবিবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রক সিরাম নির্মিত ভ্যাকসিনকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা করেছে। তবে সরকার ছাড়া এখনি সাধারণের জন্য ভ্যাকসিন বিক্রি করবে না বলে জানিয়েছে সিরাম ইন্সটিটিউট।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: